০১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পরীক্ষায় বাস্তব ওয়েবসাইটে অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ গাজা পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি ইসরায়েল, জানালেন নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা: আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকার পাঁচ মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিট কমান্ডারের শ্রদ্ধা শিখা অনির্বাণে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ঢাকায় বৈঠক সিলেটে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৮ হুথিরা কারা? লোহিত সাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার পর আবারও আলোচনায় ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ায় মোতায়েনের দাবি ইউক্রেনের, শীতের আগে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তানের সামনে সিরিজ সমতায় ফেরার হাতছানি, স্পিন ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে, দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সাইবার হামলায় ঝুঁকিতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ

সিআইএর গোপন অভিযান নিয়ে তোলপাড় মেক্সিকো, ড্রাগ কার্টেলের বিরুদ্ধে বাড়ছে মার্কিন তৎপরতা

মেক্সিকোতে ড্রাগ কার্টেলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযান নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানীর কাছে এক বিস্ফোরণে কথিত এক কার্টেল সদস্য নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে।

মার্চের শেষ দিকে ব্যস্ত মহাসড়কে চলন্ত একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফ্রান্সিসকো বেলত্রান নামে এক ব্যক্তি, যিনি “এল পায়িন” নামে পরিচিত ছিলেন। মেক্সিকোর নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সিনালোয়া কার্টেলের মধ্যম সারির সদস্য ছিলেন।

গোপন অভিযান নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে সিআইএর বিশেষ ইউনিট সহায়তা করেছে। গাড়ির ভেতরে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি, তবু মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে কার্টেলবিরোধী কঠোর কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখন 'লাইফ সাপোর্টে': ট্রাম্প | The Daily Star

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকটি মেক্সিকান কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অভিযান আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেক্সিকোর ক্ষোভ

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এই ধরনের গোপন বিদেশি অভিযানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মেক্সিকোর মাটিতে কোনো বিদেশি সংস্থার স্বাধীনভাবে অভিযান চালানোর অধিকার নেই। দেশটির আইন অনুযায়ী বিদেশি এজেন্টদের কার্যক্রমের বিষয়ে সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেক জটিল। একদিকে কার্টেল দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দরকার, অন্যদিকে অতিরিক্ত মার্কিন হস্তক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কা

A new path for Mexico? | World Finance

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ধরনের অভিযান আরও বড় সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। কার্টেলগুলো প্রতিশোধ নিতে সীমান্তের দুই পাশেই হামলা বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে মেক্সিকোর বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন, গুলিবর্ষণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারাও উদ্বিগ্ন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ কার্টেল সদস্যদের একটি বড় অংশ নিয়মিত সীমান্ত অতিক্রম করে চলাচল করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

বিশ্লেষকদের মতে, এখন শুধু কার্টেল প্রধানদের নয়, পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই মাঝারি পর্যায়ের সদস্যদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মতো কৌশল ব্যবহার করে মেক্সিকোতেও গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সম্পর্কও নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Preserving and Strengthening the U.S.-Mexico Relationship - Center for  American Progress

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ, পরীক্ষায় বাস্তব ওয়েবসাইটে অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

সিআইএর গোপন অভিযান নিয়ে তোলপাড় মেক্সিকো, ড্রাগ কার্টেলের বিরুদ্ধে বাড়ছে মার্কিন তৎপরতা

০১:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মেক্সিকোতে ড্রাগ কার্টেলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযান নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানীর কাছে এক বিস্ফোরণে কথিত এক কার্টেল সদস্য নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে।

মার্চের শেষ দিকে ব্যস্ত মহাসড়কে চলন্ত একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফ্রান্সিসকো বেলত্রান নামে এক ব্যক্তি, যিনি “এল পায়িন” নামে পরিচিত ছিলেন। মেক্সিকোর নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সিনালোয়া কার্টেলের মধ্যম সারির সদস্য ছিলেন।

গোপন অভিযান নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে সিআইএর বিশেষ ইউনিট সহায়তা করেছে। গাড়ির ভেতরে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি, তবু মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে কার্টেলবিরোধী কঠোর কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখন 'লাইফ সাপোর্টে': ট্রাম্প | The Daily Star

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকটি মেক্সিকান কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অভিযান আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেক্সিকোর ক্ষোভ

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এই ধরনের গোপন বিদেশি অভিযানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মেক্সিকোর মাটিতে কোনো বিদেশি সংস্থার স্বাধীনভাবে অভিযান চালানোর অধিকার নেই। দেশটির আইন অনুযায়ী বিদেশি এজেন্টদের কার্যক্রমের বিষয়ে সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেক জটিল। একদিকে কার্টেল দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দরকার, অন্যদিকে অতিরিক্ত মার্কিন হস্তক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কা

A new path for Mexico? | World Finance

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ধরনের অভিযান আরও বড় সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। কার্টেলগুলো প্রতিশোধ নিতে সীমান্তের দুই পাশেই হামলা বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে মেক্সিকোর বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন, গুলিবর্ষণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারাও উদ্বিগ্ন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ কার্টেল সদস্যদের একটি বড় অংশ নিয়মিত সীমান্ত অতিক্রম করে চলাচল করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

বিশ্লেষকদের মতে, এখন শুধু কার্টেল প্রধানদের নয়, পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই মাঝারি পর্যায়ের সদস্যদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মতো কৌশল ব্যবহার করে মেক্সিকোতেও গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সম্পর্কও নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Preserving and Strengthening the U.S.-Mexico Relationship - Center for  American Progress