ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার দলের নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা দলের নেতা স্বাভাবিকভাবেই সরকারের প্রধান হওয়ার সুযোগ পান বলেই এই পরিবর্তনের জন্য নতুন করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন হচ্ছে না।
লেবার দলের বিশেষ সম্মেলনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার পর তিনি নেতৃত্বে আসেন। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এর আগ পর্যন্ত কিয়ার স্টারমার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন ছাড়াই নেতৃত্ব বদলের নিয়ম
ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল তাদের মেয়াদের মধ্যেই নতুন নেতা নির্বাচন করতে পারে। যদি সেই দলের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তাহলে নতুন নেতা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তাই সরকার পরিবর্তনের জন্য সব সময় সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজন হয় না।
ব্রিটেনের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন নির্ধারিত রয়েছে ২০২৯ সালে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর পাঁচ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী ওই সময়েই নতুন ভোট হওয়ার কথা।
স্টারমারের বিদায় ও নতুন নেতৃত্বের উত্থান
কিয়ার স্টারমার ২২ জুন লেবার দলের নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে নেতৃত্ব ছাড়তে হয়।
তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনে দলের দুর্বল ফলাফলও তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়ে দেয়। এরপর দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদীয় উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার পর দলের ভেতরে তার সমর্থন আরও বেড়ে যায়। লেবার দলের নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংসদ সদস্যের সমর্থন একমাত্র তিনিই অর্জন করতে সক্ষম হন।
এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত এক দশকে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দলের ভেতরের নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বদলের ঘটনা নতুন নয়।
এর আগে থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনাকও সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে এমন পরিবর্তন আরও বেশি দেখা গেছে।
দায়িত্ব হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটি ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। কিয়ার স্টারমার বিদায়ী বক্তব্য দেওয়ার পর রাজপ্রাসাদে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন।
এরপর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। রাজা তাকে নতুন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। এই আনুষ্ঠানিকতার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে প্রথম বক্তব্য দেবেন।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং ব্রিটেনজুড়ে এই পরিবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ব্রিটেনে নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী, লেবার দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ক্ষমতা গ্রহণের খবর জানুন সহজ ভাষায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















