ভারতের মণিপুরে অপহৃত কুকি-জো ও নাগা সম্প্রদায়ের ২০ জনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে পরিবারগুলোর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের খোঁজ না মেলায় পাহাড়ি জেলাগুলোতে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১৩ মে থাদৌ সম্প্রদায়ের তিন গির্জা নেতাকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হত্যা করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-জো ও নাগা সম্প্রদায়ের ৪০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ১৫ মে দুই সম্প্রদায়ের ২৮ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও এখনও ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবারগুলোর আর্তি
অপহৃতদের স্বজনরা এক যৌথ আবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক বা সংঘাতের বিষয় নয়, বরং সন্তান, মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে ফেরানোর আর্তনাদ।
পরিবারগুলো জানিয়েছে, টাফৌ কুকি গ্রামের ১৩ জন এবং হেংবুং গ্রামের একজন এখনও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্কও আছে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো যোগাযোগ না থাকায় পরিবারগুলো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে।

নাগা সংগঠনের কড়া অবস্থান
এদিকে নাগা সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল সরকারকে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার পথ খোলা থাকবে।
সংগঠনটির দাবি, এখনও ছয়জন নাগা জিম্মি অবস্থায় আছেন। পরিস্থিতির প্রতিবাদে মণিপুরের নাগা অধ্যুষিত এলাকায় জাতীয় মহাসড়কজুড়ে আন্তজেলা অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করা হয়েছে। এর ফলে পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে নতুন করে দুর্ভোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চলছে তল্লাশি অভিযান
মণিপুরের স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম পথগুলোতে বিশেষ তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বাকি জিম্মিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজ্যের চলমান জাতিগত উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় মানুষের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















