ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছেন। তবে দেশটির রাজনীতি, নিরাপত্তা ও সামাজিক বাস্তবতায় ইরানের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে নতুন বার্তা
ক্ষমতায় আসার পর আলী আল-জাইদি প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন। এর মাধ্যমে তিনি ওয়াশিংটনকে বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরাকের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় নতুন পথ তৈরি করতে চান।
সফরে তিনি ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অর্থ প্রবাহ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জাইদির প্রতি ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়। তবে ইরাকের ভেতরে ইরানের প্রভাব রাতারাতি শেষ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ইরাকের অর্থনীতি মূলত তেল আয়ের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ এই আয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা চাপ ইরাকের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় তেল পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, নতুন জ্বালানি প্রকল্প এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন। এসব উদ্যোগ ইরাকের ইরাননির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
একই সঙ্গে তার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও আলোচনায় এসেছে। বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমর্থকেরা এটিকে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বড় বাধা
সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ইরানসমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণ করা। জাইদি সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব গোষ্ঠীর অস্ত্র ত্যাগের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন।
কিছু সংগঠন অস্ত্র জমা দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও কঠোর অবস্থানে থাকা গোষ্ঠীগুলো এখনো তা মানতে রাজি নয়। ইরানের জন্য ইরাকের এই মিত্র গোষ্ঠীগুলো আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইরাকের মানুষের মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ
ইরাকের সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। একসময় ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা গেলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের পর অনেকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব বেড়েছে।
অনেক ইরাকি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করে, আর ইরান ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে প্রভাব ধরে রেখেছে।
সামনে কঠিন পরীক্ষা
আলী আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ধরে রাখতে চান, আবার দেশের ভেতরের শক্তিশালী ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও ভারসাম্য রাখতে হবে। এই দুই পক্ষের চাপ সামলে তিনি কতটা সফল হন, সেটিই এখন ইরাকের রাজনীতির বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















