ভারত সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক নতুন চ্যাটবট “আয়ুষ্মান সারথি” চালু করেছে। এটি আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বা পিএম-জেএওয়াইয়ের সুবিধাভোগীদের জন্য তৈরি। ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তৈরি এই চ্যাটবটের মাধ্যমে নাগরিকরা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা তথ্য ও সহায়তা পেতে পারবেন। কার্ডের যোগ্যতা যাচাই, আয়ুষ্মান কার্ড ডাউনলোড, ই-কেওয়াইসি, আধার সংযুক্তি, ওয়ালেট ব্যালেন্স, চিকিৎসার ইতিহাস, কাছের অনুমোদিত হাসপাতাল খোঁজা, অভিযোগ নিবন্ধন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর মতামত দেওয়ার মতো সেবা এতে যুক্ত করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হলো সরকার নাগরিকের কাছে যাচ্ছে সেই প্ল্যাটফর্মে, যেখানে নাগরিক আগে থেকেই আছে। আলাদা অ্যাপ ডাউনলোড, অফিসে যাওয়া বা কল সেন্টারে অপেক্ষা করার বদলে হোয়াটসঅ্যাপেই প্রাথমিক সেবা পাওয়া যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলে, যেখানে স্মার্টফোন আছে কিন্তু জটিল সরকারি অ্যাপ ব্যবহারের অভ্যাস কম, সেখানে এ ধরনের চ্যাটবট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল দরজা

স্বাস্থ্যসেবা শুধু হাসপাতালের বিছানা বা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নয়। অনেক সময় মানুষ জানেন না তিনি কোনো সরকারি সুবিধার যোগ্য কি না, কোন হাসপাতালে যেতে হবে, কার্ড কীভাবে বানাতে হবে বা অভিযোগ কোথায় করতে হবে। এই তথ্যের অভাব অনেককে সেবা থেকে দূরে রাখে। আয়ুষ্মান সারথি সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে। ব্যবহারকারী যদি সহজ ভাষায় সেবা পায়, তাহলে দালাল, ভুল তথ্য ও অযথা যাতায়াত কমতে পারে।
তবে চ্যাটবট নিজে চিকিৎসক নয়। এটি প্রশাসনিক ও তথ্যভিত্তিক সহায়তা দেয়। তাই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের ক্ষেত্রে মানব চিকিৎসক, জরুরি সেবা এবং যাচাই করা সরকারি নির্দেশনার প্রয়োজন থেকেই যাবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বড় সমস্যা হলো তথ্যের বিচ্ছিন্নতা। সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, টিকা, মাতৃস্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস, ওষুধের প্রাপ্যতা, রোগীর অভিযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষা সেবার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছায় না। অনেক নাগরিক জানেন না কোথায় কী সেবা আছে। আবার বিভিন্ন নম্বর, ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ভিড়ে তারা বিভ্রান্ত হন।

বাংলাদেশ চাইলে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা স্থানীয় জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক চ্যাটবট তৈরি করতে পারে। এতে সাধারণ রোগী কাছের হাসপাতাল, বিশেষায়িত সেবা, ডাক্তারের সময়, জরুরি নম্বর, টিকা তথ্য, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ ফলোআপ, মাতৃস্বাস্থ্য এবং অভিযোগ দাখিলের প্রাথমিক তথ্য পেতে পারেন। তবে এর জন্য ডেটা হালনাগাদ, ভাষাগত সহজতা, গোপনীয়তা এবং ভুল তথ্য প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি।
শেষ কথা
ভারতের আয়ুষ্মান সারথি দেখাচ্ছে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সফল করতে নাগরিককে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিকেও নাগরিকের অভ্যাসের মধ্যে ঢুকতে হবে। বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হলো, স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তর শুধু বড় পোর্টাল নয়, বরং মানুষের হাতে থাকা পরিচিত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মেও শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তির দিকটি মাথায় রাখতে হবে। অনেক দরিদ্র বা বয়স্ক মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, আবার অনেকেই লিখিত বার্তার বদলে ভয়েস নির্দেশনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই বাংলা ভাষা, আঞ্চলিক ভাষা, ভয়েস সহায়তা, হেল্পলাইন সংযোগ এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে রেফারেল ব্যবস্থা থাকলে চ্যাটবট শুধু শহুরে সুবিধা হয়ে থাকবে না, মাঠপর্যায়ের সেবাতেও কাজে লাগতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















