বাংলাদেশের অর্থবাজারকে আধুনিক ও আরও কার্যকর করতে বড় একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় বাজারের সুদের হার নির্ধারণ হবে প্রকৃত লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে, যা আগের প্রস্তাবভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে আরও বাস্তবসম্মত ধারণা দেবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, মঙ্গলবার থেকে তাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে এই নতুন রেফারেন্স রেট প্রকাশ করা হবে।
কেন এই পরিবর্তন
এতদিন অর্থবাজারে সুদের হার নির্ধারণে ব্যবহৃত হতো প্রস্তাবভিত্তিক সূচক, যা সবসময় প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারত না। নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা বাড়ানো, নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং বাজারকে আরও দক্ষ করে তোলা।
বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত আধুনিক মডেলের মতো একটি কাঠামো গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সুদের হার নির্ধারণে শৃঙ্খলা আসে।
ডিআইবিওআর থেকে নতুন পদ্ধতিতে
২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেডা) ডিআইবিওআর নামে একটি সুদের হার সূচক প্রকাশ করে আসছে।
কিন্তু এই হার নির্ধারিত হতো ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে, বাস্তব লেনদেনের উপর নয়। ফলে অনেক সময় এটি প্রকৃত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে মিলত না।
এছাড়া অনেক ব্যাংক নিয়মিতভাবে তথ্য সরবরাহ না করায় এই পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এই সমস্যা দূর করতে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তব আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্য ব্যবহার করে নতুন হার নির্ধারণ করবে।
নতুন দুটি রেফারেন্স রেট
নতুন ব্যবস্থায় দুটি প্রধান সুদের হার চালু করা হবে।
বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট, যা নিরাপদ বা জামানতভিত্তিক আন্তঃব্যাংক লেনদেনের উপর নির্ভর করবে।
ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট, যা জামানতবিহীন আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্য থেকে নির্ধারিত হবে।
কীভাবে নির্ধারণ হবে হার
প্রতিদিন কর্মদিবসের সকালে এই হার প্রকাশ করা হবে। হার নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে লেনদেনের পরিমাণ ও সুদের হারের গড় হিসাব।
অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী লেনদেনের প্রভাব কমাতে বিশেষ পরিসংখ্যান পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে, যাতে তথ্য বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে।
যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমায় পর্যাপ্ত লেনদেন না থাকে, তাহলে আগের কয়েক দিনের তথ্য যোগ করে হিসাব সম্পন্ন করা হবে।
আর্থিক খাতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিনের শুরুতেই একটি নির্ভরযোগ্য সূচক পাবেন। এতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, আর্থিক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ আরও সঠিক হবে এবং নতুন বাজার পণ্য তৈরির সুযোগ বাড়বে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করবে এবং দেশের অর্থবাজারকে আরও স্থিতিশীল ও গভীর করবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বাড়ার ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনাও বাড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















