০৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
ছোট ফ্ল্যাটে বড় স্বপ্ন, অবসরে ঘর সাজাতে লাখ লাখ টাকা খরচ চোখের সামনে যা দেখছেন, সব সত্য নয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বাড়ছে ভয়ংকর প্রতারণা ফিলিপাইনে ‘চীনা গুপ্তচর’ বিতর্কের আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা ও মানবপাচারের জাল জলবায়ু পরিবর্তনে কফি বিলুপ্তির শঙ্কা, হারিয়ে যাওয়া এক উদ্ভিদেই আশার আলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে বাংলাদেশ, সুদের হারভিত্তিক নীতি থেকে সরে আসার ভাবনা গ্যাস সংকট আরও তীব্র, ঢাকার লাখো চুলায় আগুন জ্বলছে না ডলারের নিখুঁত জাল নোট তৈরির ‘শিল্পী’কে ধরতে কলম্বিয়ায় অভিযান স্মার্টফোনের যুগেও আফ্রিকায় অপ্রতিরোধ্য রেডিও, তরুণদের কাছেও জনপ্রিয় আফ্রিকায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব, খরচ বাঁচাতে বাড়ছে ব্যবহার আফ্রিকায় ফিরছে মেগাপ্রকল্পের জোয়ার, দ্রুত প্রবৃদ্ধির আশায় বাড়ছে বড় বিনিয়োগ

কাতারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ মিশন, ব্যর্থতার দাগ মুছতে পারবে কি আল আনাবি?

২০২২ বিশ্বকাপ ছিল কাতারের জন্য এক ঐতিহাসিক আয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের ছোট এই দেশ প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। স্টেডিয়াম, আয়োজন, দর্শক অভিজ্ঞতা এবং নাটকীয় ফাইনাল—সব মিলিয়ে সেই টুর্নামেন্টকে এখনো সফল হিসেবেই মনে করেন অনেকেই। কিন্তু একটি জায়গায় কাতার ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছিল, আর সেটি হলো তাদের জাতীয় দলের পারফরম্যান্স।

নিজেদের মাটিতে খেলেও কাতার একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। ইকুয়েডর, সেনেগাল এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দলটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের এমন হতাশাজনক অভিষেক খুব কমই দেখা গেছে।

নতুন স্বপ্ন, পুরোনো চাপ

কাতার এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে যাচ্ছে। তবে দলটিকে ঘিরে এখনো বড় প্রশ্ন—তারা কি আগের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারবে?

২০২২ সালের আগে কাতারকে এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখা হয়েছিল। ২০১৯ এশিয়ান কাপ জয়ের পর দলটি নিয়ে প্রত্যাশাও বেড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর কোচ ফেলিক্স সানচেজের পাঁচ বছরের অধ্যায় শেষ হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লোস কুইরোজ। তবে সেই অধ্যায়ও দীর্ঘ হয়নি। এশিয়ান কাপের আগমুহূর্তে তাকে বিদায় করা হয়। পরে টিনটিন মার্কেজকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি দলকে আবারও এশিয়ান কাপ জিতিয়ে সাফল্য এনে দেন।

কোচ বদল আর অনিশ্চয়তা

এশিয়ান কাপ জয়ের পরও কাতারের পথ মসৃণ ছিল না। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দলটি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় হার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সহকারী কোচ লুইস গার্সিয়াকে অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। পরে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন হুলেন লোপেতেগি। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাতারকে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলাতে পারেননি।

২০২৫ আরব কাপে কাতারের হতাশাজনক গ্রুপ পর্ব বিদায় সমর্থকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Qatar qualify for FIFA World Cup 2026 following violence-marred UAE win -  Doha News | Qatar

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও কাতারের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। দেশটির ঘরোয়া লিগ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। মার্চে সার্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচও বাতিল হয়ে যায়।

এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। যেহেতু জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় স্থানীয় লিগে খেলেন, তাই নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভাবও সমস্যা তৈরি করছে।

সহজ গ্রুপ, কিন্তু আত্মবিশ্বাস কম

এবার তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে কাতার। এমনকি তৃতীয় স্থান নিয়েও শেষ ষোলোতে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তারপরও সমর্থকদের ভরসা খুব বেশি নয়। কারণ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দলটি স্থিরতা দেখাতে পারেনি।

