০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদ ঘিরে বিশাল রিং নির্মাণের স্বপ্ন: জাপানি কোম্পানির সাহসী মহাকাশ পরিকল্পনা ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে পেট্রোডলার ব্যবস্থা হাম আতঙ্কে দেশে নতুন ৭ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ, নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে সুপার এল নিনো সতর্কতা: ১৯৫০-এর পর মাত্র পাঁচবার, আবার কি আসছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি? হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক নন: দিল্লিতে বার্তা দিলেন উপদেষ্টা হুমায়ুন লক্ষ্মীপুরে ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে ভবন থেকে ঝাঁপ, সাবেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: মামলা করতে রাজি নয় পরিবার, পুলিশের অনুরোধেও অনড় অবস্থান হাম আতঙ্কে দেশে নতুন ৭ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ ফল ব্যবসায়ীর, আহত ২৫

ব্রিটেনে ‘ধর্মে ফেরার ঢেউ’ আসলে ভুল ধারণা, গবেষণার তথ্যেই ধরা পড়ল বাস্তবতা

ব্রিটেনে খ্রিস্টধর্মে নতুন করে আগ্রহ বাড়ছে—এমন একটি ধারণা গত এক বছরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে গির্জায় যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই ধারণা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষণাই এখন স্বীকার করছে, এই তথ্য ছিল ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।

ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ‘ধর্মীয় জাগরণ’

গত বছর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্রিটেনে নীরবভাবে খ্রিস্টধর্মের পুনর্জাগরণ ঘটছে। সেখানে দাবি করা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গির্জায় মাসিক উপস্থিতি ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং তরুণদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই তথ্য দ্রুতই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই এটিকে বড় সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানায়, গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্য ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং অনেক উত্তরই ছিল ভুয়া বা অবিশ্বস্ত।

Why surveys showing Christian revival in Britain may be misleading | Pew  Research Center

 

 

জরিপ পদ্ধতির বড় ত্রুটি

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতিই ছিল সমস্যার মূল কারণ। এখানে এলোমেলোভাবে নমুনা নির্বাচন না করে ‘অপ্ট-ইন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে যে কেউ ইচ্ছামতো অনলাইনে অংশ নিতে পারে।

এই ধরনের জরিপে অনেকেই দ্রুত শেষ করার জন্য এলোমেলো উত্তর দেন, আবার প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া অংশগ্রহণও সম্ভব হয়। ফলে ফলাফল বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।

পর্যালোচনার পর জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাও স্বীকার করে, প্রতারণামূলক উত্তরগুলো ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

বাস্তবতা: ধর্মীয় অংশগ্রহণ কমছেই

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য জরিপে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে খ্রিস্টধর্মের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কমছে।

২০১৮ সালে যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ১২ শতাংশ মাসে অন্তত একবার গির্জায় যেতেন, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৯ শতাংশে। একইভাবে, নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যাও কমে এসেছে।

অনেক গির্জা বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু স্থান রূপান্তরিত হয়েছে বাড়ি বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত স্থানে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, যেমন শিশুদের বাপ্তিস্ম, আগের তুলনায় কমে গেছে।

Turn To Him Now | Not long ago, this was normal. Christianity has deeply  influenced the United Kingdom's history and culture since its arrival in  Roman... | Instagram

তবুও কিছু সীমিত পরিবর্তন

তবে পুরো চিত্র একেবারে একরৈখিক নয়। কিছু গির্জায় অংশগ্রহণ বেড়েছে, বিশেষ করে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণও বেড়েছে।

এছাড়া, তরুণদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য এবং মানসিক সংযোগ খুঁজতে ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আগ্রহকে ‘পুনর্জাগরণ’ বলা ঠিক নয়, বরং এটি একটি সীমিত ও বিচ্ছিন্ন প্রবণতা।

রাজনীতি ও সমাজে প্রভাব

এই ভুল তথ্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছিল। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এটিকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে।

তবে গবেষণা প্রত্যাহারের পর স্পষ্ট হয়েছে, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। ধর্মীয় আগ্রহ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, তা এখনও বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

Why Britain's churches are disappearing

 

আধ্যাত্মিক আগ্রহ বাড়লেও ‘জাগরণ’ নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে আধ্যাত্মিক প্রশ্ন নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সেটি সরাসরি গির্জায় অংশগ্রহণ বা ধর্মীয় পুনর্জাগরণের সমান নয়।

ধর্ম নিয়ে নতুন করে ভাবনা, বিকল্প বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধান—এসবই এখনকার প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

