০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ট্রল বা সমালোচনায় দায়িত্ব থেকে সরে যাবে না সরকার, বললেন শিক্ষামন্ত্রী পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ডুবল পাটুরিয়া লঞ্চ টার্মিনালের সংযোগ সড়ক, কষ্টে যাত্রীরা ভাটারায় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নিহত নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, এইচএসসি পরীক্ষার্থী দুই বন্ধু প্রাণ হারাল সন্তানদের মুখের ভাষাঃ সমাজ ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ছাপার মেলবন্ধনে নতুন ফ্যাশন ধারা, রঙ ও নকশার সংঘাতে নজর কাড়ছে পথের সাজ ইয়েলোস্টোনে বিশাল বাইসনের আক্রমণে আকাশে ছিটকে গেলেন বৃদ্ধ পর্যটক চিবুকে বাইসাইকেল, মই ও ঘর দাঁড় করিয়ে বিশ্বরেকর্ডের পথে তরুণ নরওয়ের ভয়াবহ আগুনে শতাধিক বাড়ি ধ্বংস, হেলিকপ্টারে চলছে পানি ছিটানোর অভিযান সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, কাঁচা খাবারে সতর্কতার পরামর্শ

হ্যারি কেনের পর ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ: বিশ্বকাপে কি আসছে ‘ফলস নাইন’ যুগ?

আর্জেন্টিনার কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হারের পর ইংল্যান্ডের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—হ্যারি কেনের পর দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন কে? ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে এগোতে থাকায় নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে দলটিকে।

কেন ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন। দলের সাত ম্যাচেই প্রায় পুরো সময় মাঠে ছিলেন তিনি। ছয়টি গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন এত বছর ধরে জাতীয় দলের প্রধান অস্ত্র হয়ে আছেন। তবে সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়ছে, আর ২০৩০ বিশ্বকাপে তার বয়স প্রায় ৩৭ বছর হবে।

কেনের পর ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ইংল্যান্ডের বর্তমান আক্রমণভাগে কেনের মতো নির্ভরযোগ্য নাম খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। কোচ থমাস টুখেল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কেনের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রেখেছেন। বিকল্প হিসেবে থাকা খেলোয়াড়রা খুব বেশি সুযোগ পাননি।

অলি ওয়াটকিন্স, ইভান টোনি, ডমিনিক সোলাঙ্কে কিংবা ডমিনিক ক্যালভার্ট-লেউইনের মতো খেলোয়াড় থাকলেও কেউ এখনো কেনের জায়গা নেওয়ার মতো ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। ফলে ইংল্যান্ডকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের গোলদাতা খুঁজতে হবে।

লিয়াম ডেলাপ কি হতে পারেন ভবিষ্যতের সমাধান?

তরুণ ফরোয়ার্ডদের মধ্যে লিয়াম ডেলাপকে একসময় ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হয়েছিল। ইপসউইচ টাউন থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর তাকে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রথম মৌসুমে সেই প্রত্যাশার চাপ সামলাতে পারেননি তিনি।

তবুও ২৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার। তিনি যদি নিজের সম্ভাবনা অনুযায়ী উন্নতি করতে পারেন, তাহলে কেনের পর ইংল্যান্ডের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।

Harry Kane speaks out on his World Cup future after England's devastating  semi-final exit | The Independent

একেবারে নতুন স্ট্রাইকার খুঁজছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের যুব পর্যায়ে প্রতিভার অভাব নেই, তবে সরাসরি গোল করার মতো ঐতিহ্যবাহী স্ট্রাইকারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে উইঙ্গার ও আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের সংখ্যা বেশি হলেও প্রকৃত ‘নাম্বার নাইন’ খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না।

চেলসির ১৮ বছর বয়সী শিম মেউকা, টটেনহ্যামের উইল ল্যাঙ্কশিয়ার এবং ম্যানচেস্টার সিটির কয়েকজন তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে আশা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে হলে তাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

হ্যারি কেনের পথই হতে পারে নতুনদের অনুপ্রেরণা

হ্যারি কেনও ছোট বয়সে সরাসরি বিশ্বমানের খেলোয়াড় হয়ে ওঠেননি। বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর টটেনহ্যামের হয়ে নিজের আসল পরিচয় তৈরি করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই ধৈর্য প্রয়োজন হতে পারে। যুব পর্যায়ে ভালো করলেই যে জাতীয় দলে সফলতা নিশ্চিত, এমন উদাহরণ কম।

অ্যান্টনি গর্ডন হতে পারেন বিকল্প পরিকল্পনা

যদি নতুন কোনো বড় স্ট্রাইকার উঠে না আসে, তাহলে ইংল্যান্ডকে কৌশল পরিবর্তনের কথা ভাবতে হতে পারে। সেখানে ‘ফলস নাইন’ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অ্যান্টনি গর্ডন এই ভূমিকায় একটি সম্ভাবনাময় নাম। সাধারণত বাঁ দিকের আক্রমণভাগে খেললেও তিনি মাঝখানে নেমে খেলতে সক্ষম। ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এই ভূমিকায় তিনি সফল হয়েছিলেন এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

