স্যামসাং তাদের নতুন গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো নিয়ে বাজারে হাজির হয়েছে, যা কোম্পানির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উন্নত ওয়্যারলেস ইয়ারবাড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগের প্রজন্মের তুলনায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তন না আনলেও ছোট ছোট উন্নতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করেছে।
নকশায় পরিণত ও ব্যবহারবান্ধব
গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো-তে আগের স্টেম ডিজাইন বজায় রাখা হলেও এতে আরও পরিণত ও পরিষ্কার ফিনিশ দেওয়া হয়েছে। ধাতব ছোঁয়া যুক্ত হওয়ায় এটি দেখতে আরও মার্জিত লাগে। চার্জিং কেসটিও আগের চেয়ে পাতলা এবং বহন করা সহজ। ইয়ারবাডের অবস্থানও বদলানো হয়েছে, ফলে কেসে রাখা ও বের করা আরও সহজ হয়েছে।
নতুন নিয়ন্ত্রণ ও হেড জেসচার
এই ডিভাইসে চাপ-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগের মতোই রাখা হয়েছে, তবে এতে নতুন হেড জেসচার যুক্ত হয়েছে। ব্যবহারকারী মাথা নাড়িয়ে কল রিসিভ বা বাতিল করতে পারবেন। বাস্তব জীবনে এই ফিচারটি বেশ সুবিধাজনক বলে মনে হচ্ছে।

সংযোগে গ্যালাক্সি নির্ভরতা
বাডস ৪ প্রো-তে উন্নত ব্লুটুথ প্রযুক্তি থাকলেও এর অনেক ফিচার পুরোপুরি উপভোগ করতে হলে গ্যালাক্সি ডিভাইস প্রয়োজন। স্বয়ংক্রিয় সংযোগ ও উন্নত অডিও কোডেক মূলত স্যামসাং ডিভাইসেই ভালোভাবে কাজ করে।
শব্দের মানে বড় উন্নতি
এই ইয়ারবাডে নতুন ডুয়াল ড্রাইভার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা বেস, মিড ও ট্রেবলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। উচ্চ মানের অডিও সাপোর্টের কারণে গান শোনার অভিজ্ঞতা আরও গভীর ও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে লাইভ মিউজিক বা সিনেমার অডিওতে এটি আলাদা মাত্রা যোগ করে।
কল কোয়ালিটিতে পরিষ্কার অগ্রগতি
ছয়টি মাইক্রোফোন ও উন্নত শব্দ প্রসেসিং প্রযুক্তির কারণে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশেও পরিষ্কার কথা বলা যায়। এতে কণ্ঠ আরও স্বাভাবিক শোনায়, যা কাজের মিটিং বা দৈনন্দিন কথোপকথনের জন্য উপযোগী।
ব্যাটারি: যথেষ্ট, তবে শীর্ষে নয়
ব্যাটারি পারফরম্যান্স আগের মতোই থাকায় এতে বড় পরিবর্তন আসেনি। একবার চার্জে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ব্যবহার করা যায় এবং কেসসহ মোট সময় প্রায় ২৬ থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত যায়।
শেষ কথা
গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো মূলত একটি উন্নত সংস্করণ, যেখানে বড় পরিবর্তনের বদলে সূক্ষ্ম উন্নতির দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। যারা স্যামসাং ইকোসিস্টেমে আছেন, তাদের জন্য এটি অন্যতম সেরা প্রিমিয়াম ইয়ারবাড হতে পারে। তবে অন্য ব্যবহারকারীদের জন্য এর কিছু ফিচার সীমিত হয়ে যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















