০১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে মে মাসে ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ল প্রায় ২৭ লাখ

বাংলাদেশে মে মাসে ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। টেলিকম খাতের তথ্য অনুযায়ী, মে শেষে দেশে ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজারে। মাসটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ ৫০ হাজার ইন্টারনেট গ্রাহক। একই সময়ে মোবাইল গ্রাহকও বেড়েছে। মে শেষে মোবাইল সংযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৮৬ লাখে, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনাতেও সামান্য অগ্রগতি দেখায়।

এই বৃদ্ধি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন শিক্ষা, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম, ফ্রিল্যান্সিং এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। কয়েক মাসের ওঠানামার পর ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে যে বাজারে আবার ব্যবহার বাড়ছে, যদিও এর মানে এই নয় যে সবাই সমান মানের ইন্টারনেট পাচ্ছেন।

সংখ্যার পেছনের বাস্তবতা

Mobile, internet users increase by 30 lakh in May | The Business Standard
বাংলাদেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বলতে সাধারণত সাবস্ক্রিপশন বোঝানো হয়, প্রত্যেকটি সাবস্ক্রিপশন আলাদা মানুষ নয়। একজন ব্যক্তি একাধিক সিম বা সংযোগ ব্যবহার করতে পারেন। তাই ১৩ কোটির বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক মানে ১৩ কোটি মানুষের কার্যকর, দ্রুত ও নিয়মিত ইন্টারনেট আছে, এমনটি বলা যাবে না। তবু এই সংখ্যা বাজারের গতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেট এখনো দেশের প্রধান ডিজিটাল প্রবেশদ্বার। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত অনেক মানুষ প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করেন স্মার্টফোনের মাধ্যমে।

যেখানে সমস্যা রয়ে গেছে

সংখ্যা বাড়লেও মানের প্রশ্ন রয়ে গেছে। ব্যবহারকারীরা এখন শুধু ইন্টারনেট সংযোগ চান না, চান নির্ভরযোগ্য গতি, কম ল্যাটেন্সি, স্থিতিশীল ভিডিও কল, সাশ্রয়ী ডেটা এবং নিরাপদ অনলাইন অভিজ্ঞতা। শহরাঞ্চলে 4G সেবা তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হলেও গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্কের মান এখনো একরকম নয়। একই সঙ্গে ডেটা প্যাকেজের জটিলতা, মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকৃত গতি নিয়ে ভোক্তাদের অসন্তোষ আছে।

ব্রডব্যান্ড খাতও বড় আলোচনার জায়গা। পরিবারের জন্য স্থায়ী ইন্টারনেট, অনলাইন ক্লাস, রিমোট কাজ, কনটেন্ট স্ট্রিমিং এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ব্রডব্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই খাতে মান নিয়ন্ত্রণ, এলাকাভিত্তিক মনোপলি, সেবা বিচ্ছিন্নতা এবং দামের স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

জুলাইয়ের তুলনায় অক্টোবরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ১৪ লাখ | The Daily  Star
অর্থনীতির জন্য কেন জরুরি

ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি মানে সম্ভাব্য ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, অনলাইন দোকান, রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সংবাদপোর্টাল, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং শিক্ষামূলক সেবার বাজার ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশ যদি ডিজিটাল অর্থনীতিকে বড় করতে চায়, তাহলে শুধু গ্রাহকসংখ্যা নয়, ব্যবহারকারীর দৈনিক ব্যবহার, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, বাংলা কনটেন্ট, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে এখন সুযোগ হলো গ্রাহক বৃদ্ধিকে সেবা মান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা। শুধু সংখ্যা বাড়লে অপারেটরদের ব্যবসা বাড়বে, কিন্তু গতি, সেবা ও নিরাপত্তা বাড়লে নাগরিকদের জীবনও বদলাবে। ডিজিটাল বাজারের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য এটাই মূল পরীক্ষা।

নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন জরুরি হলো এই বৃদ্ধির ভেতরে কোন ব্যবহারকারী নিয়মিত, কোন অঞ্চল পিছিয়ে, কোন বয়সগোষ্ঠী বেশি যুক্ত হচ্ছে এবং কোন সেবায় ডেটা ব্যবহার বাড়ছে তা বুঝে পরিকল্পনা করা। শুধু অপারেটরভিত্তিক মোট সংখ্যা প্রকাশ করলেই হবে না, সেবা মান, অভিযোগ, গড় গতি এবং গ্রাহক ধরে রাখার প্রবণতাও সামনে আনা দরকার। তাহলেই ইন্টারনেট বৃদ্ধিকে বাস্তব ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির সূচকে পরিণত করা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে মে মাসে ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ল প্রায় ২৭ লাখ

