ভারতীয় সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। তবে তাঁর সুরেলা কণ্ঠের জাদু আজও বেঁচে আছে অসংখ্য গানে। হিন্দি গানের পাশাপাশি তেলুগু চলচ্চিত্রেও তিনি রেখে গেছেন স্মরণীয় অবদান, যদিও সংখ্যায় তা ছিল তুলনামূলক কম।
তেলুগু গানে তাঁর পথচলা শুরু হয় আশির দশকের শুরুতে। অল্প কয়েকটি গান গেয়েও তিনি যে গভীর ছাপ রেখে গেছেন, তা আজও তেলুগু সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।
তেলুগু গানে অভিষেক
১৯৮১ সালে ‘পালু নীল্লু’ ছবির “ইদি মৌনগীতম” গান দিয়ে তেলুগু গানে আত্মপ্রকাশ করেন আশা ভোঁসলে। সুরকার সত্যমের সুরে এই গানটি দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায়। ছবিতে এই গানটি চিত্রায়িত হয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়াপ্রদার ওপর, যা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।
স্মরণীয় ক্লাসিক গান
১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চিন্নি কৃষ্ণুডু’ ছবিতে “জীবিতম সপ্ত সাগর গীতম” গানটি তাঁর অন্যতম সেরা তেলুগু পরিবেশনা হিসেবে ধরা হয়। এস. পি. বালাসুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে গাওয়া এই গানটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে চিত্রায়িত হয়েছিল। আর. ডি. বর্মণের সুরে এবং ভেতুরি সুন্দর রামামূর্তির কথায় গানটি হয়ে ওঠে এক অনন্য ক্লাসিক। তেলুগু ভাষা তাঁর মাতৃভাষা না হলেও উচ্চারণ ও আবেগে তিনি ছিলেন নিখুঁত।

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয়তা
১৯৯২ সালে ‘অশ্বমেধম’ ছবিতে তাঁর গাওয়া “সীতাকালাম প্রেমাকু এন্ডাকালাম” গানটি এখনও শ্রোতাদের প্রিয়। একইভাবে ১৯৯৫ সালে ‘প্রেমাকু প্রেমান্তে তেলুসা’ ছবির “জল্লান্দি মধি” গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
এই সময় তিনি আরও কাজ করেন এম. এম. কীরাবাণীর সঙ্গে ‘পবিত্র বন্ধম’ ছবিতে। সেখানে “আইসালাকিদি” গানটি চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে, যেখানে তাঁর উপস্থিতিও দেখানো হয়েছিল।
শেষ গান ও নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা
তেলুগু ভাষায় তাঁর শেষ গান ছিল ‘চান্দামামা’ ছবির “নালো উহালাকু”। সুরকার কে. এম. রাধা কৃষ্ণনের সুরে এই গানটি আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয়। তাঁর মধুর কণ্ঠ এই গানকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
এছাড়া ‘ইরুভার’ ছবির তেলুগু সংস্করণ ‘ইদ্দারু’-তে “ভেন্নেলা” গানেও তিনি কণ্ঠ দেন, যার সুর করেছিলেন এ. আর. রহমান।
শোক ও স্মরণ
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁকে এক অনন্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যাঁর সুরেলা কণ্ঠ বহু প্রজন্মকে মুগ্ধ করে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