তবে কাতারের জন্য ইতিবাচক দিকও আছে। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে আগের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগতে পারে। প্রথমবারের মতো চাপ সামলানোর পরিবর্তে এবার তারা জানে বিশ্বকাপের বাস্তবতা কত কঠিন।

এখন দেখার বিষয়, ২০২২ সালের দুঃস্বপ্ন ভুলে কাতার কি নতুন ইতিহাস লিখতে পারে, নাকি আবারও হতাশাই সঙ্গী হবে আল আনাবির।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট ফ্ল্যাটে বড় স্বপ্ন, অবসরে ঘর সাজাতে লাখ লাখ টাকা খরচ

কাতারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ মিশন, ব্যর্থতার দাগ মুছতে পারবে কি আল আনাবি?

০৬:৫২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

২০২২ বিশ্বকাপ ছিল কাতারের জন্য এক ঐতিহাসিক আয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের ছোট এই দেশ প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। স্টেডিয়াম, আয়োজন, দর্শক অভিজ্ঞতা এবং নাটকীয় ফাইনাল—সব মিলিয়ে সেই টুর্নামেন্টকে এখনো সফল হিসেবেই মনে করেন অনেকেই। কিন্তু একটি জায়গায় কাতার ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছিল, আর সেটি হলো তাদের জাতীয় দলের পারফরম্যান্স।

নিজেদের মাটিতে খেলেও কাতার একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। ইকুয়েডর, সেনেগাল এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দলটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের এমন হতাশাজনক অভিষেক খুব কমই দেখা গেছে।

নতুন স্বপ্ন, পুরোনো চাপ

কাতার এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে যাচ্ছে। তবে দলটিকে ঘিরে এখনো বড় প্রশ্ন—তারা কি আগের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারবে?

২০২২ সালের আগে কাতারকে এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখা হয়েছিল। ২০১৯ এশিয়ান কাপ জয়ের পর দলটি নিয়ে প্রত্যাশাও বেড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর কোচ ফেলিক্স সানচেজের পাঁচ বছরের অধ্যায় শেষ হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লোস কুইরোজ। তবে সেই অধ্যায়ও দীর্ঘ হয়নি। এশিয়ান কাপের আগমুহূর্তে তাকে বিদায় করা হয়। পরে টিনটিন মার্কেজকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি দলকে আবারও এশিয়ান কাপ জিতিয়ে সাফল্য এনে দেন।

কোচ বদল আর অনিশ্চয়তা

এশিয়ান কাপ জয়ের পরও কাতারের পথ মসৃণ ছিল না। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দলটি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় হার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সহকারী কোচ লুইস গার্সিয়াকে অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। পরে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন হুলেন লোপেতেগি। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাতারকে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলাতে পারেননি।

২০২৫ আরব কাপে কাতারের হতাশাজনক গ্রুপ পর্ব বিদায় সমর্থকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Qatar qualify for FIFA World Cup 2026 following violence-marred UAE win -  Doha News | Qatar

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও কাতারের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। দেশটির ঘরোয়া লিগ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। মার্চে সার্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচও বাতিল হয়ে যায়।

এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। যেহেতু জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় স্থানীয় লিগে খেলেন, তাই নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভাবও সমস্যা তৈরি করছে।

সহজ গ্রুপ, কিন্তু আত্মবিশ্বাস কম

এবার তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে কাতার। এমনকি তৃতীয় স্থান নিয়েও শেষ ষোলোতে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তারপরও সমর্থকদের ভরসা খুব বেশি নয়। কারণ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দলটি স্থিরতা দেখাতে পারেনি।

তবে কাতারের জন্য ইতিবাচক দিকও আছে। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে আগের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগতে পারে। প্রথমবারের মতো চাপ সামলানোর পরিবর্তে এবার তারা জানে বিশ্বকাপের বাস্তবতা কত কঠিন।

এখন দেখার বিষয়, ২০২২ সালের দুঃস্বপ্ন ভুলে কাতার কি নতুন ইতিহাস লিখতে পারে, নাকি আবারও হতাশাই সঙ্গী হবে আল আনাবির।