১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাহুলের প্রত্যাবর্তন, প্রিয়াঙ্কাও পথে—পশ্চিমবঙ্গ ভোটে কংগ্রেসের নতুন জোর

ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্রের পতনের সংকেত, নাকি পুরনো নীতির পুনরাবৃত্তি?

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শক্তির অবসানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ হয়তো নতুন কোনো যুগের সূচনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিরই আরেকটি ধারাবাহিকতা।

‘এন্ড-অফ-এম্পায়ার’ ধারণা কতটা বাস্তব?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী ভাষা ও কৌশলগত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও নাটকীয় করে তোলে। ফলে প্রতিটি সংকটই যেন একটি বড় পতনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা দেয়।

কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের সঙ্গে তুলনা করছেন, যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। আবার কেউ বলছেন, এটি এমন এক ভুল পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত নিজের শক্তিকেই দুর্বল করে দিতে পারে।

Roar বাংলা - সুয়েজ খাল: এশিয়া-ইউরোপকে জুড়ে দেওয়া খালের ভূরাজনৈতিক ইতিহাস

পুরনো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি?

তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা নতুন কিছু নয়। ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তানে দীর্ঘ সংঘাত, লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ—সব ক্ষেত্রেই সামরিক সাফল্যের পরেও রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াও বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি সেই দীর্ঘ ব্যর্থতার ধারাবাহিক হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

সীমাবদ্ধতা কোথায়?

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা বাইরের শক্তি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ জনমত। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, প্রাণহানি এবং জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ জনগণের সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

এছাড়া ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা কিছুটা দূরে সরে গেলেও তারা সরাসরি প্রতিপক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়বে—এমন সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আগের তুলনায় জ্বালানি সংকটে কিছুটা বেশি স্থিতিশীল।

পাকিস্তানসহ চার দেশের মধ্যস্থতায় কমছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ উত্তেজনা

ভবিষ্যৎ কী বলছে?

এই যুদ্ধ যদি প্রত্যাশিত ফল না দেয়, তাহলে তা চীন বা রাশিয়ার জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইরানও নতুন কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, যদি এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশল কিছুটা সীমিত করে—অর্থাৎ সমস্যাগুলো সমাধানের বদলে নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ দেয়—তাহলে পরিস্থিতি আরও বড় বিপর্যয়ে গড়ানোর ঝুঁকি কমতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান যুদ্ধকে একদিকে যেমন বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতার আরেকটি প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্রের পতনের সংকেত, নাকি পুরনো নীতির পুনরাবৃত্তি?

০৬:২০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শক্তির অবসানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ হয়তো নতুন কোনো যুগের সূচনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিরই আরেকটি ধারাবাহিকতা।

‘এন্ড-অফ-এম্পায়ার’ ধারণা কতটা বাস্তব?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী ভাষা ও কৌশলগত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও নাটকীয় করে তোলে। ফলে প্রতিটি সংকটই যেন একটি বড় পতনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা দেয়।

কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের সঙ্গে তুলনা করছেন, যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। আবার কেউ বলছেন, এটি এমন এক ভুল পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত নিজের শক্তিকেই দুর্বল করে দিতে পারে।

Roar বাংলা - সুয়েজ খাল: এশিয়া-ইউরোপকে জুড়ে দেওয়া খালের ভূরাজনৈতিক ইতিহাস

পুরনো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি?

তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা নতুন কিছু নয়। ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তানে দীর্ঘ সংঘাত, লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ—সব ক্ষেত্রেই সামরিক সাফল্যের পরেও রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াও বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি সেই দীর্ঘ ব্যর্থতার ধারাবাহিক হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

সীমাবদ্ধতা কোথায়?

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা বাইরের শক্তি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ জনমত। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, প্রাণহানি এবং জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ জনগণের সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

এছাড়া ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা কিছুটা দূরে সরে গেলেও তারা সরাসরি প্রতিপক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়বে—এমন সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আগের তুলনায় জ্বালানি সংকটে কিছুটা বেশি স্থিতিশীল।

পাকিস্তানসহ চার দেশের মধ্যস্থতায় কমছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ উত্তেজনা

ভবিষ্যৎ কী বলছে?

এই যুদ্ধ যদি প্রত্যাশিত ফল না দেয়, তাহলে তা চীন বা রাশিয়ার জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইরানও নতুন কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, যদি এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশল কিছুটা সীমিত করে—অর্থাৎ সমস্যাগুলো সমাধানের বদলে নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ দেয়—তাহলে পরিস্থিতি আরও বড় বিপর্যয়ে গড়ানোর ঝুঁকি কমতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান যুদ্ধকে একদিকে যেমন বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতার আরেকটি প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।