১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাহুলের প্রত্যাবর্তন, প্রিয়াঙ্কাও পথে—পশ্চিমবঙ্গ ভোটে কংগ্রেসের নতুন জোর

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এখনও প্রত্যাশার অনেক নিচে

ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বহু সূচকে রাজ্যটি পিছিয়ে রয়েছে। টিকাকরণ ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায় ভর্তির মতো কিছু ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল থাকলেও, বেশিরভাগ সূচকে জাতীয় গড়ের তুলনায় পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

মানব উন্নয়ন সূচক ও অর্থনীতি
২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের মানব উন্নয়ন সূচক ছিল ০.৭১৯, যা জাতীয় গড় ০.৭৩২-এর নিচে। অর্থনৈতিক সূচকেও একই প্রবণতা দেখা যায়। মাথাপিছু নিট রাজ্য আয়ে ২৩টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান ১৬তম, যেখানে গড় আয় প্রায় ১.৬৩ লাখ টাকা। এটি জাতীয় গড় ২.০৫ লাখ টাকার তুলনায় অনেক কম এবং দিল্লি ও তেলেঙ্গানার তুলনায় অনেক পিছিয়ে, যেখানে মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিগুণেরও বেশি।

গ্রামীণ মজুরির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে রাজ্যটি। দৈনিক গড় মজুরি ৩৪৭ টাকা, যেখানে জাতীয় গড় ৩৯৮ টাকা।

স্বাস্থ্য সূচকে কিছু অগ্রগতি
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ১৭, যা জাতীয় গড় ২৫-এর তুলনায় কম। এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ৩০টির মধ্যে ১৪তম। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবহারের হারও জাতীয় গড়ের তুলনায় কম।

তবে অপুষ্টির সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। খর্বকায় শিশুর হার ৩৪ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় সামান্য কম হলেও রাজ্যের অবস্থান ২৯টির মধ্যে ১৯তম।

টিকাকরণে রাজ্যটি দেশের অন্যতম সেরা। প্রায় ৮৮ শতাংশ শিশু সব মৌলিক টিকা পেয়েছে, ফলে এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ৪র্থ।

বিশ্বের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সূচকে শীর্ষ দেশগুলোর চিত্র -

চ্যালেঞ্জের দিকগুলো
এই অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু বড় উদ্বেগও রয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে মাতৃত্ব শুরু করার হার ১৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১০৩, যা জাতীয় গড় ৯৭-এর ওপরে।

নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত মাসিক সুরক্ষা ব্যবহারের হার ৮৩.৪ শতাংশ হলেও, দিল্লি ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের তুলনায় এটি কম। এছাড়া মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

শিক্ষার চিত্র
শিক্ষাক্ষেত্রে চিত্রটি মিশ্র। প্রাথমিক স্তরে ভর্তির হার ১০০ শতাংশ হলেও মাধ্যমিক স্তরে গড় বার্ষিক ঝরে পড়ার হার ১৮ শতাংশ, যা উদ্বেগজনক। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ভর্তির হার ৬২ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের সামান্য বেশি।

উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সমতা বজায় রেখেছে। তবে শিক্ষাবঞ্চিত পুরুষের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, যদিও শিক্ষাবঞ্চিত নারীর হার তুলনামূলকভাবে কম। তবুও সেরা পারফরম্যান্স করা রাজ্যগুলোর সঙ্গে ব্যবধান অনেক।

আসুন না, শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যত নিয়ে একটু ভাবি - Dainik Statesman

জনসংখ্যা ও শিক্ষা বৈষম্য
১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে ১৩ শতাংশের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, যা রাজ্যকে ২৯টির মধ্যে ২৩তম স্থানে রেখেছে। এটি জাতীয় গড় ১০.৭ শতাংশের চেয়ে বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ১৬তম।

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষাবঞ্চিত নারীর হার ১৮.৫ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ২২.৬ শতাংশের তুলনায় কম।

পরিকাঠামো ও পরিবেশ
পরিকাঠামো ও পরিবেশগত সূচকে রাজ্যের পারফরম্যান্স অসম। মাথাপিছু জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম, তবে এটি দক্ষতার চেয়ে অর্থনৈতিক কাঠামোর পার্থক্যের কারণে হতে পারে।

প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, এবং এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ২৩টির মধ্যে ৮ম। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত, প্রতি ১০০ জনে মাত্র ৩৫ জন ব্যবহার করে।

তবে শহুরে আবাসন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। মাত্র ০.৮ শতাংশ পরিবার কাঁচা বাড়িতে বসবাস করে।

