পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে। অবসর গ্রহণের মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল।
তৃণমূলের অভিযোগ, মনোজ আগরওয়াল পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং বিরোধী দলকে সুবিধা দিতে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। দলটির দাবি, তিনি নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুরনো মামলার প্রসঙ্গ টেনে বিতর্ক
তৃণমূল নেতারা মনোজ আগরওয়ালের অতীত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ২০০৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির অভিযোগে তদন্ত হয়েছিল। দিল্লিতে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পত্তির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।
তবে ২০১৮ সালে আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়। যদিও সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। এই প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল নেতারা তাঁর নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগের জবাবে আগরওয়াল
সমালোচনার জবাবে মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আদালতের রায়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তি বৈধ এবং বহু বছর ধরে নিয়মিত কর প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁদের সমস্ত আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছ এবং আইনের মধ্যে থেকেই পরিচালিত হয়েছে।

প্রশাসনিক জীবনের শুরু ও উত্থান
মনোজ আগরওয়াল ১৯৯০ সালের ব্যাচের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন তিনি। উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেন। ২০১৭ সালে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের প্রধান সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। তবে পরে রেশন ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশন তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ দেয়। সেই সময় তাঁর নিয়োগ নিয়েও কিছু প্রশ্ন উঠেছিল, কারণ প্রথম প্রস্তাবিত তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা চাওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনিক মহলে তাঁকে একজন সৎ ও দৃঢ় কর্মকর্তা হিসেবে দেখা হয়, যিনি চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন না। নির্বাচন কমিশনের মতে, আসন্ন নির্বাচন পরিচালনার জন্য তাঁর মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তার প্রয়োজন ছিল।
অবসরের প্রাক্কালে বিতর্ক
নির্বাচনের পরপরই তাঁর অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর নিজের অবস্থান—সব মিলিয়ে তিনি এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















