যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে একটি কাগজ উৎপাদন কারখানায় রাসায়নিক ট্যাংক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে পৌঁছেছে। কয়েক দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের পর নিখোঁজ থাকা নয়জনের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনায় নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান
গত মঙ্গলবার কারখানার একটি বিশাল রাসায়নিক ট্যাংক হঠাৎ ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে আরও কয়েকজন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা টানা কয়েক দিন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এবং দুর্ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ সবার মরদেহ উদ্ধার করেন।

উদ্ধার অভিযানে ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি ভবনের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ দল কাজ চালিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন আর কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ নেই।
কী ছিল ট্যাংকের ভেতরে
ধসে পড়া ট্যাংকটিতে প্রায় ৯ লাখ গ্যালন রাসায়নিক দ্রবণ সংরক্ষিত ছিল। কাগজের কাঁচামাল প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত এই দ্রবণে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইড ছিল। দুর্ঘটনার সময় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
দুর্ঘটনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, কিছু রাসায়নিক কাছের নদীতে পৌঁছেছে। এতে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত বায়ুর মান কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের পানীয় জলে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবু পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা নদীর পানি এবং আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করছেন।

কারখানার পটভূমি
দুর্ঘটনাটি একটি কাগজ ও প্যাকেজিং উৎপাদন কারখানায় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি জাপানের একটি বড় কাগজ উৎপাদনকারী গোষ্ঠীর মালিকানাধীন। কয়েক বছর আগে তারা এই কারখানা অধিগ্রহণ করে এবং এরপর থেকে এটি তাদের পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্যাংক ধসে পড়ার পেছনের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাগত কারণ খতিয়ে দেখছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