ইংল্যান্ডের জন্য এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কেনের বিকল্প শুধু খুঁজে বের করা নয়, বরং আক্রমণের নতুন ধরন তৈরি করা। আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে দলটি নতুন কোনো গোলদাতা পায়, নাকি কৌশল বদলে ‘ফলস নাইন’ নির্ভর নতুন যুগে প্রবেশ করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রল বা সমালোচনায় দায়িত্ব থেকে সরে যাবে না সরকার, বললেন শিক্ষামন্ত্রী

হ্যারি কেনের পর ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ: বিশ্বকাপে কি আসছে ‘ফলস নাইন’ যুগ?

০৮:০১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনার কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হারের পর ইংল্যান্ডের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—হ্যারি কেনের পর দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন কে? ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে এগোতে থাকায় নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে দলটিকে।

কেন ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন। দলের সাত ম্যাচেই প্রায় পুরো সময় মাঠে ছিলেন তিনি। ছয়টি গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন এত বছর ধরে জাতীয় দলের প্রধান অস্ত্র হয়ে আছেন। তবে সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়ছে, আর ২০৩০ বিশ্বকাপে তার বয়স প্রায় ৩৭ বছর হবে।

কেনের পর ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ইংল্যান্ডের বর্তমান আক্রমণভাগে কেনের মতো নির্ভরযোগ্য নাম খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। কোচ থমাস টুখেল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কেনের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রেখেছেন। বিকল্প হিসেবে থাকা খেলোয়াড়রা খুব বেশি সুযোগ পাননি।

অলি ওয়াটকিন্স, ইভান টোনি, ডমিনিক সোলাঙ্কে কিংবা ডমিনিক ক্যালভার্ট-লেউইনের মতো খেলোয়াড় থাকলেও কেউ এখনো কেনের জায়গা নেওয়ার মতো ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। ফলে ইংল্যান্ডকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের গোলদাতা খুঁজতে হবে।

লিয়াম ডেলাপ কি হতে পারেন ভবিষ্যতের সমাধান?

তরুণ ফরোয়ার্ডদের মধ্যে লিয়াম ডেলাপকে একসময় ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হয়েছিল। ইপসউইচ টাউন থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর তাকে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রথম মৌসুমে সেই প্রত্যাশার চাপ সামলাতে পারেননি তিনি।

তবুও ২৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার। তিনি যদি নিজের সম্ভাবনা অনুযায়ী উন্নতি করতে পারেন, তাহলে কেনের পর ইংল্যান্ডের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।

Harry Kane speaks out on his World Cup future after England's devastating  semi-final exit | The Independent

একেবারে নতুন স্ট্রাইকার খুঁজছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের যুব পর্যায়ে প্রতিভার অভাব নেই, তবে সরাসরি গোল করার মতো ঐতিহ্যবাহী স্ট্রাইকারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে উইঙ্গার ও আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের সংখ্যা বেশি হলেও প্রকৃত ‘নাম্বার নাইন’ খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না।

চেলসির ১৮ বছর বয়সী শিম মেউকা, টটেনহ্যামের উইল ল্যাঙ্কশিয়ার এবং ম্যানচেস্টার সিটির কয়েকজন তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে আশা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে হলে তাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

হ্যারি কেনের পথই হতে পারে নতুনদের অনুপ্রেরণা

হ্যারি কেনও ছোট বয়সে সরাসরি বিশ্বমানের খেলোয়াড় হয়ে ওঠেননি। বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর টটেনহ্যামের হয়ে নিজের আসল পরিচয় তৈরি করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই ধৈর্য প্রয়োজন হতে পারে। যুব পর্যায়ে ভালো করলেই যে জাতীয় দলে সফলতা নিশ্চিত, এমন উদাহরণ কম।

অ্যান্টনি গর্ডন হতে পারেন বিকল্প পরিকল্পনা

যদি নতুন কোনো বড় স্ট্রাইকার উঠে না আসে, তাহলে ইংল্যান্ডকে কৌশল পরিবর্তনের কথা ভাবতে হতে পারে। সেখানে ‘ফলস নাইন’ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অ্যান্টনি গর্ডন এই ভূমিকায় একটি সম্ভাবনাময় নাম। সাধারণত বাঁ দিকের আক্রমণভাগে খেললেও তিনি মাঝখানে নেমে খেলতে সক্ষম। ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এই ভূমিকায় তিনি সফল হয়েছিলেন এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

ইংল্যান্ডের জন্য এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কেনের বিকল্প শুধু খুঁজে বের করা নয়, বরং আক্রমণের নতুন ধরন তৈরি করা। আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে দলটি নতুন কোনো গোলদাতা পায়, নাকি কৌশল বদলে ‘ফলস নাইন’ নির্ভর নতুন যুগে প্রবেশ করে।