সাতাশ বছর বয়সী নেপালি যুবক পুষ্পকুমার চৌধুরী তিন মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি রেস্টুরেন্টে বাবুর্চি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে, তাকে দেশে ফিরতে হয়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জিসিসিভুক্ত ছয় দেশে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ২ কোটির বেশি, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলায় যে দুই ডজনের বেশি মানুষ মারা গেছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি ভারতীয়, নেপালি ও পাকিস্তানি অভিবাসী শ্রমিক।
বাংলাদেশের ধাক্কা সবচেয়ে তীব্র
চলতি বছরের মার্চে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন মাত্র ৩১ হাজার ২৭৯ জন বাংলাদেশি, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯২ হাজার ৪৬০। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ৬.৫ শতাংশ। নেপালের ক্ষেত্রে এই হার ২৫ শতাংশ, বিশাল ভারতে ৩.৫ শতাংশ। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের হিসাব অনুযায়ী, জিসিসি দেশগুলোর জিডিপিতে ১ থেকে ২ শতাংশ সংকোচন হলে প্রবাসী আয় সাধারণত ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে। বিশ্ব ব্যাংক সতর্ক করেছে, এ বছরই জিসিসিতে ঠিক এমন সংকোচন দেখা দিতে পারে। সৌদি আরবে মাছ ধরার ফার্মে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসা সাইমুম ইসলাম বলেছেন, মাত্র বিয়ে করেছেন, ছয়জন তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল, সেই আয় এখন বন্ধ।

নতুন দরজার সন্ধানে, মালয়েশিয়া ফের খুলছে বাজার
বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির প্রধান আলী হায়দার চৌধুরী বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে শ্রমিকদের জন্য নতুন দরজা খুলতে হবে এবং বাংলাদেশের দরকার সক্রিয় শ্রম কূটনীতি। নেপালিদের মধ্যে জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা শেখার হার বেড়েছে। তবে জাপানের জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার ৫ শতাংশ অভিবাসী, যেখানে জিসিসিতে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ। গত ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া জানিয়েছে, দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য তাদের শ্রম বাজার আবার খুলে দেবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে কেবল চাকরির সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি নেই, অসাধু নিয়োগকর্তা ও এজেন্টদের দ্বারা শ্রমিকদের শোষণ ঠেকানোরও অঙ্গীকার আছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















