পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার রাজনীতি চলতে পারে না বলে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান এবং ভাঙচুর নিয়ে তিনি সরাসরি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্মানকে উপেক্ষা করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
রবিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মমতা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির বাংলায় সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বা জোর করে শাসন করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, দিনমজুর, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, ছোট দোকানদার ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলিই এখন সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন।
উচ্ছেদ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ
সম্প্রতি কলকাতার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার একাধিক জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় উচ্ছেদ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে তিলজলা ও পার্ক সার্কাস এলাকায়ও ভাঙচুর এবং উচ্ছেদ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তিলজলায় একটি অবৈধ কারখানা ভেঙে ফেলার সময় বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। ওই কারখানায় আগুন লেগে তিনজনের মৃত্যু হওয়ার পর প্রশাসন অভিযান চালায়। তবে এই ধরনের পদক্ষেপে বহু মানুষের জীবিকা ও আশ্রয় একসঙ্গে বিপদের মুখে পড়ছে বলেই অভিযোগ উঠছে।

মানবিকতার বদলে প্রদর্শনীর রাজনীতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রশাসনের একাংশ মানুষের বাস্তব সমস্যার চেয়ে বাহ্যিক প্রদর্শনীকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর কথায়, যাঁরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে ছোট ছোট ঘর বা দোকান তৈরি করেছেন, তাঁদের হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা হলে পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, বাংলার মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। তাই উন্নয়নের নামে যদি সাধারণ মানুষের মাথার উপর থেকে ছাদ কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র
মমতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে প্রশাসন বলছে অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই এই অভিযান চলছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাকে উপেক্ষা করেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী দিনে এই ইস্যু ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান ও বুলডোজার রাজনীতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















