১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ক্যাটওয়াক শেখার নতুন ট্রেন্ড: হাঁটার ভঙ্গিতেই বদলে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাস বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝেও শেয়ারবাজারে চমক, বিনিয়োগকারীদের আয়ে বড় ধাক্কা নয় বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডে বিল ফাঁকিতে গেট বন্ধ রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ — দুই বছর পর তদন্তে চমক ২১ এপ্রিল শুরু এসএসসি পরীক্ষা — রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৭৭ হাজার পরীক্ষার্থী প্রস্তুত অ্যান্টার্কটিকায় বিপদের সংকেত: জলবায়ু পরিবর্তনে সম্রাট পেঙ্গুইনসহ বন্যপ্রাণী ঝুঁকিতে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যৌথ বিবৃতি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ১০ জনের মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায়, হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পদ্মা নদী থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার রংপুরে জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষকের মৃত্যু ফার্নেস অয়েলে লিটারে ২৪.৫৯ টাকা বৃদ্ধি, শিগগিরই বাড়তে পারে বিদ্যুতের খরচ

মার্জিন রুলস মানতে আরও তিন মাস সময় চাইল ব্রোকাররা

দেশের পুঁজিবাজারে নতুন মার্জিন রুলস কার্যকর করতে নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্রোকাররা। তারা বলছে, বিদ্যমান সময়ের মধ্যে সব শর্ত পূরণ করা কঠিন হওয়ায় আরও তিন মাস সময় প্রয়োজন।

সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, মার্জিন রুলস ২০২৫ বাস্তবায়নের সময়সীমা তিন মাস বাড়ানো জরুরি। চিঠিটি গত ৭ এপ্রিল পাঠানো হয় এবং এতে বলা হয়, বর্তমান সময়সীমা ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত থাকলেও তা যথেষ্ট নয়।

নতুন রুলসের লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ
২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মগুলোর লক্ষ্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনা। তবে বাস্তবে এগুলো কার্যকর করতে গিয়ে নানা অপারেশনাল, প্রযুক্তিগত ও বাজারসংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়ছে ব্রোকারেজ হাউসগুলো।

নীতিমালা প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের জটিলতা
ডিবিএর মতে, মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত রক্ষণশীল নীতিমালা তৈরি ও তা বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং সিস্টেমে সংযোজন প্রয়োজন। দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো এই কাজ শেষ করতে পারেনি।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন
ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কাঠামোতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার। পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও সিস্টেম আপগ্রেড জরুরি। তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়ন করলে কার্যক্রমে ভুল বা সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিবিএ।

নন-মার্জিনেবল শেয়ারের চাপ
বর্তমানে অনেক মার্জিন ঋণ হিসাবেই এমন শেয়ার রয়েছে, যা নতুন নিয়ম অনুযায়ী মার্জিনযোগ্য নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সমন্বয় করতে বাধ্য হলে বড় পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব
ডিবিএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি দামের ধাক্কা—আগেই বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এই অবস্থায় নতুন নিয়ম দ্রুত কার্যকর করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব
সব দিক বিবেচনায় ডিবিএ ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এতে করে ব্রোকাররা ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্পন্ন করতে পারবে এবং বিদ্যমান গ্রাহকদের সেবা বিঘ্নিত হবে না।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান
সংগঠনটি মনে করে, সময় বাড়ানো হলে মার্জিন রুলস ২০২৫ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে। এজন্য তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদয় বিবেচনা ও অনুমোদন চেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাটওয়াক শেখার নতুন ট্রেন্ড: হাঁটার ভঙ্গিতেই বদলে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাস

মার্জিন রুলস মানতে আরও তিন মাস সময় চাইল ব্রোকাররা

০৮:১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের পুঁজিবাজারে নতুন মার্জিন রুলস কার্যকর করতে নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্রোকাররা। তারা বলছে, বিদ্যমান সময়ের মধ্যে সব শর্ত পূরণ করা কঠিন হওয়ায় আরও তিন মাস সময় প্রয়োজন।

সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, মার্জিন রুলস ২০২৫ বাস্তবায়নের সময়সীমা তিন মাস বাড়ানো জরুরি। চিঠিটি গত ৭ এপ্রিল পাঠানো হয় এবং এতে বলা হয়, বর্তমান সময়সীমা ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত থাকলেও তা যথেষ্ট নয়।

নতুন রুলসের লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ
২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মগুলোর লক্ষ্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনা। তবে বাস্তবে এগুলো কার্যকর করতে গিয়ে নানা অপারেশনাল, প্রযুক্তিগত ও বাজারসংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়ছে ব্রোকারেজ হাউসগুলো।

নীতিমালা প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের জটিলতা
ডিবিএর মতে, মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত রক্ষণশীল নীতিমালা তৈরি ও তা বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং সিস্টেমে সংযোজন প্রয়োজন। দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো এই কাজ শেষ করতে পারেনি।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন
ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কাঠামোতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার। পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও সিস্টেম আপগ্রেড জরুরি। তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়ন করলে কার্যক্রমে ভুল বা সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিবিএ।

নন-মার্জিনেবল শেয়ারের চাপ
বর্তমানে অনেক মার্জিন ঋণ হিসাবেই এমন শেয়ার রয়েছে, যা নতুন নিয়ম অনুযায়ী মার্জিনযোগ্য নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সমন্বয় করতে বাধ্য হলে বড় পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব
ডিবিএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি দামের ধাক্কা—আগেই বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এই অবস্থায় নতুন নিয়ম দ্রুত কার্যকর করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব
সব দিক বিবেচনায় ডিবিএ ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এতে করে ব্রোকাররা ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্পন্ন করতে পারবে এবং বিদ্যমান গ্রাহকদের সেবা বিঘ্নিত হবে না।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান
সংগঠনটি মনে করে, সময় বাড়ানো হলে মার্জিন রুলস ২০২৫ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে। এজন্য তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদয় বিবেচনা ও অনুমোদন চেয়েছে।