ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শুধু সান্ত্বনার লড়াই নয়, এটি ইতিহাস, সম্মান ও আর্থিক পুরস্কারের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। শনিবারের এই ম্যাচে দুই দলই ফাইনালে না ওঠার হতাশা পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে মাঠে নামবে।
তৃতীয় স্থান ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের শুরু হয়েছিল ১৯৩৪ সালে ইতালি বিশ্বকাপে। সেই আসরে জার্মানি অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। ১৯৩৮ সালের আসরেও এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে ম্যাচটি ছিল না, তবে ১৯৫৪ সাল থেকে এটি নিয়মিতভাবে বিশ্বকাপের অংশ হয়ে আছে।
অনেকের কাছে এই ম্যাচ ফাইনালের পরের একটি আনুষ্ঠানিকতা হলেও, অনেক খেলোয়াড় ও সমর্থকের কাছে বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়াও বড় অর্জন। একটি কঠিন আসরের শেষ মুহূর্তে জয় দিয়ে বিদায় নেওয়ার সুযোগ দেয় এই লড়াই।
পুরস্কার ও গোল্ডেন বুটের সমীকরণ
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ফল শুধু সম্মানের বিষয় নয়, এর সঙ্গে আর্থিক বিষয়ও জড়িত। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল চতুর্থ হওয়া দলের চেয়ে দুই মিলিয়ন ডলার বেশি পুরস্কার পাবে।
এ ছাড়া এই ম্যাচে করা গোল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারের হিসাবেও যুক্ত হবে। বর্তমানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আট গোল ও চারটি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আছেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেও আট গোল করেছেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যাম ছয়টি করে গোল নিয়ে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
পুরোনো রেকর্ডের স্মৃতি
তৃতীয় স্থান ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়ার নজিরও রয়েছে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেন পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান ম্যাচে চার গোল করেছিলেন। ওই ম্যাচের পর তার বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩, যা এখনো এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
ফ্রান্সের এগিয়ে থাকা, ইংল্যান্ডের অপেক্ষা
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের রেকর্ড ইংল্যান্ডের চেয়ে ভালো। ফ্রান্স তিনবারের মধ্যে দুইবার এই ম্যাচে জয় পেয়েছে। ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানি এবং ১৯৮৬ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড এখনো বিশ্বকাপের এই ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। ১৯৯০ সালে ইতালির কাছে এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে চতুর্থ স্থান নিয়ে শেষ করেছিল তারা।
এই ম্যাচে সবচেয়ে সফল দল জার্মানি, যারা চারবার বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
শেষ লড়াইয়ে সম্মান ধরে রাখার লক্ষ্য
ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। দুই দলের কোচই জানিয়েছেন, তাদের আসল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা। তবে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হলেও তৃতীয় স্থান জয় করে বিশ্বকাপ অভিযান সম্মানের সঙ্গে শেষ করতে চায় উভয় দল।
ফ্রান্সের কোচ জানিয়েছেন, শিরোপার লড়াইয়ে না থাকলেও দল তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। ইংল্যান্ডের কোচও স্বীকার করেছেন, কোনো দলই এই ম্যাচ খেলতে চায় না, তবে বিশ্বকাপের অংশ হিসেবে এই লড়াইয়ের গুরুত্ব রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















