মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বাড়তি সামরিক ব্যয়ের পরিকল্পনা সাধারণভাবে অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের জন্য লাভজনক হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিক্রি বাড়লেও বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমছে—যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চাহিদা বাড়লেও বাজারে আস্থা কম
ইরান সংঘাত শুরুর পর উন্নত মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটও কয়েক বছরের বড় অর্ডারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে RTX, Northrop Grumman এবং Boeing শক্তিশালী ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। Northrop Grumman-এর প্রধান নির্বাহী Kathy Warden বলেছেন, বিশ্বজুড়ে তাদের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।

শেয়ারদরে পতন
তবুও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা সূচক প্রায় ১০% কমেছে, যেখানে একই সময়ে S&P 500 সূচক ৩% বেড়েছে।
এর কারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হবে, যা স্বল্পমেয়াদে মুনাফা কমাতে পারে।
সরবরাহ সমস্যা ও উৎপাদন খরচ
Lockheed Martin সরবরাহ শৃঙ্খল সমস্যার কারণে F-16 ও C-130 বিমানের ডেলিভারিতে বিলম্বের মুখে পড়েছে, যা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে RTX-এর Raytheon ইউনিটে Patriot ও Standard Missile বিক্রি বেড়ে আয় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। Lockheed-এর মিসাইল বিভাগেও ৮% বিক্রি বেড়েছে।

উৎপাদন বাড়াতে বড় বিনিয়োগ
চাহিদা মেটাতে কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে। Northrop Grumman ইতিমধ্যে একাধিক মিসাইলের জন্য রকেট মোটর উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে।
তবে এই সম্প্রসারণের জন্য বড় বিনিয়োগ দরকার। উদাহরণ হিসেবে, Northrop Grumman তাদের B-21 স্টেলথ বোমারু উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা স্বল্পমেয়াদে লাভে চাপ ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংগ্রেস কতটা বড় বাজেট অনুমোদন করবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বড় প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়লেও তা ধীরে ধীরে আসতে পারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও বাস্তবতা জটিল—বিক্রি বাড়ছে, কিন্তু বিনিয়োগ, সরবরাহ সমস্যা ও অনিশ্চয়তার কারণে শেয়ারদরে চাপ তৈরি হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















