১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে পেট্রোডলার ব্যবস্থা

Petroleum, petrodollar and crude oil concept : Pump jack and a black barrel on US USD dollar notes, depicts the money received or earned from sales after investment in the development of oil industry.

বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোডলার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এই ব্যবস্থার ভিত নড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে তেলের আয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা—দুটিই চাপে পড়েছে।

পেট্রোডলার ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল পেট্রোডলার ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল বাণিজ্য ডলারে পরিচালিত হতো এবং সেই ডলার আবার যুক্তরাষ্ট্রের ঋণপত্রে বিনিয়োগ করা হতো। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে এই ধারাবাহিকতা এখন ভেঙে পড়ার মুখে।

Iran war rattles Gulf petrodollar foundations | Reuters

ঐতিহাসিক চুক্তির পেছনের গল্প

এই ব্যবস্থার সূচনা ১৯৭৪ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সমঝোতা করেন। চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব তাদের তেলের মূল্য নির্ধারণ করবে ডলারে এবং অতিরিক্ত আয় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদে, বিশেষ করে ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে। পরে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও একই পথে হাঁটে।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয় এবং একটি স্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো বজায় রাখার দায়িত্ব নেয়।

হেনরি কিসিঞ্জার - উইকিপিডিয়া

কীভাবে কাজ করত এই চক্র

পেট্রোডলার ব্যবস্থাটি ছিল এক ধরনের ঘূর্ণায়মান অর্থনৈতিক চক্র। বিশ্বজুড়ে তেল ক্রেতারা ডলারে মূল্য পরিশোধ করত। সেই ডলার যেত রিয়াদ ও আবুধাবির মতো তেলসমৃদ্ধ শহরে। এরপর সেই অর্থ আবার যুক্তরাষ্ট্রের ঋণপত্রে বিনিয়োগ হয়ে ওয়াশিংটনে ফিরে আসত।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নেওয়ার খরচ কম রাখতে সাহায্য করেছে এবং ডলারকে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বর্তমান সংকটের প্রভাব

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এই পুরো ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড নিয়ে আগের মতো আস্থা দেখা যাচ্ছে না।

এর ফলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার সেই ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে পরিচিতি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে পেট্রোডলার ব্যবস্থা

০৭:১২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোডলার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এই ব্যবস্থার ভিত নড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে তেলের আয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা—দুটিই চাপে পড়েছে।

পেট্রোডলার ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল পেট্রোডলার ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল বাণিজ্য ডলারে পরিচালিত হতো এবং সেই ডলার আবার যুক্তরাষ্ট্রের ঋণপত্রে বিনিয়োগ করা হতো। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে এই ধারাবাহিকতা এখন ভেঙে পড়ার মুখে।

Iran war rattles Gulf petrodollar foundations | Reuters

ঐতিহাসিক চুক্তির পেছনের গল্প

এই ব্যবস্থার সূচনা ১৯৭৪ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সমঝোতা করেন। চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব তাদের তেলের মূল্য নির্ধারণ করবে ডলারে এবং অতিরিক্ত আয় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদে, বিশেষ করে ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবে। পরে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও একই পথে হাঁটে।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয় এবং একটি স্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো বজায় রাখার দায়িত্ব নেয়।

হেনরি কিসিঞ্জার - উইকিপিডিয়া

কীভাবে কাজ করত এই চক্র

পেট্রোডলার ব্যবস্থাটি ছিল এক ধরনের ঘূর্ণায়মান অর্থনৈতিক চক্র। বিশ্বজুড়ে তেল ক্রেতারা ডলারে মূল্য পরিশোধ করত। সেই ডলার যেত রিয়াদ ও আবুধাবির মতো তেলসমৃদ্ধ শহরে। এরপর সেই অর্থ আবার যুক্তরাষ্ট্রের ঋণপত্রে বিনিয়োগ হয়ে ওয়াশিংটনে ফিরে আসত।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নেওয়ার খরচ কম রাখতে সাহায্য করেছে এবং ডলারকে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বর্তমান সংকটের প্রভাব

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এই পুরো ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড নিয়ে আগের মতো আস্থা দেখা যাচ্ছে না।

এর ফলে পেট্রোডলার ব্যবস্থার সেই ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে পরিচিতি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।