০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একই সময়ে ChatGPT, Claude ও Grok অচল—এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সতর্কবার্তা কুকুরের মানসিক চাপ কমাতে ও সুস্থতা ধরে রাখতে কীভাবে কাজ করতে পারে রিফ্লেক্সোলজি জেমস ম্যাকনিল হুইসলার: সাধারণ দৃশ্যেই অসাধারণ শিল্পের খোঁজ জন্মদিনের আয়োজনে জেনিফার-নিকোলের ইতালীয় আমেজ, খাবার আর বন্ধুত্বের অনন্য মেলবন্ধন এমিরেটসের প্রিমিয়াম ইকোনমিতে এবার পূর্ণাঙ্গ গোপনীয়তা পর্দা, সঙ্গে বৈদ্যুতিক আসন নিয়ন্ত্রণ এআইয়ের উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, কিন্তু লাভ কি শুধু বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর? চোখে জল, হাতে ত্রিবর্ণ পতাকা—শেষ লড়াইয়ে আবেগে ভাসছেন কেটি টেলর স্টিভ আরউইনের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাবাকে ‘সুপারহিরো’ বললেন মেয়ে বিন্দি ইউরোপজুড়ে নাশকতার ভয়াবহ বিস্তার, রাশিয়াকেই প্রধান সন্দেহভাজন মনে করছে পশ্চিমারা ৩ বিলিয়ন ডলার তুলতে হংকংয়ে শেয়ারবাজারে আসছে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান মুনশট

তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ, জরুরি সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিজিএমইএ। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে এই খাতে উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে বড় ধাক্কা
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কিছুটা ফিরে এলেও নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি শিল্পে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, গাজীপুর ও আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া থেমে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে দেরি হচ্ছে।

এদিকে কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পুরো খাতকে আরও চাপে ফেলছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প - উইকিপিডিয়া

সমাধানে বিজিএমইএর প্রস্তাব
সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ।

প্রথমত, নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, রাজধানীর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য জরুরি গ্যাস সংযোগ এবং গ্যাসের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত স্থাপন এবং গ্যাস মাপার আধুনিক প্রযুক্তি চালু সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থত, আমদানি করা জ্বালানির ওপর সব ধরনের কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান
দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝোঁকার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক বর্তমানে ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত, যা কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি কেবল এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার মতো পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া
বৈঠকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বশীল মন্ত্রীবৃন্দ তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কারখানাগুলোতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ সহজ করতে একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও বিজিএমইএর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

একই সময়ে ChatGPT, Claude ও Grok অচল—এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সতর্কবার্তা

তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ, জরুরি সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ

০৮:৩৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিজিএমইএ। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে এই খাতে উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে বড় ধাক্কা
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কিছুটা ফিরে এলেও নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি শিল্পে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, গাজীপুর ও আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া থেমে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে দেরি হচ্ছে।

এদিকে কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পুরো খাতকে আরও চাপে ফেলছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প - উইকিপিডিয়া

সমাধানে বিজিএমইএর প্রস্তাব
সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ।

প্রথমত, নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, রাজধানীর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য জরুরি গ্যাস সংযোগ এবং গ্যাসের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত স্থাপন এবং গ্যাস মাপার আধুনিক প্রযুক্তি চালু সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থত, আমদানি করা জ্বালানির ওপর সব ধরনের কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান
দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝোঁকার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক বর্তমানে ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত, যা কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি কেবল এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার মতো পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া
বৈঠকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বশীল মন্ত্রীবৃন্দ তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কারখানাগুলোতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ সহজ করতে একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও বিজিএমইএর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।