কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের পর দেশটির প্রতি মার্কিন নাগরিকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন আইনের আওতায় কানাডীয় বংশোদ্ভূত আরও বেশি মানুষ নাগরিকত্বের দাবি করতে পারছেন, ফলে চলতি বছরে অনুমোদিত আবেদনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
নতুন নিয়মে বাড়তি সুযোগ
গত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনের মাধ্যমে শুধু প্রথম প্রজন্ম নয়, বরং বিদেশে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মের কানাডীয় বংশধররাও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত অনুমোদনের সংখ্যা মাসে এক হাজারেরও বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, আইন কার্যকরের প্রথম মাসে অতিরিক্ত অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ২৭৫। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে ১,১৪০, ফেব্রুয়ারিতে ১,২৫৫ এবং মার্চে ১,৪০৫-এ পৌঁছেছে।

মার্কিনদের আগ্রহ কেন বেশি
অনুমোদিত অতিরিক্ত আবেদনগুলোর প্রায় ৪৮ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে বহু মার্কিন নাগরিকের কানাডীয় বংশসূত্র রয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনও অনেককে বিকল্প ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করছে। অনেক পরিবার মনে করছে, কানাডার নাগরিকত্ব থাকলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, কাজ বা বসবাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হবে।
ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প পথ
অনেক আবেদনকারী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে চান। তবে তারা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মাথায় রেখে একটি বিকল্প পথ খোলা রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে যাদের পরিবারে কানাডীয় পূর্বপুরুষ রয়েছে, তারা নতুন আইনের সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নাগরিকদের বড় একটি অংশ হয়তো কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না। তবুও নাগরিকত্ব পাওয়া তাদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে।
আদালতের রায়ের পর আইন পরিবর্তন
২০২৩ সালের একটি আদালতের রায়ে বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বকে শুধু প্রথম প্রজন্ম পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত হয়। সেই রায়ের পরই সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
নতুন ব্যবস্থায় যেসব ব্যক্তি একাধিক প্রজন্ম ধরে কানাডার বাইরে বসবাস করলেও নিজেদের কানাডীয় বংশসূত্র প্রমাণ করতে পারবেন, তারা নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
তবে নতুন আইনের একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যারা কখনও কানাডায় বসবাস করেননি, তারা ভবিষ্যতে বিদেশে জন্ম নেওয়া নিজেদের সন্তানদের কাছে এই নাগরিকত্ব অনির্দিষ্টকাল ধরে হস্তান্তর করতে পারবেন না।
কানাডার অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বাড়ানো হলেও নাগরিকত্ব আইনের এই পরিবর্তন বহু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক এখন কানাডাকে ভবিষ্যতের একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















