ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ব এক নম্বর তারকা আন সে-ইয়ং। দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি জিতে নিলেন এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা, আর এর মধ্য দিয়েই পূর্ণ করলেন ক্যারিয়ারের সব বড় আন্তর্জাতিক ট্রফির সংগ্রহ। ফলে নারী এককে তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি ব্যাডমিন্টনের সব বড় শিরোপা নিজের করে নিলেন।
নিংবো অলিম্পিক স্পোর্টস সেন্টারে প্রায় ১০০ মিনিটের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে তিনি হারান চীনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিশ্ব দুই নম্বর ওয়াং ঝিইকে। ম্যাচের স্কোর ছিল ২১-১২, ১৭-২১, ২১-১৮।
কঠিন লড়াইয়ে জয়ের গল্প

ফাইনাল ম্যাচটি ছিল সহনশীলতা আর মানসিক দৃঢ়তার এক বিরাট পরীক্ষা। শুরুটা সমানতালে হলেও প্রথম গেমে এগিয়ে গিয়ে আর পেছনে তাকাননি আন। দ্বিতীয় গেমে ওয়াং শক্তভাবে ফিরে এসে ম্যাচে সমতা ফেরান।
শেষ গেমে আন শুরুতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও ওয়াং দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই জমিয়ে তোলেন। এক পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ১৯-১৮। তবে শেষ মুহূর্তে নিজের স্নায়ু ধরে রেখে ম্যাচ জিতে নেন আন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি মার্চে অল ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওয়াংয়ের কাছে হারের প্রতিশোধও নিলেন। একই সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে নিজের আধিপত্য আরও মজবুত করলেন।
পূর্ণ হলো স্বপ্নের ‘ক্যারিয়ার সুইপ’
এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে আন সে-ইয়ং সম্পন্ন করলেন এক অনন্য কীর্তি—অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালস, অল ইংল্যান্ড, এশিয়ান গেমস ও এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপ—সব বড় ট্রফি এখন তার দখলে।
মাত্র ২৪ বছর বয়সেই এই কৃতিত্ব অর্জন করে তিনি ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এই রেকর্ড গড়লেন।
আন বলেন, নিংবোতে আসার পর থেকেই তিনি শুনছিলেন এই একটি ট্রফিই তার সংগ্রহে বাকি। সেই চাপ থাকলেও তিনি নিজেকে শুধু প্রতিটি ম্যাচে মনোযোগী থাকতে বলেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন।
দর্শকের চাপ সামলে দারুণ পারফরম্যান্স
ঘরের মাঠে সমর্থকদের প্রবল সমর্থন পেয়েছিলেন ওয়াং ঝিই। গ্যালারির আওয়াজ অনেক সময় চাপে ফেলতে পারত, কিন্তু অভিজ্ঞতার জোরে আন নিজের মনোযোগ ধরে রাখেন।
তিনি বলেন, ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো ছিল একেবারে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া লড়াই। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়ে তিনি ভীষণ কৃতজ্ঞ ও স্বস্তি অনুভব করছেন।
অন্য বিভাগেও দাপট
পুরুষ এককে চীনের শি ইউকি একতরফা জয়ে নিজের প্রথম এশিয়া শিরোপা জিতেছেন। তিনি ভারতের তরুণ খেলোয়াড় আয়ুশ শেট্টিকে সহজেই হারান।

নারী দ্বৈতে চীনের জুটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর মিশ্র দ্বৈতে দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াকওভার পেয়ে শিরোপা জিতে নেয়। পুরুষ দ্বৈতেও কোরিয়ার জুটি অপরাজিত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জয় পায়।
সব মিলিয়ে পাঁচটি ইভেন্টের মধ্যে তিনটিতে শিরোপা জিতে দক্ষিণ কোরিয়া ২২ বছরের মধ্যে তাদের সেরা সাফল্য তুলে ধরে।
এশিয়ায় কোরিয়ার আধিপত্য
এই আসরে দক্ষিণ কোরিয়ার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। একাধিক বিভাগে জয় তুলে নিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে তাদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় হচ্ছে।
আন সে-ইয়ংয়ের এই ঐতিহাসিক কীর্তি শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের জন্যই এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















