কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাট সেবা ব্যবহারে কিশোরদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ওপেনএআই। এখন থেকে কোনো কিশোর ব্যবহারকারী সহিংসতা সম্পর্কিত নীতিমালা ভঙ্গ করে চ্যাটজিপিটি থেকে নিষিদ্ধ হলে, সংযুক্ত অভিভাবক অ্যাকাউন্টে সেই তথ্য জানানো হবে।
নতুন ব্যবস্থায় অভিভাবকরা জানতে পারবেন, তাদের সন্তানের অ্যাকাউন্ট কেন বন্ধ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলো আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কিশোরদের নিরাপত্তায় বাড়ছে নজরদারি
ওপেনএআই আগে থেকেই অভিভাবকদের জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছিল। এতে অভিভাবকরা কিশোরদের অ্যাকাউন্ট নিজেদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার বন্ধ রাখা, সংবেদনশীল বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মক্ষতির সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত হলে সতর্কবার্তা পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে।
নতুন আপডেটের মাধ্যমে এখন অন্যদের ক্ষতি করার মতো ঝুঁকির ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের সতর্ক করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির উদাহরণ অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্ট সহিংস আচরণ সম্পর্কিত নীতি ভঙ্গ করলে অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আপডেটের বার্তা পাঠানো হবে।

অনলাইন সহিংসতা ঠেকাতে বিশেষ সহযোগিতা
এই নতুন সুবিধা তৈরি করতে অনলাইন সহিংসতা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গুরুতর উদ্বেগের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জানানো পরিবারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু একটি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, বরং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নিরাপত্তা নীতিতে আরও পরিবর্তন আনছে ওপেনএআই
চ্যাটজিপিটির অপব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছিল ওপেনএআই। ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সরাসরি পড়াশোনার সহায়ক মোড চালুর সুবিধাও যোগ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের সরাসরি উত্তর দেওয়ার বদলে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা কিশোরদের জন্য এখন আরও বেশি বিরতির পরামর্শও দেখানো হবে। এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















