মানুষের ডান বা বাম হাত ব্যবহারের প্রবণতা যে অনেক পুরোনো, তার নতুন প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে থাকা এক অদ্ভুত সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্মে দেখা গেছে, সেটি চলাফেরার সময় শরীরের ডান দিককে বেশি প্রাধান্য দিত।
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে পাওয়া একশোর বেশি জীবাশ্ম পরীক্ষা করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, স্প্রিগিনা নামের ছোট কৃমির মতো দেখতে এই প্রাণীটি ছিল ডানদিক নির্ভর চলাচলে অভ্যস্ত। ডাইনোসরেরও বহু আগে, এডিয়াকারান যুগে বসবাসকারী এই প্রাণীর শরীরে এমন বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হাত না থাকলেও ছিল একদিকে ঝোঁকার প্রবণতা
স্প্রিগিনার কোনো হাত ছিল না, তাই মানুষের মতো হাতের ব্যবহার দিয়ে তার প্রবণতা বোঝা যায় না। তবে জীবাশ্মে সংরক্ষিত শরীরের বাঁক বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, অনেক প্রাণী একই দিকে বেশি বাঁক নিয়েছিল।
গবেষকেরা সম্ভাব্য অন্য কারণগুলোও বিবেচনা করেছেন। সমুদ্রের স্রোতের কারণে দেহ একদিকে বেঁকে থাকতে পারে বা মৃত্যুর পর শরীরের অবস্থান বদলে যেতে পারে—এমন ধারণাও যাচাই করা হয়। তবে বিভিন্ন অবস্থান ও দিকের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে তারা মনে করছেন, এই বাঁক প্রাণীর নিজের চলাচলের ফল।
![]()
প্রাণীর আচরণে স্নায়ুতন্ত্রের ইঙ্গিত
গবেষকদের মতে, যদি এই ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তাহলে স্প্রিগিনার মধ্যে এমন একটি প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র ছিল, যা শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট দিকে চলার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করত।
এটি দেখায় যে শরীরের এক পাশকে অন্য পাশের চেয়ে বেশি ব্যবহার করার প্রবণতা শুধু মানুষের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং প্রাণীজগতের ইতিহাসে এই ধরনের আচরণের শুরু হয়েছিল মানুষের আবির্ভাবের বহু আগেই।
হাতের ব্যবহার নয়, আচরণের ইতিহাস
ডানহাতি বা বাঁহাতি হওয়ার বিষয়টি সাধারণত মানুষের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। কিন্তু নতুন এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, শরীরের একদিকে বিশেষ নির্ভরতার প্রবণতা বিবর্তনের অনেক গভীরে রয়েছে।
প্রাচীন জীবাশ্মের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারছেন, প্রাণীদের আচরণ ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ কত দীর্ঘ সময় ধরে পরিবর্তিত হয়েছে।
Sarakhon Report 



















