অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে নতুন করে দেখা দিয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। হাজার হাজার ইঁদুর মাঠে নেমে ফসলের বীজ খেয়ে ফেলছে, শস্যক্ষেত ধ্বংস করছে এবং কৃষকদের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকট তৈরি করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক কৃষককে নতুন করে বীজ বপন করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিষটোপ ব্যবহার করে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
রেকর্ড ফলনের পর নতুন সংকট
কৃষকদের মতে, গত বছরের রেকর্ড পরিমাণ শস্য উৎপাদনই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। ফসল কাটার সময় মাঠে ছড়িয়ে থাকা শস্য ইঁদুরের জন্য সহজ খাদ্যের উৎস হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে গ্রীষ্মের বৃষ্টিতে নতুন সবুজ ঘাস ও গাছপালা জন্মানোয় ইঁদুরের খাদ্যের ঘাটতি থাকেনি।

ফলে তাদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায় এবং এখন অনেক এলাকায় প্রতি হেক্টরে হাজার হাজার ইঁদুর দেখা যাচ্ছে। কৃষিবিদদের ধারণা, কিছু অঞ্চলে প্রতি হেক্টরে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত ইঁদুর থাকতে পারে।
ফসলের বীজই প্রধান লক্ষ্য
বর্তমানে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো বপন মৌসুম। কিন্তু রাতে মাঠে নেমে ইঁদুর নতুন বপন করা বীজ খেয়ে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে একদিন আগে যেখানে বীজ বপন করা হয়েছে, পরদিন সেখানে ফসলের সারি অনুপস্থিত দেখা যাচ্ছে।
এ কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেকেই বীজ বপনের সঙ্গে সঙ্গেই বিষটোপ ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যাতে ইঁদুরের আক্রমণ কমানো যায়।
অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে মানসিক যন্ত্রণা

ইঁদুরের উপদ্রব শুধু ফসলের ক্ষতিই করছে না, কৃষকদের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলছে। অনেকের বাড়ি, গুদামঘর, ছাদ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ভেতর পর্যন্ত ইঁদুর ঢুকে পড়েছে। রাতে ঘুমের সময়ও তাদের দৌড়ঝাঁপ শোনা যাচ্ছে।
কৃষকরা বলছেন, খরা বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্তত ঘরে ফিরে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। কিন্তু ইঁদুরের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। ঘরের আলমারি, রান্নাঘর, এমনকি শোবার ঘরেও ইঁদুরের উপস্থিতি মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
দ্রুত বংশবৃদ্ধি বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর খুব অল্প বয়সেই প্রজনন শুরু করতে পারে। মাত্র ছয় সপ্তাহ বয়সে তারা বংশবৃদ্ধিতে সক্ষম হয় এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক বাচ্চার জন্ম দেয়। ফলে একবার সংখ্যা বাড়তে শুরু করলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণেই কৃষকদের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

শীতকাল নিয়ে আশাবাদ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর কৃষকরা এখন আরও শক্তিশালী বিষটোপ ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছেন। পাশাপাশি আবহাওয়া ঠান্ডা হওয়া এবং বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনাও ইঁদুরের সংখ্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু এলাকায় ইঁদুরের সংখ্যা কিছুটা কমার খবর পাওয়া গেছে। তবু কৃষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনও সময় লাগবে।
অস্ট্রেলিয়ার কৃষকদের জন্য এই ইঁদুরের উপদ্রব এখন শুধু কৃষি সমস্যা নয়, বরং অর্থনীতি, উৎপাদন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। শীতের আগমন এবং নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই এখন তাদের প্রধান ভরসা।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















