০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ ভাইরাস

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জোরদার না হলে এই প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, চিকিৎসা উপকরণ ও জনবল না থাকায় ভাইরাস মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে কঙ্গোতে দুই হাজারের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই ইতুরি অঞ্চলের বাসিন্দা। এরই মধ্যে ভাইরাসটি নতুন কয়েকটি এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। কারণ অনেক রোগী শনাক্ত হওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

দুর্গম এলাকায় নিয়ন্ত্রণ কঠিন

ইতুরি প্রদেশের ঘন বন, বিচ্ছিন্ন বসতি এবং চলমান সংঘাতের কারণে আক্রান্তদের খুঁজে বের করা ও চিকিৎসার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন, আবার অনেকে কাজের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংক্রমণের আশঙ্কায় কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকট

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, তাদের প্রয়োজনীয় পোশাক, গ্লাভস ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী পর্যাপ্ত নেই। অনেক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও সহায়তা না পাওয়ায় সংকটের মুখে রয়েছেন।

ইবোলা মোকাবিলায় অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকলেও মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

ইতুরির বাইরে অন্য এলাকাতেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার দেশগুলোতে সংক্রমণ পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, দ্রুত পরীক্ষা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ মানুষ

ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে অনেক মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে আসছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধার অভাবে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়েই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কঙ্গোর এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব আরও বড় মানবিক সংকটে পরিণত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ ভাইরাস

০৫:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জোরদার না হলে এই প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম, চিকিৎসা উপকরণ ও জনবল না থাকায় ভাইরাস মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে কঙ্গোতে দুই হাজারের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই ইতুরি অঞ্চলের বাসিন্দা। এরই মধ্যে ভাইরাসটি নতুন কয়েকটি এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। কারণ অনেক রোগী শনাক্ত হওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

দুর্গম এলাকায় নিয়ন্ত্রণ কঠিন

ইতুরি প্রদেশের ঘন বন, বিচ্ছিন্ন বসতি এবং চলমান সংঘাতের কারণে আক্রান্তদের খুঁজে বের করা ও চিকিৎসার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন, আবার অনেকে কাজের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংক্রমণের আশঙ্কায় কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকট

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, তাদের প্রয়োজনীয় পোশাক, গ্লাভস ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী পর্যাপ্ত নেই। অনেক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও সহায়তা না পাওয়ায় সংকটের মুখে রয়েছেন।

ইবোলা মোকাবিলায় অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকলেও মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

ইতুরির বাইরে অন্য এলাকাতেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার দেশগুলোতে সংক্রমণ পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, দ্রুত পরীক্ষা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ মানুষ

ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে অনেক মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে আসছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধার অভাবে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়েই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কঙ্গোর এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব আরও বড় মানবিক সংকটে পরিণত হতে পারে।