০৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
আগুনের বিরুদ্ধে ইউরোপের নতুন ‘নীরব সেনা’—বন রক্ষায় গাধার অভিনব ব্যবহার হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪৪ ‘তেলাপোকা’ থেকে তুমুল গণজাগরণ: তিন তরুণের হাত ধরে কাঁপল ভারতের ছাত্র আন্দোলন প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতের নতুন আইন: তদন্ত ৬০ দিনে, বিচার তিন মাসে, শাস্তি আরও কঠোর ভূমধ্যসাগরের ঢেউ পেরিয়ে সেউতায় হাজারো মানুষের মরিয়া ছুটে চলা, অভিবাসন সংকটে চাপে স্পেন যুদ্ধের ক্ষত, নেতৃত্বের সংকট এবং ইসরায়েলের নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ রোগনির্ণয়ের যুগে আমরা কি অতিরিক্ত লেবেল দিচ্ছি? বাংলাদেশকে আমেরিকা, ভারতসহ অন্যান্য দেশের গড়ে ওঠা চীনের বিকল্প সাপ্লাই চেইন জোট ‘প্যাক্স সিলিকা’য় যোগ দিতে আহ্বান সার্জিও গরের চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি, ক্যাবের তীব্র প্রতিবাদ বেনজীর আহমেদ দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত, ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা: পারিবারিক সূত্র

সুপার এল নিনো সতর্কতা: ১৯৫০-এর পর মাত্র পাঁচবার, আবার কি আসছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি?

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা আবারও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন এক বিরল ও শক্তিশালী জলবায়ু ঘটনাকে ঘিরে—সুপার এল নিনো। ১৯৫০ সালের পর এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচবার এমন শক্তিশালী এল নিনো দেখা গেছে। এবার সেই ধরনের আরেকটি ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তবে যখন এই উষ্ণতা অত্যন্ত বেশি হয়, তখন তাকে বলা হয় ‘সুপার এল নিনো’। এই অবস্থায় বৃষ্টি, খরা, তাপপ্রবাহ—সবকিছুই হয়ে ওঠে অনেক বেশি তীব্র।

কেন এত উদ্বেগ?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুপার এল নিনো সাধারণ এল নিনোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী। অতীতে এই ধরনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়ে বন্যা, আবার কোথাও তীব্র খরায় কৃষি বিপর্যস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার অনেক অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশের মতো দেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যেমন অনিয়মিত বর্ষা, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি বা কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতি।

প্রশান্ত মহাসাগরে 'সুপার এল নিনো' তৈরি হচ্ছে, পৃথিবী জুড়ে আবহাওয়ায় বড়  পরিবর্তনের আশঙ্কা আবহবিদদের

ইতিহাস কী বলছে?

১৯৫০ সালের পর মাত্র পাঁচবার সুপার এল নিনো ঘটেছে, যা এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল করে তুলেছে। প্রতিবারই এর সঙ্গে জড়িত ছিল বড় ধরনের জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনা শুরু হলে তা কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা আগেই বেশি থাকায়, সুপার এল নিনো হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এতে শুধু আবহাওয়াই নয়, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি সরবরাহ এবং অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সতর্ক না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Super El Nino: 'সুপার এল নিনো' ছারখার করতে পারে দেশকে, পুজোর মুখে আবহাওয়ার  খবরে চিন্তার ভাঁজ | লেটেস্ট দেশের খবর - News18 Bengali

আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজন

বিজ্ঞানীরা জোর দিচ্ছেন আগাম প্রস্তুতির ওপর। কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিকল্পনা শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে, যাতে হঠাৎ পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, সুপার এল নিনোর সম্ভাবনা শুধু একটি আবহাওয়া বিষয় নয়—এটি একটি বৈশ্বিক সতর্কবার্তা, যা সময়মতো গুরুত্ব না দিলে বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগুনের বিরুদ্ধে ইউরোপের নতুন ‘নীরব সেনা’—বন রক্ষায় গাধার অভিনব ব্যবহার

সুপার এল নিনো সতর্কতা: ১৯৫০-এর পর মাত্র পাঁচবার, আবার কি আসছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি?

০৭:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা আবারও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন এক বিরল ও শক্তিশালী জলবায়ু ঘটনাকে ঘিরে—সুপার এল নিনো। ১৯৫০ সালের পর এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচবার এমন শক্তিশালী এল নিনো দেখা গেছে। এবার সেই ধরনের আরেকটি ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তবে যখন এই উষ্ণতা অত্যন্ত বেশি হয়, তখন তাকে বলা হয় ‘সুপার এল নিনো’। এই অবস্থায় বৃষ্টি, খরা, তাপপ্রবাহ—সবকিছুই হয়ে ওঠে অনেক বেশি তীব্র।

কেন এত উদ্বেগ?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুপার এল নিনো সাধারণ এল নিনোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী। অতীতে এই ধরনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়ে বন্যা, আবার কোথাও তীব্র খরায় কৃষি বিপর্যস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার অনেক অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশের মতো দেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যেমন অনিয়মিত বর্ষা, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি বা কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতি।

প্রশান্ত মহাসাগরে 'সুপার এল নিনো' তৈরি হচ্ছে, পৃথিবী জুড়ে আবহাওয়ায় বড়  পরিবর্তনের আশঙ্কা আবহবিদদের

ইতিহাস কী বলছে?

১৯৫০ সালের পর মাত্র পাঁচবার সুপার এল নিনো ঘটেছে, যা এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল করে তুলেছে। প্রতিবারই এর সঙ্গে জড়িত ছিল বড় ধরনের জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনা শুরু হলে তা কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা আগেই বেশি থাকায়, সুপার এল নিনো হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এতে শুধু আবহাওয়াই নয়, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি সরবরাহ এবং অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সতর্ক না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Super El Nino: 'সুপার এল নিনো' ছারখার করতে পারে দেশকে, পুজোর মুখে আবহাওয়ার  খবরে চিন্তার ভাঁজ | লেটেস্ট দেশের খবর - News18 Bengali

আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজন

বিজ্ঞানীরা জোর দিচ্ছেন আগাম প্রস্তুতির ওপর। কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিকল্পনা শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে, যাতে হঠাৎ পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, সুপার এল নিনোর সম্ভাবনা শুধু একটি আবহাওয়া বিষয় নয়—এটি একটি বৈশ্বিক সতর্কবার্তা, যা সময়মতো গুরুত্ব না দিলে বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে।