হাজারো মানুষ পেটের মারাত্মক সমস্যা, পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, বমি ভাব ও দুর্বলতায় ভুগছেন সাইক্লোস্পোরা নামের পরজীবী সংক্রমণের কারণে। কাঁচা শাকসবজি ও দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগ নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, দূষিত কাঁচা সবজি এই সংক্রমণের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে সব ঘটনার উৎস এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়নি।
কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ
সাইক্লোস্পোরা নামের ক্ষুদ্র পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে। চাষের সময় দূষিত সেচের পানি, অপরিষ্কার ধোয়ার পানি বা মানুষের বর্জ্যের সংস্পর্শে এলে শাকসবজিতে এই পরজীবী থাকতে পারে।
কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয় এমন খাবার যেমন পাতাযুক্ত সবজি, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, বেরি জাতীয় ফল ও প্রস্তুত করা সালাদের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংক্রমণের লক্ষণ কী
এই রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা, পেট মোচড়ানো ব্যথা, বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি এর প্রধান লক্ষণ।
অনেক ক্ষেত্রে রোগী নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে কী করবেন
খাবার প্রস্তুতের আগে ও পরে সাবান দিয়ে অন্তত বিশ সেকেন্ড হাত ধোয়া, কাঁচা সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
শুধু ধোয়ার মাধ্যমে পরজীবী পুরোপুরি ধ্বংস নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোভাবে রান্না করলে উচ্চ তাপে এই পরজীবী ধ্বংস করা সম্ভব।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি পাতলা পায়খানা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে, শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয় বা দুর্বলতা বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের চিকিৎসায় নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
বাড়ছে নজরদারির প্রয়োজন
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণের প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে খাবার পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সতর্কতা প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















