০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি এশিয়ার খাদ্যভাণ্ডারে ধাক্কা: জ্বালানি ও সার সংকটে বিপর্যস্ত মেকং ডেল্টা নেতানিয়াহুর লক্ষ্য এখনও অসম্পূর্ণ, যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কমেনি মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশল, বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা চীনের ছোট শহরে ফাস্টফুড যুদ্ধ: ম্যাকডোনাল্ডস-কেএফসির নতুন দৌড় কোথায় গিয়ে থামবে এআইয়ের নতুন আতঙ্ক: ‘মিথোস’ কি সাইবার বিশ্বের ভারসাম্য বদলে দেবে? ইরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতির মাঝেও সামরিক শক্তির উত্থান: যুদ্ধেই লাভবান গার্ড বাহিনী শেয়ারবাজারে সূচক বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ার পতনে, বিনিয়োগকারীদের মাঝে মিশ্র সংকেত খুলনায় তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গভীর রাতে রক্তাক্ত ঘটনায় আতঙ্ক ফিলিপাইন কেন প্রবাসী আয় থেকে সরে গিয়ে প্রবাসী সম্পৃক্ততায় জোর দিচ্ছে

ইসলামাবাদ বৈঠকে কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

২১ ঘণ্টার টানা আলোচনা সত্ত্বেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, এই অমীমাংসিত আলোচনাকে তেহরানের জন্য “খারাপ খবর” বলে উল্লেখ করেছেন।

বৈঠকের আগে যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে দুই দেশই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে শান্তি চুক্তি থেকে লেবাননকে বাদ দেওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা এই যুদ্ধবিরতিকে আরও নাজুক করে তোলে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এবং ইরানের তেহরান থেকে প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু বেকার এবং এশীয় বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাইকেল ভ্যান্স।

ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সর্বোচ্চ জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি এবং সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ফল কী হতে পারে, বাধাই–বা কী | প্রথম আলো

কেন ভেঙে গেল আলোচনা?

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তার ভাষায়, এসব শর্তের কিছু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা।

যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রধান বিরোধের বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।

ভ্যান্স বলেন, “আমরা স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং দ্রুত এমন অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা তৈরির পথেও এগোবে না।”

তিনি আরও জানান, তাদের পক্ষ থেকে একটি সহজ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল তাদের “চূড়ান্ত প্রস্তাব”। পূর্ববর্তী সাক্ষাৎকারগুলোতেও ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা।

After Over 20 Hours Of Talks, The US And Iran Fail To Reach An Agreement In  Islamabad | LIVE BLOG - i24NEWS

ইসলামাবাদ বৈঠকেও যুক্তরাষ্ট্র একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবি “অযৌক্তিক”।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, “ইরানি প্রতিনিধিদল ২১ ঘণ্টা ধরে নিরবচ্ছিন্ন ও নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়েছে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবির কারণে আলোচনা অগ্রসর হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে যায়।”

তেহরানের এই বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ দাবি করা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ছিল “যথেষ্ট নমনীয় ও সমন্বয়যোগ্য”।

চুক্তির জন্য ইরানের দাবি কী?

আলোচনা শুরুর আগে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতির জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ, আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি ছিল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির সম্পূর্ণ অবসান।

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি

ইসলামাবাদ বৈঠকে কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

১২:১৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

২১ ঘণ্টার টানা আলোচনা সত্ত্বেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, এই অমীমাংসিত আলোচনাকে তেহরানের জন্য “খারাপ খবর” বলে উল্লেখ করেছেন।

বৈঠকের আগে যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে দুই দেশই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে শান্তি চুক্তি থেকে লেবাননকে বাদ দেওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা এই যুদ্ধবিরতিকে আরও নাজুক করে তোলে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এবং ইরানের তেহরান থেকে প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু বেকার এবং এশীয় বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাইকেল ভ্যান্স।

ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সর্বোচ্চ জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি এবং সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ফল কী হতে পারে, বাধাই–বা কী | প্রথম আলো

কেন ভেঙে গেল আলোচনা?

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তার ভাষায়, এসব শর্তের কিছু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা।

যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রধান বিরোধের বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।

ভ্যান্স বলেন, “আমরা স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং দ্রুত এমন অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা তৈরির পথেও এগোবে না।”

তিনি আরও জানান, তাদের পক্ষ থেকে একটি সহজ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল তাদের “চূড়ান্ত প্রস্তাব”। পূর্ববর্তী সাক্ষাৎকারগুলোতেও ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা।

After Over 20 Hours Of Talks, The US And Iran Fail To Reach An Agreement In  Islamabad | LIVE BLOG - i24NEWS

ইসলামাবাদ বৈঠকেও যুক্তরাষ্ট্র একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবি “অযৌক্তিক”।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, “ইরানি প্রতিনিধিদল ২১ ঘণ্টা ধরে নিরবচ্ছিন্ন ও নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়েছে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবির কারণে আলোচনা অগ্রসর হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে যায়।”

তেহরানের এই বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ দাবি করা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ছিল “যথেষ্ট নমনীয় ও সমন্বয়যোগ্য”।

চুক্তির জন্য ইরানের দাবি কী?

আলোচনা শুরুর আগে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতির জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ, আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি ছিল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির সম্পূর্ণ অবসান।