সামগ্রিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গ কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখালেও অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণে রাজ্যের উন্নয়ন এখনও প্রত্যাশার অনেক নিচে রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এখনও প্রত্যাশার অনেক নিচে

০৬:৫২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বহু সূচকে রাজ্যটি পিছিয়ে রয়েছে। টিকাকরণ ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায় ভর্তির মতো কিছু ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল থাকলেও, বেশিরভাগ সূচকে জাতীয় গড়ের তুলনায় পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

মানব উন্নয়ন সূচক ও অর্থনীতি
২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের মানব উন্নয়ন সূচক ছিল ০.৭১৯, যা জাতীয় গড় ০.৭৩২-এর নিচে। অর্থনৈতিক সূচকেও একই প্রবণতা দেখা যায়। মাথাপিছু নিট রাজ্য আয়ে ২৩টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান ১৬তম, যেখানে গড় আয় প্রায় ১.৬৩ লাখ টাকা। এটি জাতীয় গড় ২.০৫ লাখ টাকার তুলনায় অনেক কম এবং দিল্লি ও তেলেঙ্গানার তুলনায় অনেক পিছিয়ে, যেখানে মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিগুণেরও বেশি।

গ্রামীণ মজুরির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে রাজ্যটি। দৈনিক গড় মজুরি ৩৪৭ টাকা, যেখানে জাতীয় গড় ৩৯৮ টাকা।

স্বাস্থ্য সূচকে কিছু অগ্রগতি
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ১৭, যা জাতীয় গড় ২৫-এর তুলনায় কম। এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ৩০টির মধ্যে ১৪তম। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবহারের হারও জাতীয় গড়ের তুলনায় কম।

তবে অপুষ্টির সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। খর্বকায় শিশুর হার ৩৪ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় সামান্য কম হলেও রাজ্যের অবস্থান ২৯টির মধ্যে ১৯তম।

টিকাকরণে রাজ্যটি দেশের অন্যতম সেরা। প্রায় ৮৮ শতাংশ শিশু সব মৌলিক টিকা পেয়েছে, ফলে এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ৪র্থ।

বিশ্বের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সূচকে শীর্ষ দেশগুলোর চিত্র -

চ্যালেঞ্জের দিকগুলো
এই অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু বড় উদ্বেগও রয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে মাতৃত্ব শুরু করার হার ১৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১০৩, যা জাতীয় গড় ৯৭-এর ওপরে।

নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত মাসিক সুরক্ষা ব্যবহারের হার ৮৩.৪ শতাংশ হলেও, দিল্লি ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের তুলনায় এটি কম। এছাড়া মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

শিক্ষার চিত্র
শিক্ষাক্ষেত্রে চিত্রটি মিশ্র। প্রাথমিক স্তরে ভর্তির হার ১০০ শতাংশ হলেও মাধ্যমিক স্তরে গড় বার্ষিক ঝরে পড়ার হার ১৮ শতাংশ, যা উদ্বেগজনক। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ভর্তির হার ৬২ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের সামান্য বেশি।

উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সমতা বজায় রেখেছে। তবে শিক্ষাবঞ্চিত পুরুষের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, যদিও শিক্ষাবঞ্চিত নারীর হার তুলনামূলকভাবে কম। তবুও সেরা পারফরম্যান্স করা রাজ্যগুলোর সঙ্গে ব্যবধান অনেক।

আসুন না, শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যত নিয়ে একটু ভাবি - Dainik Statesman

জনসংখ্যা ও শিক্ষা বৈষম্য
১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে ১৩ শতাংশের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, যা রাজ্যকে ২৯টির মধ্যে ২৩তম স্থানে রেখেছে। এটি জাতীয় গড় ১০.৭ শতাংশের চেয়ে বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ১৬তম।

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষাবঞ্চিত নারীর হার ১৮.৫ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ২২.৬ শতাংশের তুলনায় কম।

পরিকাঠামো ও পরিবেশ
পরিকাঠামো ও পরিবেশগত সূচকে রাজ্যের পারফরম্যান্স অসম। মাথাপিছু জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম, তবে এটি দক্ষতার চেয়ে অর্থনৈতিক কাঠামোর পার্থক্যের কারণে হতে পারে।

প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, এবং এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ২৩টির মধ্যে ৮ম। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত, প্রতি ১০০ জনে মাত্র ৩৫ জন ব্যবহার করে।

তবে শহুরে আবাসন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। মাত্র ০.৮ শতাংশ পরিবার কাঁচা বাড়িতে বসবাস করে।

সামগ্রিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গ কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখালেও অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণে রাজ্যের উন্নয়ন এখনও প্রত্যাশার অনেক নিচে রয়ে গেছে।