সংসদে দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমীন ফারহানা বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একাধিক আশ্বাসের পরও দেশে মব ভায়োলেন্স বন্ধ হচ্ছে না। তিনি জানান, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে একের পর এক এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।
সংসদে বক্তব্য: আশ্বাসের পরও বাস্তবতা ভিন্ন
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় উত্থাপিত জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বহুবার বলেছেন দেশে মব ভায়োলেন্স থাকবে না, দণ্ডহীনতার সুযোগ থাকবে না এবং মানুষ বিচার পাবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে—ক্রমাগত ঘটছে নতুন নতুন মব ভায়োলেন্সের ঘটনা।
দেশের পরিচয়ে ‘মব সংস্কৃতি’র ছাপ
রুমীন ফারহানা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন নৃত্য, সংগীত, অভিনয় বা কবিতার জন্য পরিচিত, তেমনি গত দেড় বছর এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুই মাসে বাংলাদেশে এক ধরনের ‘মব সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে। এই প্রবণতা দেশের ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগজনক।
বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা
তিনি অভিযোগ করেন, জনতার চাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অপসারণ, বার্তা সংস্থার প্রধানের হয়রানি, বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মব আচরণেরই উদাহরণ। পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে
তিনি বলেন, এসব সহিংসতার ফলে প্রাণহানিও ঘটছে। প্রায় দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে এক সন্দেহভাজন ডাকাতকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় এক পীরকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
বিচারহীনতা ও ক্ষোভই মূল কারণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুমীন ফারহানা বলেন, যখন মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন এমন ঘটনা বাড়তে থাকে। তার ভাষায়, সমাজে হতাশা, ক্ষোভ এবং চরম বৈষম্য রয়েছে, আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের আলোচিত হত্যাকাণ্ডেরও দীর্ঘ সময় পর এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি, যা দণ্ডহীনতার সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















