০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদ ঘিরে বিশাল রিং নির্মাণের স্বপ্ন: জাপানি কোম্পানির সাহসী মহাকাশ পরিকল্পনা ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে পেট্রোডলার ব্যবস্থা হাম আতঙ্কে দেশে নতুন ৭ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ, নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে সুপার এল নিনো সতর্কতা: ১৯৫০-এর পর মাত্র পাঁচবার, আবার কি আসছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি? হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক নন: দিল্লিতে বার্তা দিলেন উপদেষ্টা হুমায়ুন লক্ষ্মীপুরে ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে ভবন থেকে ঝাঁপ, সাবেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: মামলা করতে রাজি নয় পরিবার, পুলিশের অনুরোধেও অনড় অবস্থান হাম আতঙ্কে দেশে নতুন ৭ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ ফল ব্যবসায়ীর, আহত ২৫

ইরানে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ: শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, পুনর্গঠনে লাগবে বহু বছর

ইরানে সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে এমনভাবে আঘাত করেছে, যার প্রভাব কাটাতে বহু বছর সময় লাগবে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে শিল্প, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যোগাযোগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো কার্যত ভেঙে পড়েছে, আর এর ফলে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে গভীর অর্থনৈতিক সংকট।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

যুদ্ধের পর ইরান এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব করতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই বিপুল ক্ষতির কারণে দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা খেয়েছে এবং পুনর্গঠনের পথ হয়ে উঠেছে কঠিন।

Iran accuses US of plotting ground attack, as Israel steps up bombardment

অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিপর্যয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা, ইস্পাত শিল্প, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, সেতু, রেলপথ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু উৎপাদন কমিয়ে দেয়নি, বরং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গেছে।

কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা

যুদ্ধের কারণে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তাদের কাজ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে শ্রমিকদের ছাঁটাই বাড়ছে।
অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, আর উৎপাদিত পণ্য গুদামে জমে থাকছে।

ব্যাংকিং ও ব্যবসা কার্যত অচল

ব্যাংকিং অবকাঠামোতে হামলার ফলে লেনদেন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ছাড়া কোনো লেনদেন সম্ভব হচ্ছে না।
একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিতে হচ্ছে, আর সবই নগদে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

সাধারণ মানুষের জীবনে চরম সংকট

দৈনন্দিন জীবনে এই সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে সাধারণ মানুষের ওপর। অনেক দিনমজুর ও সেবাখাতের কর্মীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইন ব্যবসা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। যারা সামাজিক মাধ্যমে কাজ করে আয় করতেন, তাদের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

US claims destroyed IRGC command centre, more Israel attacks on Tehran

আগে থেকেই দুর্বল ছিল অর্থনীতি

যুদ্ধের আগেই ইরানের অর্থনীতি নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং দুর্নীতি অর্থনীতিকে দুর্বল করে রেখেছিল।
এর ওপর যুদ্ধের আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং দেশের উন্নয়নের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি না পায়, তাহলে পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ছাড়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা কঠিন।
এই কারণে শান্তি আলোচনায় ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালোভাবে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদ ঘিরে বিশাল রিং নির্মাণের স্বপ্ন: জাপানি কোম্পানির সাহসী মহাকাশ পরিকল্পনা

ইরানে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ: শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, পুনর্গঠনে লাগবে বহু বছর

০৫:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে এমনভাবে আঘাত করেছে, যার প্রভাব কাটাতে বহু বছর সময় লাগবে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে শিল্প, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যোগাযোগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো কার্যত ভেঙে পড়েছে, আর এর ফলে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে গভীর অর্থনৈতিক সংকট।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

যুদ্ধের পর ইরান এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব করতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই বিপুল ক্ষতির কারণে দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা খেয়েছে এবং পুনর্গঠনের পথ হয়ে উঠেছে কঠিন।

Iran accuses US of plotting ground attack, as Israel steps up bombardment

অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিপর্যয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা, ইস্পাত শিল্প, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, সেতু, রেলপথ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু উৎপাদন কমিয়ে দেয়নি, বরং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গেছে।

কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা

যুদ্ধের কারণে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তাদের কাজ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে শ্রমিকদের ছাঁটাই বাড়ছে।
অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, আর উৎপাদিত পণ্য গুদামে জমে থাকছে।

ব্যাংকিং ও ব্যবসা কার্যত অচল

ব্যাংকিং অবকাঠামোতে হামলার ফলে লেনদেন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ছাড়া কোনো লেনদেন সম্ভব হচ্ছে না।
একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিতে হচ্ছে, আর সবই নগদে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

সাধারণ মানুষের জীবনে চরম সংকট

দৈনন্দিন জীবনে এই সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে সাধারণ মানুষের ওপর। অনেক দিনমজুর ও সেবাখাতের কর্মীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইন ব্যবসা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। যারা সামাজিক মাধ্যমে কাজ করে আয় করতেন, তাদের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

US claims destroyed IRGC command centre, more Israel attacks on Tehran

আগে থেকেই দুর্বল ছিল অর্থনীতি

যুদ্ধের আগেই ইরানের অর্থনীতি নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং দুর্নীতি অর্থনীতিকে দুর্বল করে রেখেছিল।
এর ওপর যুদ্ধের আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং দেশের উন্নয়নের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি না পায়, তাহলে পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ছাড়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা কঠিন।
এই কারণে শান্তি আলোচনায় ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালোভাবে তুলেছে।