০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
নেতার শেষ বিদায়ে তেহরানে লাখো মানুষের ঢল, খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিকে ঘিরে শোক-রাজনীতির নতুন অধ্যায় মরক্কোর দাপটে বিদায় স্বাগতিক কানাডা, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধিরা বর্ষাতেও রংপুরে তাপপ্রবাহের দাপট, বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে জনদুর্ভোগ আমেরিকান স্বপ্ন: উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি থেকে কঠিন বাস্তবতার দীর্ঘ যাত্রা ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংকট কি এখন ভোটের আগেই নির্ধারিত হচ্ছে? মেক্সিকো: যেখানে ইতিহাসের পরাজয় ভেঙে নতুন গল্প লিখতে চায় ইংল্যান্ড বিচ্ছিন্নতাবাদী-সন্ত্রাসীদের হামলায় পাপুয়ায় মার্কিন পাইলট নিহত, তদন্তে ইন্দোনেশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সমন্বয় এল নিনোর তীব্র প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় খরা বাড়ছে, পানির সংকটে হাজারো পরিবার, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা নতুন অর্থনীতিকে দেখতে হলে শুধু তথ্য নয়, মানুষের কাছেও পৌঁছাতে হবে দেশে ‘বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের’ আভাস দিলেন জিএম কাদের

পোষা প্রাণীর খেলনা থেকে যুদ্ধ ড্রোন: ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাতে বড় রূপান্তর

একসময় পোষা প্রাণীর জন্য স্মার্ট খেলনা বানানো একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আজ তৈরি করছে যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রাণঘাতী ড্রোন। ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাতে এই নাটকীয় পরিবর্তন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের গল্প নয়, বরং পুরো দেশের শিল্প কাঠামোর বদলে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি।

খেলনা থেকে প্রযুক্তির শক্তি

ইউক্রেনের উদ্যোক্তা ইয়ারোস্লাভ আজন্যুক এক সময় এমন একটি ডিভাইস তৈরি করেছিলেন, যা স্মার্টফোন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে দূর থেকে পোষা প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত। ‘পেটকিউব’ নামে পরিচিত এই যন্ত্রটিতে ছিল ক্যামেরা, রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থা, এমনকি একটি লেজার পয়েন্টার—যা দিয়ে পোষা প্রাণীদের খেলানো যেত।

তবে এই ডিভাইসের ভেতরের প্রযুক্তিই পরে অন্য এক পথে এগিয়ে যায়। একই ধরনের ইলেকট্রনিক উপাদান, দূরনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং ছবি শনাক্ত করার প্রযুক্তি এখন ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের ড্রোন তৈরিতে।

A Maker of Pet Toys in Ukraine Turns to Killer Drones - The New York Times

যুদ্ধের বাস্তবতায় দিক বদল

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আসে। আগে যেখানে স্টার্টআপগুলো মূলত ভোক্তা পণ্য বা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করত, এখন তারা ক্রমেই সামরিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে রয়েছে দেশের নিরাপত্তা চাহিদা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ভাবনের প্রয়োজন।

আজন্যুকের মতো অনেক উদ্যোক্তা এখন এমন ড্রোন তৈরি করছেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে। এসব ড্রোনে উন্নত সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দূরনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সাময়িক নয়। যুদ্ধ প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাত স্থায়ীভাবে সামরিক উদ্ভাবনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে দেশটির স্টার্টআপ সংস্কৃতি নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উদ্ভাবনের লক্ষ্য আর কেবল ব্যবসা নয়, বরং প্রতিরক্ষা।

Robot dog armed with machine gun airdropped from drone in viral video

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

এই রূপান্তর ইউক্রেনের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের জন্য বড় সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ দুটোই তৈরি করেছে। একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ নির্ভর প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবুও বর্তমান বাস্তবতায় স্পষ্ট, পোষা প্রাণীর খেলনা তৈরির মতো নিরীহ প্রযুক্তিও আজ যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—যা প্রযুক্তির শক্তি ও তার বহুমুখী ব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ।

পোষা প্রাণীর খেলনা থেকে যুদ্ধ ড্রোনে রূপান্তর, ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তনের গল্প

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতার শেষ বিদায়ে তেহরানে লাখো মানুষের ঢল, খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিকে ঘিরে শোক-রাজনীতির নতুন অধ্যায়

পোষা প্রাণীর খেলনা থেকে যুদ্ধ ড্রোন: ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাতে বড় রূপান্তর

০৫:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

একসময় পোষা প্রাণীর জন্য স্মার্ট খেলনা বানানো একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আজ তৈরি করছে যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রাণঘাতী ড্রোন। ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাতে এই নাটকীয় পরিবর্তন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের গল্প নয়, বরং পুরো দেশের শিল্প কাঠামোর বদলে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি।

খেলনা থেকে প্রযুক্তির শক্তি

ইউক্রেনের উদ্যোক্তা ইয়ারোস্লাভ আজন্যুক এক সময় এমন একটি ডিভাইস তৈরি করেছিলেন, যা স্মার্টফোন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে দূর থেকে পোষা প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত। ‘পেটকিউব’ নামে পরিচিত এই যন্ত্রটিতে ছিল ক্যামেরা, রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থা, এমনকি একটি লেজার পয়েন্টার—যা দিয়ে পোষা প্রাণীদের খেলানো যেত।

তবে এই ডিভাইসের ভেতরের প্রযুক্তিই পরে অন্য এক পথে এগিয়ে যায়। একই ধরনের ইলেকট্রনিক উপাদান, দূরনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং ছবি শনাক্ত করার প্রযুক্তি এখন ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের ড্রোন তৈরিতে।

A Maker of Pet Toys in Ukraine Turns to Killer Drones - The New York Times

যুদ্ধের বাস্তবতায় দিক বদল

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আসে। আগে যেখানে স্টার্টআপগুলো মূলত ভোক্তা পণ্য বা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করত, এখন তারা ক্রমেই সামরিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে রয়েছে দেশের নিরাপত্তা চাহিদা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ভাবনের প্রয়োজন।

আজন্যুকের মতো অনেক উদ্যোক্তা এখন এমন ড্রোন তৈরি করছেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে। এসব ড্রোনে উন্নত সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দূরনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সাময়িক নয়। যুদ্ধ প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাত স্থায়ীভাবে সামরিক উদ্ভাবনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে দেশটির স্টার্টআপ সংস্কৃতি নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উদ্ভাবনের লক্ষ্য আর কেবল ব্যবসা নয়, বরং প্রতিরক্ষা।

Robot dog armed with machine gun airdropped from drone in viral video

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

এই রূপান্তর ইউক্রেনের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের জন্য বড় সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ দুটোই তৈরি করেছে। একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ নির্ভর প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবুও বর্তমান বাস্তবতায় স্পষ্ট, পোষা প্রাণীর খেলনা তৈরির মতো নিরীহ প্রযুক্তিও আজ যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—যা প্রযুক্তির শক্তি ও তার বহুমুখী ব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ।

পোষা প্রাণীর খেলনা থেকে যুদ্ধ ড্রোনে রূপান্তর, ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তনের গল্প