০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

নারীর ভোটে রেকর্ড ভাঙল পশ্চিমবঙ্গ, ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতি

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। এবার মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা রাজ্যের যেকোনো বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ডের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ—পুরুষদের তুলনায় এবারও বেশি সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন তারা।

নারীর অংশগ্রহণেই বদলে যাচ্ছে ভোটের চিত্র
নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, এবার নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯৩.২৪ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার ৯১.৭৪ শতাংশ। ২০১১ সালের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটাররা নিয়মিতভাবে পুরুষদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতা এবার আরও জোরালো হয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচনে যেখানে মোট ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ, সেখানে নারী ভোটারদের হার ছিল ৮৪.৪৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ৮৪.২২ শতাংশ।

পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা, ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নারী ভোটাররা ধারাবাহিকভাবে বেশি অংশ নিয়েছেন। শুধু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষদের চেয়ে কম ছিল।

জামায়াতসহ ৩০টির বেশি দলে নেই নারী প্রার্থী, কিন্তু কেন? - BBC News বাংলা

ইতিহাসে পিছিয়ে থেকে এগিয়ে আসা
দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় কম ছিল। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে যেখানে পুরুষদের ভোটদানের হার ছিল ৬১.৭৭ শতাংশ, সেখানে নারীদের ছিল মাত্র ৪৭.৪৩ শতাংশ। তবে সময়ের সঙ্গে এই ব্যবধান কমতে থাকে। ২০০৯ সালের মধ্যে নারীরা প্রায় পুরুষদের সমান অবস্থানে পৌঁছে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষণ চালু হওয়া এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। ধীরে ধীরে নারীরা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিতে শুরু করেন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও প্রভাব ফেলেছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় ভোটের সময় তারা উপস্থিত থাকতে পারেন না। অন্যদিকে, নারীরা নিয়মিতভাবে ভোট দিতে আসছেন, যা নারী ভোটারদের হার বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নারীকেন্দ্রিক নীতির প্রভাব
রাজনীতিতে নারীদের এই অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচিও ভূমিকা রেখেছে। মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে কন্যাশ্রী, বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তায় রূপশ্রী এবং নারীদের জন্য মাসিক ভাতা হিসেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—এসব উদ্যোগ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ শুধু একটি নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় উপস্থিতি ভবিষ্যতের নির্বাচনী ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

নারীর ভোটে রেকর্ড ভাঙল পশ্চিমবঙ্গ, ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতি

০৫:১৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। এবার মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা রাজ্যের যেকোনো বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ডের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ—পুরুষদের তুলনায় এবারও বেশি সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন তারা।

নারীর অংশগ্রহণেই বদলে যাচ্ছে ভোটের চিত্র
নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, এবার নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৯৩.২৪ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার ৯১.৭৪ শতাংশ। ২০১১ সালের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটাররা নিয়মিতভাবে পুরুষদের ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতা এবার আরও জোরালো হয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচনে যেখানে মোট ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ, সেখানে নারী ভোটারদের হার ছিল ৮৪.৪৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ৮৪.২২ শতাংশ।

পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা, ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নারী ভোটাররা ধারাবাহিকভাবে বেশি অংশ নিয়েছেন। শুধু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষদের চেয়ে কম ছিল।

জামায়াতসহ ৩০টির বেশি দলে নেই নারী প্রার্থী, কিন্তু কেন? - BBC News বাংলা

ইতিহাসে পিছিয়ে থেকে এগিয়ে আসা
দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় কম ছিল। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে যেখানে পুরুষদের ভোটদানের হার ছিল ৬১.৭৭ শতাংশ, সেখানে নারীদের ছিল মাত্র ৪৭.৪৩ শতাংশ। তবে সময়ের সঙ্গে এই ব্যবধান কমতে থাকে। ২০০৯ সালের মধ্যে নারীরা প্রায় পুরুষদের সমান অবস্থানে পৌঁছে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষণ চালু হওয়া এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। ধীরে ধীরে নারীরা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিতে শুরু করেন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও প্রভাব ফেলেছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় ভোটের সময় তারা উপস্থিত থাকতে পারেন না। অন্যদিকে, নারীরা নিয়মিতভাবে ভোট দিতে আসছেন, যা নারী ভোটারদের হার বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নারীকেন্দ্রিক নীতির প্রভাব
রাজনীতিতে নারীদের এই অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচিও ভূমিকা রেখেছে। মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে কন্যাশ্রী, বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তায় রূপশ্রী এবং নারীদের জন্য মাসিক ভাতা হিসেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—এসব উদ্যোগ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ শুধু একটি নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় উপস্থিতি ভবিষ্যতের নির্বাচনী ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।