কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ও রাস্তায় নামাজে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ ঘিরে রোববার সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি যানবাহনও। ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শহরের মুসলিম অধ্যুষিত পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এলাকায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার থেকেই কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছিল। বিশেষ করে রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর নতুন বিজেপি সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্বের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, আজান ও নামাজকে কেন্দ্র করেই প্রশাসনের নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লাউডস্পিকারের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপকেও তারা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ
বিক্ষোভ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই হাওড়া ও শিয়ালদহ রেলস্টেশনের আশপাশে রাতভর উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। বুলডোজার দিয়ে দোকান ও অস্থায়ী স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কোনো পর্যাপ্ত বিকল্প বা সময় না দিয়েই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অহংকারের মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র মানুষকে। তার ভাষায়, বাংলার সংস্কৃতি ও মানবিকতার সঙ্গে বুলডোজার রাজনীতি যায় না।
মমতা অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা ধ্বংস করে প্রশাসন ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয়, যখন দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা হয়।
সংঘর্ষ ও পুলিশি অভিযান
রোববার দুপুরে বিপুল সংখ্যক মানুষ পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হলে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য।
পুলিশের দাবি, সমাবেশটি অনুমোদনহীন ছিল এবং বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ ভিড় সরানোর উদ্যোগ নিলে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এ সময় একটি সিআরপিএফ বাসেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আশেষ বিশ্বাস জানান, পাথর নিক্ষেপে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় টহল ও রুট মার্চও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার আসানসোল ও কলকাতার রাজাবাজার এলাকাতেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কলকাতায় বিক্ষোভ ও উচ্ছেদ অভিযান
কলকাতার পার্ক সার্কাসে উচ্ছেদ অভিযান ও নামাজে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আহত পুলিশ সদস্য ও আটক ২০ জন।