১০:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে মে মাসে ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। টেলিকম খাতের তথ্য অনুযায়ী, মে শেষে দেশে ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজারে। মাসটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ ৫০ হাজার ইন্টারনেট গ্রাহক। একই সময়ে মোবাইল গ্রাহকও বেড়েছে। মে শেষে মোবাইল সংযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৮৬ লাখে, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনাতেও সামান্য অগ্রগতি দেখায়।

এই বৃদ্ধি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন শিক্ষা, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম, ফ্রিল্যান্সিং এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। কয়েক মাসের ওঠানামার পর ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে যে বাজারে আবার ব্যবহার বাড়ছে, যদিও এর মানে এই নয় যে সবাই সমান মানের ইন্টারনেট পাচ্ছেন।

সংখ্যার পেছনের বাস্তবতা

Mobile, internet users increase by 30 lakh in May | The Business Standard
বাংলাদেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বলতে সাধারণত সাবস্ক্রিপশন বোঝানো হয়, প্রত্যেকটি সাবস্ক্রিপশন আলাদা মানুষ নয়। একজন ব্যক্তি একাধিক সিম বা সংযোগ ব্যবহার করতে পারেন। তাই ১৩ কোটির বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক মানে ১৩ কোটি মানুষের কার্যকর, দ্রুত ও নিয়মিত ইন্টারনেট আছে, এমনটি বলা যাবে না। তবু এই সংখ্যা বাজারের গতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেট এখনো দেশের প্রধান ডিজিটাল প্রবেশদ্বার। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত অনেক মানুষ প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করেন স্মার্টফোনের মাধ্যমে।

যেখানে সমস্যা রয়ে গেছে

সংখ্যা বাড়লেও মানের প্রশ্ন রয়ে গেছে। ব্যবহারকারীরা এখন শুধু ইন্টারনেট সংযোগ চান না, চান নির্ভরযোগ্য গতি, কম ল্যাটেন্সি, স্থিতিশীল ভিডিও কল, সাশ্রয়ী ডেটা এবং নিরাপদ অনলাইন অভিজ্ঞতা। শহরাঞ্চলে 4G সেবা তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হলেও গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্কের মান এখনো একরকম নয়। একই সঙ্গে ডেটা প্যাকেজের জটিলতা, মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকৃত গতি নিয়ে ভোক্তাদের অসন্তোষ আছে।

ব্রডব্যান্ড খাতও বড় আলোচনার জায়গা। পরিবারের জন্য স্থায়ী ইন্টারনেট, অনলাইন ক্লাস, রিমোট কাজ, কনটেন্ট স্ট্রিমিং এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ব্রডব্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই খাতে মান নিয়ন্ত্রণ, এলাকাভিত্তিক মনোপলি, সেবা বিচ্ছিন্নতা এবং দামের স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

জুলাইয়ের তুলনায় অক্টোবরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ১৪ লাখ | The Daily  Star
অর্থনীতির জন্য কেন জরুরি

ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি মানে সম্ভাব্য ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, অনলাইন দোকান, রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সংবাদপোর্টাল, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং শিক্ষামূলক সেবার বাজার ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশ যদি ডিজিটাল অর্থনীতিকে বড় করতে চায়, তাহলে শুধু গ্রাহকসংখ্যা নয়, ব্যবহারকারীর দৈনিক ব্যবহার, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, বাংলা কনটেন্ট, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে এখন সুযোগ হলো গ্রাহক বৃদ্ধিকে সেবা মান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা। শুধু সংখ্যা বাড়লে অপারেটরদের ব্যবসা বাড়বে, কিন্তু গতি, সেবা ও নিরাপত্তা বাড়লে নাগরিকদের জীবনও বদলাবে। ডিজিটাল বাজারের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য এটাই মূল পরীক্ষা।

নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন জরুরি হলো এই বৃদ্ধির ভেতরে কোন ব্যবহারকারী নিয়মিত, কোন অঞ্চল পিছিয়ে, কোন বয়সগোষ্ঠী বেশি যুক্ত হচ্ছে এবং কোন সেবায় ডেটা ব্যবহার বাড়ছে তা বুঝে পরিকল্পনা করা। শুধু অপারেটরভিত্তিক মোট সংখ্যা প্রকাশ করলেই হবে না, সেবা মান, অভিযোগ, গড় গতি এবং গ্রাহক ধরে রাখার প্রবণতাও সামনে আনা দরকার। তাহলেই ইন্টারনেট বৃদ্ধিকে বাস্তব ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির সূচকে পরিণত করা যাবে।