১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাহুলের প্রত্যাবর্তন, প্রিয়াঙ্কাও পথে—পশ্চিমবঙ্গ ভোটে কংগ্রেসের নতুন জোর

বাবা-ছেলের লড়াইয়ে বিজেপির বাজি, উত্তর ২৪ পরগনায় ভোটের ময়দানে সিং পরিবার

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এক ভিন্ন রাজনৈতিক চিত্র সামনে এসেছে। একই পরিবারের দুই প্রার্থী—বাবা ও ছেলে—বিজেপির টিকিটে লড়ছেন, যা নিয়ে এলাকায় বাড়ছে আগ্রহ ও আলোচনা।

পরিবারেই রাজনীতির লড়াই

এই নির্বাচনে নৈহাটির নিকটবর্তী নোয়াপাড়া আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক অর্জুন সিং। অন্যদিকে ভাটপাড়া আসনে বিজেপির প্রার্থী তাঁর ছেলে পবন সিং। একই পরিবারের এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে দলীয় সমীকরণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভোটের ফলাফলও অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর।

অর্জুন সিং দীর্ঘদিন ধরেই ব্যারাকপুর মহকুমার রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ। পাটশিল্প এলাকা ঘিরে তাঁর শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার দল পরিবর্তন করেছেন, যা তাঁকে সবসময় আলোচনায় রেখেছে।

দলবদল আর ফিরে আসার গল্প

প্রায় এক দশক আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। ২০১৯ সালে টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং সেই বছর লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে গেলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে পুনরায় বিজেপিতে ফেরেন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচন তাঁর কাছে নতুন করে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার সুযোগ। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, নোয়াপাড়া আসনে জয় নিয়ে তিনি আশাবাদী।

SDutta (@KhelaHobePart2) / Posts / X

বিতর্ক আর জনপ্রিয়তা

অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এসব মামলাই তাঁকে আরও পরিচিত করে তুলেছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের বাইরে থেকেও মানুষ তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী।

এই নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের তরুণ নেতা ত্রিনাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং বামফ্রন্ট প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন।

পবন সিংয়ের আলাদা পথ

অন্যদিকে পবন সিং তুলনামূলকভাবে শান্ত স্বভাবের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি ভাটপাড়া থেকে জয়ী হন। বাবার দলবদল সত্ত্বেও তিনি বিজেপিতেই থেকে গেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর লড়াই মূলত নিজের কাজের সঙ্গে। পাটশিল্প এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, শিল্পায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ আসন উত্তর ২৪ পরগনা

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মোট ৩৩টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক। ফলে এই জেলার ফলাফলই সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

নোয়াপাড়া ও ভাটপাড়া—এই দুই আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ-বাঙালি ভোটার রয়েছেন, যারা মূলত পাটকলের কাজে এখানে এসেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে অনেক শিল্প ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় এলাকার অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে।

এছাড়া এই অঞ্চল রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার জন্যও পরিচিত। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় অনেক নাম বাদ পড়ায় এবারের নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বাবা-ছেলের এই দ্বৈরথে বিজেপি বড় আশা দেখছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের ফলাফল এই সমীকরণকে কতটা সফল করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

বাবা-ছেলের লড়াইয়ে বিজেপির বাজি, উত্তর ২৪ পরগনায় ভোটের ময়দানে সিং পরিবার

০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এক ভিন্ন রাজনৈতিক চিত্র সামনে এসেছে। একই পরিবারের দুই প্রার্থী—বাবা ও ছেলে—বিজেপির টিকিটে লড়ছেন, যা নিয়ে এলাকায় বাড়ছে আগ্রহ ও আলোচনা।

পরিবারেই রাজনীতির লড়াই

এই নির্বাচনে নৈহাটির নিকটবর্তী নোয়াপাড়া আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক অর্জুন সিং। অন্যদিকে ভাটপাড়া আসনে বিজেপির প্রার্থী তাঁর ছেলে পবন সিং। একই পরিবারের এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে দলীয় সমীকরণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভোটের ফলাফলও অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর।

অর্জুন সিং দীর্ঘদিন ধরেই ব্যারাকপুর মহকুমার রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ। পাটশিল্প এলাকা ঘিরে তাঁর শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার দল পরিবর্তন করেছেন, যা তাঁকে সবসময় আলোচনায় রেখেছে।

দলবদল আর ফিরে আসার গল্প

প্রায় এক দশক আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। ২০১৯ সালে টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং সেই বছর লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে গেলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে পুনরায় বিজেপিতে ফেরেন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচন তাঁর কাছে নতুন করে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার সুযোগ। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, নোয়াপাড়া আসনে জয় নিয়ে তিনি আশাবাদী।

SDutta (@KhelaHobePart2) / Posts / X

বিতর্ক আর জনপ্রিয়তা

অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এসব মামলাই তাঁকে আরও পরিচিত করে তুলেছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের বাইরে থেকেও মানুষ তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী।

এই নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের তরুণ নেতা ত্রিনাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং বামফ্রন্ট প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন।

পবন সিংয়ের আলাদা পথ

অন্যদিকে পবন সিং তুলনামূলকভাবে শান্ত স্বভাবের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি ভাটপাড়া থেকে জয়ী হন। বাবার দলবদল সত্ত্বেও তিনি বিজেপিতেই থেকে গেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর লড়াই মূলত নিজের কাজের সঙ্গে। পাটশিল্প এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, শিল্পায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ আসন উত্তর ২৪ পরগনা

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মোট ৩৩টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক। ফলে এই জেলার ফলাফলই সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

নোয়াপাড়া ও ভাটপাড়া—এই দুই আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ-বাঙালি ভোটার রয়েছেন, যারা মূলত পাটকলের কাজে এখানে এসেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে অনেক শিল্প ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় এলাকার অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে।

এছাড়া এই অঞ্চল রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার জন্যও পরিচিত। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় অনেক নাম বাদ পড়ায় এবারের নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বাবা-ছেলের এই দ্বৈরথে বিজেপি বড় আশা দেখছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের ফলাফল এই সমীকরণকে কতটা সফল করে তোলে।