০৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ছাপার মেলবন্ধনে নতুন ফ্যাশন ধারা, রঙ ও নকশার সংঘাতে নজর কাড়ছে পথের সাজ ইয়েলোস্টোনে বিশাল বাইসনের আক্রমণে আকাশে ছিটকে গেলেন বৃদ্ধ পর্যটক চিবুকে বাইসাইকেল, মই ও ঘর দাঁড় করিয়ে বিশ্বরেকর্ডের পথে তরুণ নরওয়ের ভয়াবহ আগুনে শতাধিক বাড়ি ধ্বংস, হেলিকপ্টারে চলছে পানি ছিটানোর অভিযান সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, কাঁচা খাবারে সতর্কতার পরামর্শ ৫৫০ মিলিয়ন বছরের সামুদ্রিক প্রাণীতে মিলল ডানদিক পছন্দের প্রাচীনতম প্রমাণ ওপেনএআইয়ের নতুন নিয়মে কিশোরের চ্যাটজিপিটি নিষেধাজ্ঞার খবর পাবেন অভিভাবকরা ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনার পাশে হোয়াইট হাউস, বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন বিতর্ক হ্যারি কেনের পর ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ: বিশ্বকাপে কি আসছে ‘ফলস নাইন’ যুগ? যুদ্ধের আড়ালে যে মুখগুলো ইতিহাস বদলে দিয়েছিল

টিকা নয়, যমজ শিশু মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন তথ্য: চিকিৎসকরা বললেন ভিন্ন কথা

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী যমজ দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের মায়ের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মা দাবি করেছেন, মৃত্যুর আট দিন আগে দেওয়া টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার সন্তানদের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টিকার কারণে এমন মৃত্যু হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

চিকিৎসকদের দাবি, টিকার সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক নেই

চিকিৎসকদের মতে, শিশু দুটির মৃত্যুর সঙ্গে টিকার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায় না। তারা জানান, টিকা নেওয়ার পর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হলে সাধারণত কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষণ দেখা দেয়। আট দিন পর এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশু দুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে শ্বাসরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে, তার সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নেই। টিকা শরীরে এমন কোনো প্রক্রিয়া তৈরি করে না, যা শ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে।

টিকা নেওয়ার পর কী হয়েছিল

২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল শিশু দুটি ডিটিএপি, হেপাটাইটিস এ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেয়। পরদিন তাদের মা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং জানান, শিশুদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে।

তবে চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা জানান, সেখানে গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শিশুদের মধ্যে হালকা জ্বর, কিছুটা দুর্বলতা এবং স্বাভাবিক টিকার পর দেখা দেওয়া সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মতো উপসর্গ ছিল।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশু দুটি পানি পান করছিল, চোখে চোখ রাখছিল এবং একজনকে বেশ সক্রিয়ও দেখা গেছে।

জমজ সন্তান কেন হয়?

মৃত্যুর আগের দিন ছিল স্বাভাবিক

অভিযুক্ত মা জানিয়েছেন, টিকা নেওয়ার পর কয়েকদিন শিশুদের অবস্থা ভালো ছিল না। তবে মৃত্যুর আগের দিন তারা আবার স্বাভাবিক আচরণ করছিল, খাচ্ছিল এবং খেলছিল।

চিকিৎসকরা বলেন, কোনো টিকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যেখানে একটি শিশু হঠাৎ মারা যায়, সেখানে আগে থেকেই গুরুতর লক্ষণ দেখা যাওয়ার কথা। একই রাতে দুই শিশুর এমন মৃত্যু টিকার কারণে হওয়ার ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে

মামলার তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের সহায়তায় তারা টিকা ছাড়াও অন্য কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করেছেন। অতিরিক্ত গরম, কার্বন মনোক্সাইড বা বিষক্রিয়ার মতো বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, অভিযুক্ত মায়ের বক্তব্যে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি টিকা সংক্রান্ত নয়, বরং শিশু হত্যার মামলা।

টিকা বিরোধী প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন

একটি টিকা বিরোধী সংগঠন শিশু দুটির মৃত্যুর পর দ্রুত টিকাকে দায়ী করে প্রচারণা শুরু করে। চিকিৎসকরা সমালোচনা করে বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার আগেই এমন দাবি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সঙ্গে টিকার নাম জড়িয়ে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তারা বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই এ ধরনের ঘটনা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাপার মেলবন্ধনে নতুন ফ্যাশন ধারা, রঙ ও নকশার সংঘাতে নজর কাড়ছে পথের সাজ

টিকা নয়, যমজ শিশু মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন তথ্য: চিকিৎসকরা বললেন ভিন্ন কথা

০৭:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী যমজ দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের মায়ের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মা দাবি করেছেন, মৃত্যুর আট দিন আগে দেওয়া টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার সন্তানদের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টিকার কারণে এমন মৃত্যু হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

চিকিৎসকদের দাবি, টিকার সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক নেই

চিকিৎসকদের মতে, শিশু দুটির মৃত্যুর সঙ্গে টিকার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায় না। তারা জানান, টিকা নেওয়ার পর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হলে সাধারণত কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষণ দেখা দেয়। আট দিন পর এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশু দুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে শ্বাসরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে, তার সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নেই। টিকা শরীরে এমন কোনো প্রক্রিয়া তৈরি করে না, যা শ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে।

টিকা নেওয়ার পর কী হয়েছিল

২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল শিশু দুটি ডিটিএপি, হেপাটাইটিস এ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেয়। পরদিন তাদের মা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং জানান, শিশুদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে।

তবে চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা জানান, সেখানে গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শিশুদের মধ্যে হালকা জ্বর, কিছুটা দুর্বলতা এবং স্বাভাবিক টিকার পর দেখা দেওয়া সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মতো উপসর্গ ছিল।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশু দুটি পানি পান করছিল, চোখে চোখ রাখছিল এবং একজনকে বেশ সক্রিয়ও দেখা গেছে।

জমজ সন্তান কেন হয়?

মৃত্যুর আগের দিন ছিল স্বাভাবিক

অভিযুক্ত মা জানিয়েছেন, টিকা নেওয়ার পর কয়েকদিন শিশুদের অবস্থা ভালো ছিল না। তবে মৃত্যুর আগের দিন তারা আবার স্বাভাবিক আচরণ করছিল, খাচ্ছিল এবং খেলছিল।

চিকিৎসকরা বলেন, কোনো টিকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যেখানে একটি শিশু হঠাৎ মারা যায়, সেখানে আগে থেকেই গুরুতর লক্ষণ দেখা যাওয়ার কথা। একই রাতে দুই শিশুর এমন মৃত্যু টিকার কারণে হওয়ার ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে

মামলার তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের সহায়তায় তারা টিকা ছাড়াও অন্য কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করেছেন। অতিরিক্ত গরম, কার্বন মনোক্সাইড বা বিষক্রিয়ার মতো বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, অভিযুক্ত মায়ের বক্তব্যে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি টিকা সংক্রান্ত নয়, বরং শিশু হত্যার মামলা।

টিকা বিরোধী প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন

একটি টিকা বিরোধী সংগঠন শিশু দুটির মৃত্যুর পর দ্রুত টিকাকে দায়ী করে প্রচারণা শুরু করে। চিকিৎসকরা সমালোচনা করে বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার আগেই এমন দাবি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সঙ্গে টিকার নাম জড়িয়ে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তারা বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই এ ধরনের ঘটনা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন।