অনিশ্চয়তা, সমালোচনা আর হতাশায় ভরা এক বাছাইপর্বের পর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে চেক প্রজাতন্ত্র। ইউরোপিয়ান প্লে-অফে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দলটি এখন নতুন করে আত্মবিশ্বাস খুঁজছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন ৭৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক।
চেক প্রজাতন্ত্র ছিল বিশ্বকাপে ওঠা শেষ দিকের দলগুলোর একটি। মার্চে অনুষ্ঠিত প্লে-অফে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। দুই ম্যাচেই ভাগ্যের সহায়তা ছিল, তবে একই সঙ্গে দলটি দেখিয়েছে লড়াই করার মানসিকতা ও ঐক্য।
শুরুটা ছিল ভয়াবহ
প্লে-অফ সেমিফাইনালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২৩ মিনিটেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়েছিল চেকরা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরে তারা। এরপর ফাইনালে ডেনমার্কের বিপক্ষে বলের দখলে অনেক পিছিয়ে থেকেও ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ করে টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় দলটি।
এই সাফল্যের আগে পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। অক্টোবরের ফরো দ্বীপপুঞ্জের বিপক্ষে ২-১ গোলের লজ্জাজনক হার চেক ফুটবলে বড় ধাক্কা দেয়। তার আগেই ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়।
সেই ব্যর্থতার পর কোচ ইভান হাসেককে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী কোচ ইয়ারোস্লাভ কোস্টলের অধীনে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে ৬-০ গোলের বড় জয় এলেও দলের ভেতরের অস্থিরতা কমেনি।
![]()
অধিনায়কত্ব নিয়েও বিতর্ক
সমর্থকদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় দলকে নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ে। জিব্রাল্টার ম্যাচের পর খেলোয়াড়েরা সমর্থকদের ধন্যবাদ না জানানোয় অধিনায়ক তোমাস সৌচেককে দায় নিতে হয়। পরে তার কাছ থেকে অধিনায়কত্ব সরিয়ে লাদিস্লাভ ক্রেইচির হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত কে নেতৃত্ব দেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
অভিজ্ঞ কোচের ওপর ভরসা
স্থানীয় জনপ্রিয় কোচদের কাউকে দলে আনতে ব্যর্থ হওয়ার পর চেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ভরসা রাখে মিরোস্লাভ কৌবেকের ওপর। ৭৪ বছর বয়সী এই কোচ এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছেন।
কৌশল আর খেলোয়াড়দের পরিচালনার দক্ষতার জন্য কৌবেক আগে থেকেই পরিচিত। ভিক্টোরিয়া প্লজেনকে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তুলনামূলক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি করতে পারাই তার বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলের শক্তি কোথায়
চেক দলে তারকাখ্যাতি খুব বেশি নেই। স্ট্রাইকার পাত্রিক শিক এবং আক্রমণভাগের তরুণ ফুটবলার পাভেল সুলককে ঘিরেই মূল আশা। তবে পুরো দলের বড় শক্তি হলো সেটপিস এবং আকাশপথে আক্রমণ। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে সেটপিস থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলগুলোর মধ্যে ছিল চেক প্রজাতন্ত্র।
বিশ্বকাপের শেষ ধাপে গিয়ে তারা কতদূর যেতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—এই দলকে সহজে হারানো কঠিন হবে। প্লে-অফে যে লড়াকু মানসিকতা দেখা গেছে, সেটাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















