বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের প্রদর্শিত ব্যানার ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের একটি বিশেষ কমিটি।
ব্যানার ঘিরে শুরু বিতর্ক
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর কয়েকজন আর্জেন্টিনা খেলোয়াড় একটি ব্যানার তুলে ধরেন। সেখানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনার অংশ হিসেবে দাবি করা হয়। এই ঘটনায় ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দেশটির অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
রাজনীতির বাইরে থাকার আহ্বান
যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ব ফুটবলে রাজনীতি না আনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা মনে করেন, ফুটবল প্রতিযোগিতার সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তা যুক্ত হওয়া উচিত নয়।
![]()
আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচের প্রতিবেদন ও ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
হোয়াইট হাউসের ফিফা বিষয়ক কমিটির প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বক্তব্য প্রকাশের অধিকারের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয় এবং দেশটিতে খেলোয়াড়দের নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ রয়েছে।
পুরোনো বিরোধ আবার সামনে
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই দেশের মুখোমুখি হওয়ার কারণে বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।
এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলেও রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে শাস্তির নজির রয়েছে। ফলে ফকল্যান্ড ইস্যুতে ফিফার সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রাখছে ফুটবল বিশ্ব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















