প্রতি বছর এপ্রিল এলেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহর ঘিরে জমে ওঠে বিলাসবহুল ঘড়ির প্রদর্শনী। বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের জমকালো আয়োজনের পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ—‘ক্রোনোপলিস’ নামে নতুন এক ঘড়ি মেলা, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণ ও স্বাধীন ব্র্যান্ডগুলো।
তরুণদের উদ্যোগে নতুন পথচলা
গত কয়েক বছর ধরে কিছু উদীয়মান ব্র্যান্ড একসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট হোটেলে নিজেদের প্রদর্শনী করত। কিন্তু এবার সেই জায়গা না পাওয়ায় তারা নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য হয়। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি ব্র্যান্ড একত্রিত হয়ে নিজস্ব মেলার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই উদ্যোগের দায়িত্ব পরে একটি তরুণ যোগাযোগ সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়, যারা পুরো আয়োজনকে আধুনিক ও সৃজনশীল রূপ দেয়।
‘ক্রোনোপলিস’ নামের পেছনের ভাবনা
এই মেলার নাম নেওয়া হয়েছে ১৯৮২ সালের একটি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র থেকে, যেখানে সময়কে একটি সৃষ্ট ধারণা হিসেবে দেখানো হয়। সেই ভাবনা থেকেই মেলার নকশা ও পরিবেশে আনা হয়েছে এক ধরনের ভবিষ্যতধর্মী ও শিল্পময় আবহ। আয়োজকরা চেয়েছেন প্রচলিত বিলাসবহুল প্রদর্শনীর বাইরে গিয়ে নতুন এক অভিজ্ঞতা দিতে।
ভিন্নধর্মী পরিবেশ ও আয়োজন
মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি পুরোনো কসাইখানায়, যা বর্তমানে একটি আধুনিক ব্রাসারিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ব্র্যান্ডের জন্য সমান আকার ও নকশার প্রদর্শনী জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বড়-ছোট বিভাজন না রেখে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ঐতিহ্যের বাইরে নতুন ভাষা
প্রচলিত ঘড়ি ব্র্যান্ডগুলো যেখানে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সামনে আনে, সেখানে ক্রোনোপলিসের অংশগ্রহণকারীরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং স্বাধীনতার ওপর। আয়োজকদের মতে, এটি মূলত “নতুন ধারার ঘড়ি নির্মাণের একটি মঞ্চ”, যেখানে তরুণ নির্মাতারা নিজেদের ভাবনা তুলে ধরতে পারছেন।
কমিউনিটির শক্তি
এই মেলার অন্যতম বড় দিক হলো অংশগ্রহণকারী ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা। ঘড়িপ্রেমীদের জন্য এটি শুধু পণ্য দেখার জায়গা নয়, বরং একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রও। অনেক ব্র্যান্ডের জন্য এটি সুইস বাজারে নিজেদের প্রথম বড় সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বড় মেলার নজরেও নতুন উদ্যোগ
জেনেভার ঐতিহ্যবাহী বড় মেলাগুলোও এই নতুন উদ্যোগের দিকে নজর দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে ছোট ও স্বাধীন ব্র্যান্ডগুলোর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই শিল্পে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















