চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে গড়ে ওঠা প্রেম, বন্ধুত্ব ও আবেগঘন সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের চ্যাটবট থেকে মানুষের মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অনেক বৈশিষ্ট্য সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। সরকারের লক্ষ্য, ব্যবহারকারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত আবেগগত নির্ভরশীল হয়ে পড়া থেকে বিরত রাখা।
কেন আসছে এই পরিবর্তন
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভার্চুয়াল সঙ্গী সেবা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই ধরনের সেবা চালু থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা বাস্তব জীবনের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন।
এ ছাড়া চ্যাটবটকে নিয়মিত ব্যবহারকারীকে জানাতে হবে যে তিনি কোনো মানুষের সঙ্গে নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলছেন। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে বিরতি নেওয়ার পরামর্শও দিতে হবে। অশ্লীল বা অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু প্রদর্শনের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বাড়ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সম্পর্কের জনপ্রিয়তা
সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যবহারকারী সাধারণ চ্যাটবটকে নিজের পছন্দমতো চরিত্রে রূপ দিয়ে প্রেমিক, প্রেমিকা কিংবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো ব্যবহার করছিলেন। আবার কিছু অ্যাপ বিশেষভাবে ভার্চুয়াল সঙ্গী হিসেবে তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা আরও বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা পেতেন।
এই ধরনের সেবা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বড় আয়ের উৎস হয়ে উঠেছিল। অনেক ব্যবহারকারী মাসিক সদস্যপদ কিনতেন, আবার অতিরিক্ত সুবিধা পেতে আলাদাভাবে অর্থ ব্যয় করতেন। কেউ কেউ প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যেতেন।

সরকারের উদ্বেগ কোথায়
সরকারের মতে, অতিরিক্ত আবেগগত নির্ভরতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে আসক্তি, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় কিংবা বাস্তব জীবনের সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সমাজে বিয়ে ও পরিবার গঠনের হার কমে যাওয়ার বিষয়টিও নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পদক্ষেপ
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের নিজেদের মতো করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চরিত্র তৈরি করার সুবিধা সীমিত বা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। তবে বিদেশি বাজারে একই ধরনের সেবা আগের মতোই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তে অনেক ব্যবহারকারী হতাশ হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ভার্চুয়াল সঙ্গী হারানোর আশঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আবার অনেকেই বলছেন, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা বুঝতে পেরেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত আবেগগত নির্ভরতা শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফেলে দিতে পারে।
চীনের এই নতুন নীতিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















