১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

ট্রাম্পের চাপেই কি ঘুরে দাঁড়াবে কিউবার অর্থনীতি?

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি, খাদ্য ও ওষুধের অভাব এবং বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত কিউবা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে একই সঙ্গে নতুন এক বিতর্কও সামনে এসেছে—বর্তমান পরিস্থিতি কি শেষ পর্যন্ত কিউবার অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে?

সম্প্রতি কিউবায় পরিচালিত অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বাধা এবং অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে কিউবার অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

পর্যটন খাতে বড় সম্ভাবনা

বর্তমানে কিউবার অনেক সমুদ্রতীরবর্তী হোটেল প্রায় খালি পড়ে আছে। অথচ দেশটির পর্যটন শিল্প একসময় বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয় এবং কিউবা আরও উন্মুক্ত অর্থনীতির পথে হাঁটে, তাহলে পর্যটন খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

Sun, sand and empty beaches: Trump oil squeeze chokes Cuba's tourism, World  News - AsiaOne

দেশটিতে ইতোমধ্যে বড় বড় হোটেল, রিসোর্ট এবং পর্যটন অবকাঠামো তৈরি রয়েছে। ফলে নতুন পর্যটক প্রবাহ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

বিদেশে থাকা কিউবানদের আগ্রহ

বিদেশে বসবাসকারী ধনী কিউবান ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে তারা কিউবায় বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। ইতোমধ্যে কিছু ব্যবসায়ী ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাদের ধারণা, উন্মুক্ত বাজারব্যবস্থা চালু হলে আবাসন, পর্যটন, কৃষি এবং সেবাখাতে বড় বিনিয়োগ আসতে পারে।

কৃষি ও শিল্পে চ্যালেঞ্জ

তবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার মোটেও সহজ হবে না। কিউবার কৃষিখাত বহু বছর ধরে পুরোনো প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতির সংকট এবং কম উৎপাদনশীলতার সমস্যায় ভুগছে। একসময় যে দেশ বিপুল পরিমাণ চিনি উৎপাদন করত, সেখানে এখন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

The Bad News (We Know) about Agriculture in Cuba - Havana Times

শিল্পখাতের অবস্থাও দুর্বল। অনেক শিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। অর্থনৈতিক উদারীকরণ শুরু হলে এসব খাত আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

অবকাঠামো সংকট বড় বাধা

দেশটির সড়ক, সেতু, সরকারি ভবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ব্যাংকিং খাত ছোট ও অস্থিতিশীল। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলেও শুধু বিনিয়োগের আশায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। স্থিতিশীল নীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Cuba says Trump's fresh sanctions on its economy amount to 'collective  punishment' | Cuba | The Guardian

অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে

কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা সম্ভাবনার আলোচনা থাকলেও বাস্তবতা হলো দেশটির সামনে এখনও বড় অনিশ্চয়তা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবকিছুর ওপরই নির্ভর করবে কিউবার আগামী দিনের পথচলা। শুধুমাত্র বাইরের বিনিয়োগ বা রাজনৈতিক চাপ দিয়ে অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

ট্রাম্পের চাপেই কি ঘুরে দাঁড়াবে কিউবার অর্থনীতি?

০৯:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি, খাদ্য ও ওষুধের অভাব এবং বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত কিউবা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে একই সঙ্গে নতুন এক বিতর্কও সামনে এসেছে—বর্তমান পরিস্থিতি কি শেষ পর্যন্ত কিউবার অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে?

সম্প্রতি কিউবায় পরিচালিত অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বাধা এবং অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে কিউবার অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

পর্যটন খাতে বড় সম্ভাবনা

বর্তমানে কিউবার অনেক সমুদ্রতীরবর্তী হোটেল প্রায় খালি পড়ে আছে। অথচ দেশটির পর্যটন শিল্প একসময় বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয় এবং কিউবা আরও উন্মুক্ত অর্থনীতির পথে হাঁটে, তাহলে পর্যটন খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

Sun, sand and empty beaches: Trump oil squeeze chokes Cuba's tourism, World  News - AsiaOne

দেশটিতে ইতোমধ্যে বড় বড় হোটেল, রিসোর্ট এবং পর্যটন অবকাঠামো তৈরি রয়েছে। ফলে নতুন পর্যটক প্রবাহ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

বিদেশে থাকা কিউবানদের আগ্রহ

বিদেশে বসবাসকারী ধনী কিউবান ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে তারা কিউবায় বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। ইতোমধ্যে কিছু ব্যবসায়ী ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাদের ধারণা, উন্মুক্ত বাজারব্যবস্থা চালু হলে আবাসন, পর্যটন, কৃষি এবং সেবাখাতে বড় বিনিয়োগ আসতে পারে।

কৃষি ও শিল্পে চ্যালেঞ্জ

তবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার মোটেও সহজ হবে না। কিউবার কৃষিখাত বহু বছর ধরে পুরোনো প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতির সংকট এবং কম উৎপাদনশীলতার সমস্যায় ভুগছে। একসময় যে দেশ বিপুল পরিমাণ চিনি উৎপাদন করত, সেখানে এখন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

The Bad News (We Know) about Agriculture in Cuba - Havana Times

শিল্পখাতের অবস্থাও দুর্বল। অনেক শিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। অর্থনৈতিক উদারীকরণ শুরু হলে এসব খাত আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

অবকাঠামো সংকট বড় বাধা

দেশটির সড়ক, সেতু, সরকারি ভবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ব্যাংকিং খাত ছোট ও অস্থিতিশীল। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলেও শুধু বিনিয়োগের আশায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। স্থিতিশীল নীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Cuba says Trump's fresh sanctions on its economy amount to 'collective  punishment' | Cuba | The Guardian

অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে

কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা সম্ভাবনার আলোচনা থাকলেও বাস্তবতা হলো দেশটির সামনে এখনও বড় অনিশ্চয়তা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবকিছুর ওপরই নির্ভর করবে কিউবার আগামী দিনের পথচলা। শুধুমাত্র বাইরের বিনিয়োগ বা রাজনৈতিক চাপ দিয়ে অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।