সিঙ্গাপুরের রাস্তায় একসময় যে পথশিল্পীরা প্রাণ এনে দিতেন, এখন তাঁদের অনেকেই টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। জায়গা বেড়েছে, সুযোগও কিছুটা বিস্তৃত হয়েছে—তবু আয় কমে যাওয়া, দর্শকের আগ্রহ হ্রাস আর কঠোর নিয়মের চাপে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
কমছে দর্শক, বদলাচ্ছে অভ্যাস
শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে আগে যেখানে মানুষের ভিড় জমত, এখন সেখানে আগের মতো সাড়া মেলে না। অনেক শিল্পীই বলছেন, পথচারীরা আগের মতো থেমে দেখেন না, দ্রুত চলে যান। ফলে আয় কমে গেছে। যারা আগে নিয়মিত পারফর্ম করতেন, তাঁদের অনেকেই এখন আর সেই আগ্রহ পাচ্ছেন না।
নিয়ম-কানুনের বেড়াজাল
সিঙ্গাপুরে পথশিল্পী হতে হলে নির্দিষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। অডিশন পাস করে অনুমতিপত্র নিতে হয়, নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময়েই পারফর্ম করা যায়। নতুন নিয়মে জনপ্রিয় জায়গাগুলোতে সময় বুক করতে লটারির মতো ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। এতে অনেক শিল্পীর জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়মিত পারফর্ম করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেকেই অভিযোগ করছেন, অল্প সময়ের জন্য জায়গা পাওয়া গেলে সেটআপ করতে করতেই অর্ধেক সময় শেষ হয়ে যায়। এতে পুরো আয়োজনটাই অনেক সময় অর্থহীন হয়ে পড়ে।
আয় কম, বিকল্পের খোঁজ
অনেক পথশিল্পী এখন অন্য কাজের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করছেন, কেউ আবার অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সপ্তাহে কম দিন পারফর্ম করে আয় ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

তবে কিছু শিল্পী আবার নতুন জায়গা খুঁজে নিচ্ছেন—যেখানে ভিড় কম, কিন্তু সময় বেশি পাওয়া যায়। এসব জায়গায় তারা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও আয় সবসময় বেশি হয় না।
প্রতিযোগিতা বেড়েছে
বর্তমানে অনুমোদিত পথশিল্পীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু সবাই নিয়মিত পারফর্ম করছেন না। কারণ সুযোগের তুলনায় প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে, আর আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইতিহাস আর বর্তমানের ফারাক
একসময় সিঙ্গাপুরে পথশিল্প ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত। পরে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা হয়, এমনকি এক সময় নিষিদ্ধও করা হয়েছিল। এখন আবার অনুমতি সাপেক্ষে এই শিল্পচর্চা চলছে, তবে কঠোর নিয়মের কারণে অনেকেই এটিকে আর আগের মতো স্বাধীন মনে করছেন না।
টিকে থাকার লড়াই
সব চ্যালেঞ্জের পরও কিছু শিল্পী এখনও এই পথেই আছেন। তাঁদের কাছে এটি শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং নিজের শিল্পকে প্রকাশ করার একটি জায়গা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই পেশায় টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















