০৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ: ট্রাম্পের নীতিতে ভুলের পর ভুল বাংলাদেশে কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, স্থগিতাদেশ সেপ্টেম্বরের পরও বহাল প্রিমিয়াম ক্রীড়াপোশাকের বাজারে নতুন অস্ট্রেলীয় ব্র্যান্ডের চ্যালেঞ্জ পিরোজপুরে ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি, এক দিনে ৩৬ ভর্তি ও নারীর মৃত্যু সুন্দরবনে ৩ মাস পর পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশ, জীববৈচিত্র্যে মিলেছে স্বস্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল দেড় শতকের পথে দানাং বন্দর, ১২৫ বছরে স্মার্ট সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তর ইনফ্লুয়েন্সার বাছাইয়ে বদলে যাচ্ছে ব্র্যান্ডের কৌশল মুখের যত্নেও বিলাসী সৌন্দর্যের যুগ, ডাইসনের প্রথম টুথব্রাশে নতুন ইঙ্গিত মায়ের পেনশন পেতে ঘুষের দাবি, প্রতিবাদে কিশোরের ‘ঘুষ’ ওয়েবসাইট—৯ দিনে অভিযোগ প্রায় ১০ হাজার

সুন্দরবনে ৩ মাস পর পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশ, জীববৈচিত্র্যে মিলেছে স্বস্তি

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার আবারও পর্যটক, জেলে ও সুন্দরবননির্ভর মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। মাছের প্রজনন ও বনটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্ষা মৌসুমে আরোপ করা এই বার্ষিক নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে সুন্দরবনসংলগ্ন নদীবন্দর ও জেলেপল্লিগুলোতে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম ও উপজেলার জেলে এবং বননির্ভর মানুষ বৈধ পাস ও পারমিট নিয়ে বনে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। নদীর ঘাটগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। কেউ ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, কেউ পুরোনো নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছেন। মাছ ধরার ট্রলারগুলোর ইঞ্জিন পরীক্ষা করার পাশাপাশি কাঁকড়া ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় সুন্দরবননির্ভর হাজারো পরিবার বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবন চালিয়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার ঋণের চাপেও পড়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় মাছ ও কাঁকড়া আহরণসহ বনভিত্তিক অন্যান্য কাজে ফিরতে পারাকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন তারা।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দুয়ার খুলছে সুন্দরবন,আতঙ্ক নিয়েই জীবিকায় নামছে  জেলেরা,বনের গহীনে তৎপর অসাধু চক্র, অপহরণকারীরা - দৈনিক সমাধান

তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কাজে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেও বননির্ভর মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আশঙ্কা তাদের ভাবিয়ে তুলছে।

বননির্ভর মানুষের দাবি, সুন্দরবনের ওপর জীবিকা নির্বাহকারী মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি নিবন্ধিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে আয় বন্ধ থাকার প্রভাবও আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ওপর পড়েছে।

পর্যটনেও ফিরছে গতি

সুন্দরবন দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হওয়ায় পর্যটকবাহী জাহাজ ও লঞ্চ চলাচল শুরুর প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ, পর্যটনসহ বনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবার গতি ফেরার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনে ৩ মাস মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ

খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হাসানুর রহমান বলেন, তিন মাসের বন্ধের সময়টি সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ সময়ে মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকায় বনের গাছপালা ও উদ্ভিদসম্ভার বেড়েছে। একই সঙ্গে হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী ও পাখির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

বন বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদী ও খালগুলোতে মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।

রাজস্ব আয় কমেছে

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মোট ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৮১ হাজার ২৯১ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয় ছিল ৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৪ টাকা ৯৭ পয়সা।

নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে প্রবেশ এখন থেকে পাস ও পারমিট ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এর মাধ্যমে একদিকে বননির্ভর মানুষের জীবিকা আবার সচল হবে, অন্যদিকে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও অব্যাহত রাখবে কর্তৃপক্ষ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ: ট্রাম্পের নীতিতে ভুলের পর ভুল

সুন্দরবনে ৩ মাস পর পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশ, জীববৈচিত্র্যে মিলেছে স্বস্তি

০২:২২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার আবারও পর্যটক, জেলে ও সুন্দরবননির্ভর মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। মাছের প্রজনন ও বনটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্ষা মৌসুমে আরোপ করা এই বার্ষিক নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে সুন্দরবনসংলগ্ন নদীবন্দর ও জেলেপল্লিগুলোতে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম ও উপজেলার জেলে এবং বননির্ভর মানুষ বৈধ পাস ও পারমিট নিয়ে বনে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। নদীর ঘাটগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। কেউ ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, কেউ পুরোনো নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছেন। মাছ ধরার ট্রলারগুলোর ইঞ্জিন পরীক্ষা করার পাশাপাশি কাঁকড়া ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় সুন্দরবননির্ভর হাজারো পরিবার বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবন চালিয়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার ঋণের চাপেও পড়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় মাছ ও কাঁকড়া আহরণসহ বনভিত্তিক অন্যান্য কাজে ফিরতে পারাকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন তারা।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দুয়ার খুলছে সুন্দরবন,আতঙ্ক নিয়েই জীবিকায় নামছে  জেলেরা,বনের গহীনে তৎপর অসাধু চক্র, অপহরণকারীরা - দৈনিক সমাধান

তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কাজে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেও বননির্ভর মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আশঙ্কা তাদের ভাবিয়ে তুলছে।

বননির্ভর মানুষের দাবি, সুন্দরবনের ওপর জীবিকা নির্বাহকারী মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি নিবন্ধিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে আয় বন্ধ থাকার প্রভাবও আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ওপর পড়েছে।

পর্যটনেও ফিরছে গতি

সুন্দরবন দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হওয়ায় পর্যটকবাহী জাহাজ ও লঞ্চ চলাচল শুরুর প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ, পর্যটনসহ বনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবার গতি ফেরার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনে ৩ মাস মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ

খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হাসানুর রহমান বলেন, তিন মাসের বন্ধের সময়টি সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ সময়ে মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকায় বনের গাছপালা ও উদ্ভিদসম্ভার বেড়েছে। একই সঙ্গে হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী ও পাখির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

বন বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদী ও খালগুলোতে মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।

রাজস্ব আয় কমেছে

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মোট ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৮১ হাজার ২৯১ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই আয় ছিল ৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৪ টাকা ৯৭ পয়সা।

নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে প্রবেশ এখন থেকে পাস ও পারমিট ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এর মাধ্যমে একদিকে বননির্ভর মানুষের জীবিকা আবার সচল হবে, অন্যদিকে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও অব্যাহত রাখবে কর্তৃপক্ষ।