১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাহুলের প্রত্যাবর্তন, প্রিয়াঙ্কাও পথে—পশ্চিমবঙ্গ ভোটে কংগ্রেসের নতুন জোর

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে: ইতিহাসের সতর্কবার্তা ও এড়ানোর পথ

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই এমন এক দিকের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা আর কল্পনা নয়, বরং বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইতিহাসের নানা শিক্ষা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় যুদ্ধ অনেক সময় পরিকল্পিত নয়, বরং ভুল সিদ্ধান্ত, ভুল বোঝাবুঝি ও দ্রুত পরিস্থিতির অবনতির কারণে হঠাৎ করেই শুরু হয়ে যেতে পারে।

ইতিহাসের সঙ্গে ভয়ংকর মিল

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়ের আশ্চর্য মিল রয়েছে। তখন যেমন বড় শক্তিগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত ছিল, এখনো তেমনই যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশ নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তৎপর। জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং একে অপরের প্রতি সন্দেহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মানুষের মধ্যেও অন্য দেশের প্রতি দোষারোপের প্রবণতা বেড়েছে। এই পারস্পরিক অবিশ্বাস যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

The War of 2026: Phase III Scenario | Proceedings - December 2023 Vol.  149/12/1,450

নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি

ইতিহাস বলছে, বড় যুদ্ধের সিদ্ধান্ত অনেক সময় খুব অল্প কয়েকজন নেতার হাতে নির্ভর করে। কিন্তু এই নেতাদের সিদ্ধান্ত সব সময় বিচক্ষণ হয় না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যেমন কিছু নেতা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তেমনি আজও সেই ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বর্তমান বিশ্বেও দেখা যাচ্ছে, কিছু নেতা দ্রুত জয়লাভের আশায় যুদ্ধ শুরু করলেও তার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেন না। এর ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ে এবং মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে যায়।

প্রযুক্তি ও সময়ের চাপ

আগের তুলনায় এখন প্রযুক্তির উন্নতি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়কে অনেক কমিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সপ্তাহ বা মাস সময় পাওয়া যেত, এখন সেখানে কয়েক মিনিটেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এই দ্রুততার কারণে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাও বাড়ছে, যা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

New Research: Which Country Has the Best Leaders?

ব্যক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা

আরেকটি বড় ঝুঁকি হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা। কিছু দেশের নেতারা নিজেদের প্রায় নির্ভুল ও অপরিহার্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। এতে তারা দুর্বলতা দেখাতে চান না এবং অনেক সময় যুদ্ধকে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন নেতারা প্রায়ই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির চেয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

কীভাবে এড়ানো সম্ভব

বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে হলে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। নেতাদের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎ ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে ভুল বোঝাবুঝি দ্রুত দূর করা যায়।

A Hazard to Human Rights: Autonomous Weapons Systems and Digital  Decision-Making | HRW

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও মহাকাশ গবেষণার মতো বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে আপসের মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দশকে একটি বড় যুদ্ধের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ছোট সংঘাতও বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ রয়েছে।

তাই এখনই সতর্ক না হলে, মানবজাতি আবারও এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে: ইতিহাসের সতর্কবার্তা ও এড়ানোর পথ

০৬:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই এমন এক দিকের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা আর কল্পনা নয়, বরং বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইতিহাসের নানা শিক্ষা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় যুদ্ধ অনেক সময় পরিকল্পিত নয়, বরং ভুল সিদ্ধান্ত, ভুল বোঝাবুঝি ও দ্রুত পরিস্থিতির অবনতির কারণে হঠাৎ করেই শুরু হয়ে যেতে পারে।

ইতিহাসের সঙ্গে ভয়ংকর মিল

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়ের আশ্চর্য মিল রয়েছে। তখন যেমন বড় শক্তিগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত ছিল, এখনো তেমনই যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশ নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তৎপর। জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং একে অপরের প্রতি সন্দেহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মানুষের মধ্যেও অন্য দেশের প্রতি দোষারোপের প্রবণতা বেড়েছে। এই পারস্পরিক অবিশ্বাস যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

The War of 2026: Phase III Scenario | Proceedings - December 2023 Vol.  149/12/1,450

নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি

ইতিহাস বলছে, বড় যুদ্ধের সিদ্ধান্ত অনেক সময় খুব অল্প কয়েকজন নেতার হাতে নির্ভর করে। কিন্তু এই নেতাদের সিদ্ধান্ত সব সময় বিচক্ষণ হয় না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যেমন কিছু নেতা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তেমনি আজও সেই ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বর্তমান বিশ্বেও দেখা যাচ্ছে, কিছু নেতা দ্রুত জয়লাভের আশায় যুদ্ধ শুরু করলেও তার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেন না। এর ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ে এবং মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে যায়।

প্রযুক্তি ও সময়ের চাপ

আগের তুলনায় এখন প্রযুক্তির উন্নতি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়কে অনেক কমিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সপ্তাহ বা মাস সময় পাওয়া যেত, এখন সেখানে কয়েক মিনিটেই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এই দ্রুততার কারণে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাও বাড়ছে, যা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

New Research: Which Country Has the Best Leaders?

ব্যক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থা

আরেকটি বড় ঝুঁকি হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা। কিছু দেশের নেতারা নিজেদের প্রায় নির্ভুল ও অপরিহার্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। এতে তারা দুর্বলতা দেখাতে চান না এবং অনেক সময় যুদ্ধকে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন নেতারা প্রায়ই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির চেয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

কীভাবে এড়ানো সম্ভব

বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে হলে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। নেতাদের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎ ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে ভুল বোঝাবুঝি দ্রুত দূর করা যায়।

A Hazard to Human Rights: Autonomous Weapons Systems and Digital  Decision-Making | HRW

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও মহাকাশ গবেষণার মতো বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে আপসের মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দশকে একটি বড় যুদ্ধের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ছোট সংঘাতও বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ রয়েছে।

তাই এখনই সতর্ক না হলে, মানবজাতি আবারও এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।