মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে লেবাননের শক্তিশালী সংগঠন হিজবুল্লাহ। দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর হঠাৎ করে তাদের ধারাবাহিক আক্রমণ শুধু পরিস্থিতিকেই জটিল করেনি, বরং প্রমাণ করেছে—তারা এখনও শক্তিশালী এবং সংগঠিত।
নীরবতার পর হঠাৎ সক্রিয়তা
একসময় মনে করা হচ্ছিল, আগের সংঘর্ষে হিজবুল্লাহ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা নিয়মিত রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, তারা নিজেদের নতুনভাবে সংগঠিত করেছে এবং আগের চেয়ে আরও কৌশলী হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধবিরতির আড়ালে প্রস্তুতি
পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতিকে হিজবুল্লাহ শেষ হিসেবে দেখেনি, বরং নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। এই সময় তারা অস্ত্র মজুত বাড়িয়েছে, নতুন করে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

অস্ত্রভাণ্ডার এখনও বড়
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর কাছে এখনও বিপুল পরিমাণ রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। কিছু অস্ত্র স্বল্প পাল্লার হলেও, তাদের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্রও আছে যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে তারা কার্যকর হামলা চালাচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে অস্ত্র উৎপাদন
সিরিয়ার মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার পর হিজবুল্লাহ নতুন কৌশল নেয়। তারা এখন স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরি করছে। সহজলভ্য যন্ত্রাংশ দিয়ে দ্রুত রকেট ও ড্রোন তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এতে তাদের কার্যক্রম থামানো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ছোট ছোট ইউনিটে যুদ্ধ
বর্তমানে হিজবুল্লাহ বড় বাহিনীর বদলে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে। তিন থেকে চার জনের দলও আলাদা আলাদা জায়গায় হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে। এই গেরিলা কৌশল তাদের দ্রুত আঘাত হানতে সাহায্য করছে এবং প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং হিজবুল্লাহর এই নতুন কৌশল ও শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আরও দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