মোটের ওপর, ব্রিটেনে খ্রিস্টধর্মের পুনর্জাগরণের ধারণা যতটা প্রচারিত হয়েছে, বাস্তবে তা ততটা দৃঢ় নয়—বরং এটি ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়ানো একটি বিভ্রান্তিকর চিত্র।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদ ঘিরে বিশাল রিং নির্মাণের স্বপ্ন: জাপানি কোম্পানির সাহসী মহাকাশ পরিকল্পনা

ব্রিটেনে ‘ধর্মে ফেরার ঢেউ’ আসলে ভুল ধারণা, গবেষণার তথ্যেই ধরা পড়ল বাস্তবতা

০৫:২১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ব্রিটেনে খ্রিস্টধর্মে নতুন করে আগ্রহ বাড়ছে—এমন একটি ধারণা গত এক বছরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে গির্জায় যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই ধারণা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষণাই এখন স্বীকার করছে, এই তথ্য ছিল ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।

ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ‘ধর্মীয় জাগরণ’

গত বছর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্রিটেনে নীরবভাবে খ্রিস্টধর্মের পুনর্জাগরণ ঘটছে। সেখানে দাবি করা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গির্জায় মাসিক উপস্থিতি ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং তরুণদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই তথ্য দ্রুতই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই এটিকে বড় সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানায়, গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্য ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং অনেক উত্তরই ছিল ভুয়া বা অবিশ্বস্ত।

Why surveys showing Christian revival in Britain may be misleading | Pew  Research Center

 

 

জরিপ পদ্ধতির বড় ত্রুটি

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতিই ছিল সমস্যার মূল কারণ। এখানে এলোমেলোভাবে নমুনা নির্বাচন না করে ‘অপ্ট-ইন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে যে কেউ ইচ্ছামতো অনলাইনে অংশ নিতে পারে।

এই ধরনের জরিপে অনেকেই দ্রুত শেষ করার জন্য এলোমেলো উত্তর দেন, আবার প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া অংশগ্রহণও সম্ভব হয়। ফলে ফলাফল বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।

পর্যালোচনার পর জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাও স্বীকার করে, প্রতারণামূলক উত্তরগুলো ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

বাস্তবতা: ধর্মীয় অংশগ্রহণ কমছেই

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য জরিপে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে খ্রিস্টধর্মের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কমছে।

২০১৮ সালে যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ১২ শতাংশ মাসে অন্তত একবার গির্জায় যেতেন, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৯ শতাংশে। একইভাবে, নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যাও কমে এসেছে।

অনেক গির্জা বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু স্থান রূপান্তরিত হয়েছে বাড়ি বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত স্থানে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, যেমন শিশুদের বাপ্তিস্ম, আগের তুলনায় কমে গেছে।

Turn To Him Now | Not long ago, this was normal. Christianity has deeply  influenced the United Kingdom's history and culture since its arrival in  Roman... | Instagram

তবুও কিছু সীমিত পরিবর্তন

তবে পুরো চিত্র একেবারে একরৈখিক নয়। কিছু গির্জায় অংশগ্রহণ বেড়েছে, বিশেষ করে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণও বেড়েছে।

এছাড়া, তরুণদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য এবং মানসিক সংযোগ খুঁজতে ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আগ্রহকে ‘পুনর্জাগরণ’ বলা ঠিক নয়, বরং এটি একটি সীমিত ও বিচ্ছিন্ন প্রবণতা।

রাজনীতি ও সমাজে প্রভাব

এই ভুল তথ্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছিল। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এটিকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে।

তবে গবেষণা প্রত্যাহারের পর স্পষ্ট হয়েছে, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। ধর্মীয় আগ্রহ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, তা এখনও বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

Why Britain's churches are disappearing

 

আধ্যাত্মিক আগ্রহ বাড়লেও ‘জাগরণ’ নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে আধ্যাত্মিক প্রশ্ন নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সেটি সরাসরি গির্জায় অংশগ্রহণ বা ধর্মীয় পুনর্জাগরণের সমান নয়।

ধর্ম নিয়ে নতুন করে ভাবনা, বিকল্প বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধান—এসবই এখনকার প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

মোটের ওপর, ব্রিটেনে খ্রিস্টধর্মের পুনর্জাগরণের ধারণা যতটা প্রচারিত হয়েছে, বাস্তবে তা ততটা দৃঢ় নয়—বরং এটি ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়ানো একটি বিভ্রান্তিকর চিত্র।