০৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৪ অলিখিত নিয়মের পক্ষে: কেন কখনও কখনও ‘নাক গলানো’ও নাগরিক দায়িত্ব মার্কিন ‘রেজিম চেঞ্জ’ নীতি: এক শতাব্দীর পুরোনো কৌশল কি নতুন রূপে ফিরে এসেছে? কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ সংকটে পাকিস্তানে গ্যাসের দাম ৩৪ শতাংশের বেশি বাড়ল উত্তর ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযান: পাকিস্তানের দাবি, সেনা মেজর নিহত, ১২ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত পাকিস্তানে টানা ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, বন্যা ও আকস্মিক ঢলের শঙ্কায় একাধিক প্রদেশ সেউতার অভিবাসী সংকট ঘিরে ইউরোপে দ্বিমুখী নীতি? স্পেন ইস্যুতে বিভক্ত ইইউ, নতুন বিতর্ক রাশিয়ার ‘হুমকি’ কি ইউরোপের নতুন ঐক্যের ভিত্তি? ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমা রাজনীতির সমীকরণ স্বস্তিকা, এসএস প্রতীক ও আজভ কমান্ডারকে ঘিরে বিতর্ক: মার্কিন প্রভাবশালীর প্রশ্নে অস্বস্তিতে আন্দ্রেই বিলেৎসকি মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি

ইরানের ঐতিহ্যের ওপর যুদ্ধের আঘাত: শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

ইরানে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই, আঘাত লেগেছে দেশটির শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপরও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একের পর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু ইরানের ক্ষতি নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি।

ঐতিহ্যের ওপর ধ্বংসের ছায়া

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। বহু পুরনো প্রাসাদ, বাগান ও স্থাপত্যকর্ম আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তেহরানের ঐতিহাসিক গোলেস্তান প্রাসাদের ভেতরের বিখ্যাত আয়না হল ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে বিস্ফোরণের কম্পনে। একইভাবে ইসফাহানের শতাব্দীপ্রাচীন চেহেল সেতুন বাগান ও প্রাসাদেও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এইসব স্থাপনা শুধু স্থাপত্য নয়, বরং ইরানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। বহু শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এসব নিদর্শন এখন যুদ্ধের আঘাতে ভেঙে পড়ছে।

Tehran's Unesco-listed Golestan Palace reportedly damaged by US-Israeli  strikes - The Art Newspaper - International art news and events

মানবজাতির যৌথ ঐতিহ্যের ক্ষতি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কোনো এক দেশের একার সম্পদ নয়। এটি পুরো বিশ্বের যৌথ সম্পদ। তাই একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হওয়া মানে মানব ইতিহাসের একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া।

গবেষকদের মতে, এসব স্থাপনা মানুষের স্মৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এগুলো ধ্বংস হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের অতীত সম্পর্কে জানার সুযোগ হারাবে। ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়বে।

ইচ্ছাকৃত নাকি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এখন পর্যন্ত অধিকাংশ স্থাপনায় হামলা ইচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে আশপাশে বিস্ফোরণ বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি হামলার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভবন সরাসরি লক্ষ্য করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

Iran says museums and historic sites damaged in war | The Straits Times

আইনগত বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এসব স্থাপনার অবস্থান জানানো হলেও, বাস্তবে সেগুলো রক্ষায় যথেষ্ট সতর্কতা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইরান গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর বিশেষ চিহ্নও ব্যবহার করেছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবুও অন্তত কয়েকটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় ঐতিহ্য রক্ষা করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রয়োজন সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার সদিচ্ছা।

ইরানের ঘটনাটি বিশ্বকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—সংঘাত যতই তীব্র হোক, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এসব নিদর্শন হারিয়ে গেলে, মানবজাতির যৌথ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিরতরে মুছে যাবে।

ইরানের ঐতিহ্য ধ্বংসের এই ঘটনা তাই শুধু একটি দেশের নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

Tehran's Golestan Palace damaged, a Persianate mirror shattered | The  Indian Express

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৪

ইরানের ঐতিহ্যের ওপর যুদ্ধের আঘাত: শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

০৬:২৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই, আঘাত লেগেছে দেশটির শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপরও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একের পর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু ইরানের ক্ষতি নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি।

ঐতিহ্যের ওপর ধ্বংসের ছায়া

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। বহু পুরনো প্রাসাদ, বাগান ও স্থাপত্যকর্ম আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তেহরানের ঐতিহাসিক গোলেস্তান প্রাসাদের ভেতরের বিখ্যাত আয়না হল ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে বিস্ফোরণের কম্পনে। একইভাবে ইসফাহানের শতাব্দীপ্রাচীন চেহেল সেতুন বাগান ও প্রাসাদেও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এইসব স্থাপনা শুধু স্থাপত্য নয়, বরং ইরানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। বহু শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এসব নিদর্শন এখন যুদ্ধের আঘাতে ভেঙে পড়ছে।

Tehran's Unesco-listed Golestan Palace reportedly damaged by US-Israeli  strikes - The Art Newspaper - International art news and events

মানবজাতির যৌথ ঐতিহ্যের ক্ষতি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কোনো এক দেশের একার সম্পদ নয়। এটি পুরো বিশ্বের যৌথ সম্পদ। তাই একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হওয়া মানে মানব ইতিহাসের একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া।

গবেষকদের মতে, এসব স্থাপনা মানুষের স্মৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এগুলো ধ্বংস হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের অতীত সম্পর্কে জানার সুযোগ হারাবে। ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়বে।

ইচ্ছাকৃত নাকি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এখন পর্যন্ত অধিকাংশ স্থাপনায় হামলা ইচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে আশপাশে বিস্ফোরণ বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি হামলার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভবন সরাসরি লক্ষ্য করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

Iran says museums and historic sites damaged in war | The Straits Times

আইনগত বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এসব স্থাপনার অবস্থান জানানো হলেও, বাস্তবে সেগুলো রক্ষায় যথেষ্ট সতর্কতা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইরান গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর বিশেষ চিহ্নও ব্যবহার করেছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তবুও অন্তত কয়েকটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় ঐতিহ্য রক্ষা করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রয়োজন সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার সদিচ্ছা।

ইরানের ঘটনাটি বিশ্বকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—সংঘাত যতই তীব্র হোক, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এসব নিদর্শন হারিয়ে গেলে, মানবজাতির যৌথ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিরতরে মুছে যাবে।

ইরানের ঐতিহ্য ধ্বংসের এই ঘটনা তাই শুধু একটি দেশের নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

Tehran's Golestan Palace damaged, a Persianate mirror shattered | The  Indian Express