১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন-জাপান সামরিক মহড়া নিয়ে চীনের সতর্কবার্তা, আঞ্চলিক আস্থার ঝুঁকির আশঙ্কা মধ্যআকাশে আতঙ্ক: খারাপ আবহাওয়ায় ৪ ঘণ্টা চক্কর, যাত্রীদের কান্না-প্রার্থনায় ভরে ওঠে বিমান মণিপুরে আগুন লাগিয়েছে বিজেপি, তামিলনাড়ুতেও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা—রাহুল গান্ধীর অভিযোগ নাচ গানের মতো মব ভায়োলেন্সও গত দুই বছরে আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ হতে চলেছে —রুমীন ফারহানা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে চীনা গণমাধ্যমের ভারসাম্য উদ্বোধনের আগের দিনই রাজস্থানের পাচপদ্রা রিফাইনারিতে আগুন, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ক্যাম্বোডিয়ায় সাইবার প্রতারণার সাম্রাজ্য: বিলিয়ন ডলারের ‘স্ক্যামবডিয়া’ কীভাবে গড়ে উঠল সৌদি আরব কি ভারসাম্যের কৌশল ধরে রাখতে পারবে? ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে উপসাগরের শক্তির সমীকরণ এক্সন, শেভরন, বিপি ও টোটালএনার্জিসের নতুন দৌড়: মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি এড়িয়ে বিশ্বজুড়ে তেল অনুসন্ধান বাড়ছে কীভাবে জন মেইনার্ড কেইনস পুঁজিবাদকে নিজের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে চীনা গণমাধ্যমের ভারসাম্য

বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোর কভারেজে চীনা গণমাধ্যম কীভাবে রাষ্ট্রের নীতি ও জনমতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেই বাস্তবতার দিকগুলো তুলে ধরেছেন সাংহাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পেপার’-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও প্রকাশক উ টিং। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিবেদনে—বিশেষ করে বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে—বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

রাষ্ট্রনীতি ও জনমতের মধ্যে ভারসাম্য

সাংহাইয়ে সফররত বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় উ টিং বলেন, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা কখনও কখনও বিশেষজ্ঞ বা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তবে সরাসরি গণমাধ্যমের সমালোচনার বাইরে মতামত জানানোর আরও বিভিন্ন পথ রয়েছে।

তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে ‘থিংক ট্যাঙ্ক’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা আলোচনা আয়োজন করে এবং গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

আইন মেনে চলার পাশাপাশি বহুমাত্রিক পাঠক চাহিদা

উ টিং স্বীকার করেন, চীনের গণমাধ্যমকে আইন ও কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ম মেনে চলতে হয়। তবে একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন শ্রেণির পাঠকের চাহিদা পূরণেও সচেষ্ট, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী সমাজের জন্য।

তিনি বলেন, তাদের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ও সমালোচনামূলক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়, তবে তা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলকভাবে। একই সঙ্গে তারা এমন ভুয়া বা অতিরঞ্জিত তথ্য থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে, যা জনপ্রিয়তা পেলেও সঠিক নয়।

Chinese Influence Operations in Bangladesh

একদলীয় ব্যবস্থায়ও বহুমত তুলে ধরার সুযোগ

বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উ টিং বলেন, চীন একদলীয় ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের কভারেজের কথা উল্লেখ করেন। এই ধরনের প্রতিবেদনে সাংবাদিকরা অনেক সময় সরকারি অবস্থানের বাইরে গিয়ে বেসরকারি সংস্থা বা অন্যান্য পক্ষের মতামতও তুলে ধরেন, যাতে বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা যায়।

তথ্য সংগ্রহে বহুমুখী উৎসের ব্যবহার

বাংলাদেশ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে উ টিং জানান, তারা একাধিক উৎস ব্যবহার করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া প্রাথমিক ও নির্ভরযোগ্য প্রেক্ষাপট দেয়, তবে তারা শুধু একটি সূত্রের ওপর নির্ভর করেন না।

নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তারা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও বিবেচনায় নেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় বাস্তবতাও বোঝার চেষ্টা করা হয়।

নিরপেক্ষতা ও মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি

উ টিং বলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে পাঠকদের সামনে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা এবং উচ্চমান বজায় রাখা। তিনি মনে করেন, এই নিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক উপস্থাপনাই পাঠকদের তাদের প্ল্যাটফর্মের প্রতি আস্থা তৈরি করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন-জাপান সামরিক মহড়া নিয়ে চীনের সতর্কবার্তা, আঞ্চলিক আস্থার ঝুঁকির আশঙ্কা

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে চীনা গণমাধ্যমের ভারসাম্য

০৮:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোর কভারেজে চীনা গণমাধ্যম কীভাবে রাষ্ট্রের নীতি ও জনমতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেই বাস্তবতার দিকগুলো তুলে ধরেছেন সাংহাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পেপার’-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও প্রকাশক উ টিং। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিবেদনে—বিশেষ করে বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে—বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

রাষ্ট্রনীতি ও জনমতের মধ্যে ভারসাম্য

সাংহাইয়ে সফররত বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় উ টিং বলেন, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা কখনও কখনও বিশেষজ্ঞ বা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তবে সরাসরি গণমাধ্যমের সমালোচনার বাইরে মতামত জানানোর আরও বিভিন্ন পথ রয়েছে।

তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে ‘থিংক ট্যাঙ্ক’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা আলোচনা আয়োজন করে এবং গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

আইন মেনে চলার পাশাপাশি বহুমাত্রিক পাঠক চাহিদা

উ টিং স্বীকার করেন, চীনের গণমাধ্যমকে আইন ও কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ম মেনে চলতে হয়। তবে একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন শ্রেণির পাঠকের চাহিদা পূরণেও সচেষ্ট, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী সমাজের জন্য।

তিনি বলেন, তাদের সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ও সমালোচনামূলক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়, তবে তা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলকভাবে। একই সঙ্গে তারা এমন ভুয়া বা অতিরঞ্জিত তথ্য থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে, যা জনপ্রিয়তা পেলেও সঠিক নয়।

Chinese Influence Operations in Bangladesh

একদলীয় ব্যবস্থায়ও বহুমত তুলে ধরার সুযোগ

বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উ টিং বলেন, চীন একদলীয় ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের কভারেজের কথা উল্লেখ করেন। এই ধরনের প্রতিবেদনে সাংবাদিকরা অনেক সময় সরকারি অবস্থানের বাইরে গিয়ে বেসরকারি সংস্থা বা অন্যান্য পক্ষের মতামতও তুলে ধরেন, যাতে বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা যায়।

তথ্য সংগ্রহে বহুমুখী উৎসের ব্যবহার

বাংলাদেশ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে উ টিং জানান, তারা একাধিক উৎস ব্যবহার করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া প্রাথমিক ও নির্ভরযোগ্য প্রেক্ষাপট দেয়, তবে তারা শুধু একটি সূত্রের ওপর নির্ভর করেন না।

নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তারা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও বিবেচনায় নেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় বাস্তবতাও বোঝার চেষ্টা করা হয়।

নিরপেক্ষতা ও মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি

উ টিং বলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে পাঠকদের সামনে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা এবং উচ্চমান বজায় রাখা। তিনি মনে করেন, এই নিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক উপস্থাপনাই পাঠকদের তাদের প্ল্যাটফর্মের প্রতি আস্থা তৈরি করে।